Home /News /national /
Modi@8: সাধ্যের মধ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবার পথে এগিয়েছে ভারত

Modi@8: সাধ্যের মধ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবার পথে এগিয়েছে ভারত

কোভিড টিকাকরণে বড় সাফল্য ভারতের৷ Photo-PTI

কোভিড টিকাকরণে বড় সাফল্য ভারতের৷ Photo-PTI

  • Share this:

    #কলকাতা: কোনও সরকার কতটা ভাল কাজ করছে, তা কঠিন সময়েই প্রমাণিত হয়৷ বিশেষত, বিশ্ব জোড়া কোনও স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময়ও পরিস্থিতি সামাল যে কোনও সরকারের কাছেই বড় পরীক্ষা৷

    করোনা অতিমারি একদিকে যেমন আমাদের দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পরীক্ষা নিয়েছে, সেরকমই এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সরকার কীভাবে সামাল দিয়েছে, তাও দেখা গিয়েছে৷

    অতিমারির প্রথম কয়েকটা মাস যে অত্যন্ত কঠিন ছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ কিন্তু তার পর এমন একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিিট নাগরিক সাধ্যের মধ্যেই বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন৷

    আরও পড়ুন: নজির গড়লেন গীতাঞ্জলি শ্রী, এই প্রথম হিন্দিতে লেখা কোনও উপন্যাস পেল বুকার সম্মান

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গত এক বছরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কী কী ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার-

    • করোনা অতিমারি আচমকাই আমাদের দেশে আঘাত হেনেছিল৷ কিন্তু সরকারি এবং বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পরীক্ষা, জেনোম সিকোয়েন্সিং সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়৷ পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে প্রচার চালানো হয়৷ এর পাশাপাশি আপতকালীন পরিস্থিতিতে কোভিড কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা, হাসপাতালে চিকিৎসার পরিকাঠামো উন্নত করা, অক্সিজেন, আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ একই সঙ্গে দ্রুত গতিতে টিকাকরণের উপরেও জোর দেওয়া হয়৷ যোগ্য প্রত্যেক নাগরিককে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ভারত৷ এই কারণে বিশ্বের ভ্যাকসিন ক্যাপিটাল হিসেবে ভারতকে চিহ্নিত করা যায়৷ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই সাফল্যের জন্য সরকারের অবশ্যই কৃতিত্ব প্রাপ্য৷
    • করোনা অতিমারির জন্যই ভারতে ডিজিটাল চিকিৎসা পরিষেবার দ্রুত বিস্তার ঘটেছে৷ টেলি- হেলথ, টেলি- মেডিসিনের মতো বিভিন্ন পরিষেবার মাধ্যমে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়েছে৷ যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বেঁচেছে৷ শুধুমাত্র বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ মিশন একটি দুর্দান্ত পদক্ষেপ৷
    • আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা ছিল, দেশের সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশকেই স্বাস্থ্য বিমার অধীনে না আনতে পারা৷ যে কারণে চিকিৎসার বিপুল বহু মানুষকে দারিদ্রের দিকে ঠেলে দেয়৷ সেই কারণেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প বহুচর্চিত আয়ুষ্মান ভারত-এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে৷ এই পরিষেবাকে আমেরিকা বা যুক্তরাজ্যের এনএইচএস পরিষেবার সমতুল্য করে তুলতে আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে৷ কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে সাড়া দেওয়া উচিত, আমাদের দেশের ডায়াগনস্টিক ক্ষেত্র, ওষুধ শিল্প এবং ভ্যাকসিন নির্মাতারা তা প্রমাণ করেছে৷ এই অতিমারির সময়ে একাধিক সরকারি- বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
    • ব্রিকস সদস্যভুক্ত অধিকাংশ দেশই নিজেদের জিডিপি-র ৪ থেকে ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যয় করত৷ ভারতে সেখানে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমাণ ২ শতাংশের মতো৷ যদিও করোনা অতিমারির জেরে গত বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বরাদ্দ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে৷ যা ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ৷
    • দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলাও সরকারের আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য৷
    • শয্যা, ওষুধ, ভ্যাকসিন বা অর্থের যাতে ঘাটতি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতেও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে৷
    • ২০২৫ সালের মধ্যে টিবি মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়াও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ৷

    যে ক্ষেত্রগুলিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন-

    • দেশের কিছু অংশে এখনও সদ্যোজাত এবং গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক৷ যা নির্মূল করতে প্রাথমিক স্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করা প্রয়োজন৷
    • জীবনযাত্রার মানের কারণে যে রোগগুলি হয়, বিশেষত লাইফস্টাইল ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা গোটা দেশজুড়েই বাড়ছে৷ যে সমস্যায় সাধারণ উন্নত দেশগুলির বাসিন্দারা ভোগেন৷ এই প্রবণতা রোধে দেশজুড়ে ওয়েলনেস সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন৷
    • অবিলম্বে পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে, যা বিভিন্ন গুরুতর রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ তা না হলে আমরা নিশ্চিত ভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবো৷
    • দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পিছিয়ে রয়েছে৷ যার ফলে গরিব এবং নিম্নবিত্ত মানুষ উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন৷ চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে সমতা আনতে এই দিকে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন৷
    • ভারত থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পেশাদাররা তৈরি হচ্ছেন৷ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছেন তাঁরা৷ কিন্তু মেডিক্যাল শিক্ষার যা খরচ, তা এখনও সমাজের একটা বড় অংশের সাধ্যের বাইরে৷ এই সমস্যা দূর করতে গ্রামাঞ্চলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি এবং মেডিক্যাল পাঠক্রমের খরচে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন৷
    • মনে রাখতে হবে, দারিদ্র উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার পথে সবথেকে বড় প্রতিবন্ধকতা৷ ফলে নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে গেলে দারিদ্র নির্মূল করা সবার আগে প্রয়োজন৷

    Dr. H Sudarshan Ballal

    (লেখক মণিপাল হসপিটালস-এর চেয়ারম্যনা৷ মতামত তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত৷)

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    Tags: Narendra Modi

    পরবর্তী খবর