• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • ১২ বছরের বিবাহিত জীবনে ইতি, বাল্যবিবাহ ও পরবর্তী অত্যাচারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ তরুণী!

১২ বছরের বিবাহিত জীবনে ইতি, বাল্যবিবাহ ও পরবর্তী অত্যাচারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ তরুণী!

india girl knocks at court door after tolerating torture of child marriage for 12 yrs, Representational Image

india girl knocks at court door after tolerating torture of child marriage for 12 yrs, Representational Image

নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। ঐতিহাসিক এক রায়ের ক্ষেত্র হতে চলেছে রাজস্থান। বাল্যবিবাহ ও তার পরবর্তী অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক তরুণী গৃহবধূ।

  • Share this:

#জয়পুর: নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। ঐতিহাসিক এক রায়ের ক্ষেত্র হতে চলেছে রাজস্থান। বাল্যবিবাহ ও তার পরবর্তী অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক তরুণী গৃহবধূ। নিজের বিয়ে রদ করার জন্য তিনি আবেদন দাখিল করেছেন। জানিয়েছেন যে এই বিয়ে তিনি মানেন না। তরুণীর বক্তব্য, দীর্ঘ ১২ বছরের বিবাহিত জীবনে তাঁকে যে পরিমাণ অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা অবর্ণনীয়।

১৮ বছরের ওই তরুণী গৃহবধূর নাম মানসী গুর্জর (Mansi Gurjar)। রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার পালাদি গ্রামের বাসিন্দা। ওই গ্রামেরই পারিবারিক আদালতে তিনি তাঁর বাল্যবিবাহ বন্ধের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে যোধপুরের সারথি ট্রাস্টের (Sarathi Trust) ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও রিহ্যাবিলেশন সাইকোলিজস্ট ডাক্তার কৃতী ভারতীর (Kriti Bharati) কাছে এই ইস্যুতে সাহায্যও চেয়েছেন মানসী। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে মুখর হওয়া ওই সমাজসেবী ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের তরুণী গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কৃতী ভারতীর পরামর্শেই তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন মানসী।

মানসী জানিয়েছেন, ১২ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালে রাজস্থানের বানেরা তেহসিলের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে জোর করে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। মাত্র সাত বছর বয়সে কোনও বাড়ির বউ হওয়ার অভিজ্ঞতা যে কতটা খারাপ হতে পারে, তা তিনি অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন মানসী। অভিযোগ করেছেন যে গত ১২ বছরে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। একাধারে পনেরো জন মিলে তাঁর পরিবারের উপরে বিপুল চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও আদালতে জানিয়েছেন মানসী। তিনি ও তাঁর পরিবার এই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় পঞ্চায়েত তাঁদের একঘরে করে দেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন ১৮ বছরের তরুণী গৃহবধূ।

শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মানসী গুর্জর। তিনি এ ব্যাপারে যোধপুরের সারথি ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও রিহ্যাবিলেশন সাইকোলিজস্ট ডাক্তার কৃতী ভারতীর সঙ্গে কথা বলেন। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ওই সমাজসেবীর কথাতেই তিনি ভিলওয়ারার পারিবারিক আদালতে নিজের শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে আদালতে নিজের বিবাহ রদের আর্জিও জানিয়েছেন মানসী।

১৮ বছরের তরুণী গৃহবধূর মামলা গ্রহণ করেছেন ভিলওয়ারার পারিবারিক আদালতের বিচারক মুকেশ ভার্গব (Mukesh Bhargava)। তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ভাবে তিনিও যে বাল্যবিবাহের বিপক্ষে, তাও জানাতে ভোলেননি বিচারক ভার্গব।

Published by:Subhapam Saha
First published: