বিশ্বে সর্বাধিক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কিনছে ভারত

বিশ্বে সর্বাধিক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কিনছে ভারত

তথ্য বলছে, দেড় বিলিয়নেরও বেশি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ডোজ কিনেছে ভারত। বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই সংখ্যা অন্য সব দেশের থেকে বেশি।

তথ্য বলছে, দেড় বিলিয়নেরও বেশি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ডোজ কিনেছে ভারত। বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই সংখ্যা অন্য সব দেশের থেকে বেশি।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: তথ্য বলছে, দেড় বিলিয়নেরও বেশি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ডোজ কিনেছে ভারত। বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই সংখ্যা অন্য সব দেশের থেকে বেশি।

    আমেরিকার ডিউক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশন সেন্টার বলছে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটের ৫০০ মিলিয়ন ডোজ, আমেরিকান কোম্পানি নোভাভ্যাক্স-এর ভ্যাকসিনের এক বিলিয়ন ডোজ এবং রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট স্পুটনিক ভি-এর ১০০ মিলিয়ন ডোজ কিনেছে ভারত।

    ভারতের মতো অপেক্ষাকৃত কম আয়ের দেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের ডোজ কিনেছে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের থেকে বেশি। এমনকি গোটা ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলি মিলিয়ে ভ্যাকসিন ডোজের পরিমাণ যা, ভারত কিনেছে তার থেকেও বেশি।

    ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফ থেকে ১.৫৮ বিলিয়ন ভ্যাকসিনের ডোজ প্রি-বুক করা হয়েছিল। অন্যদিকে আমেরিকা নিয়েছে ১.০১ বিলিয়ন ডোজ। ডিউক রিপোর্ট বলছে, “ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দেশগুলি তাঁদের সমগ্র দেশবাসীর টিকাকরণ করতে সমর্থ। এর মধ্যে কিছু দেশ আছে যারা কম আয়ের দেশগুলির এক বিলিয়ন দেশবাসীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে, পুরো জনসংখ্যাকে বহু বার ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।” ভারতের ১.৬ বিলিয়ন ডোজ দিয়ে টিকাকরন সম্ভব হবে ৮০০ মিলিয়ন মানুষের, যা এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬০ শতাংশ। গত নভেম্বরে, এদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছিলেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১-এর জুলাই-অগাস্ট মাসের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিনের ৪০০-৫০০ মিলিয়ন ডোজ কেনা হবে ২৫০-৩০০ মিলিয়ন দেশবাসীর জন্য।

    ডিউক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ধনী দেশগুলি ভ্যাকসিনের গবেষণা এবং তৈরির কাজের জন্য পাবলিক ফান্ডের বিনিয়োগ করে, নিজেদের ভ্যাকসিন কেনার কাজ সহজ করে নিয়েছে।

    অন্যদিকে ভারতের মতো অপেক্ষাকৃত কম আয়ের দেশ ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে চলে এসেছে এদেশের বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে।

    এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে ভারতে। গোটা বিশ্বে যত ভ্যাকসিন সরবরাহ হচ্ছে, তার ৬০শতাংশ তৈরি হচ্ছে এদেশে। এছাড়াও, এদেশে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক সংস্থা, পুণের সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া।

    ভারত যে তিনটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট কিনছে, তার মধ্যে দুটি, অর্থাৎ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিন তৈরি করছে সিরাম। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার স্পুটনিক ভ্যাকসিনও তৈরি হচ্ছে হায়দরাবাদের ডাঃ রেড্ডি’জ ল্যাবে।

    তবে শুধু ভ্যাকসিন উৎপাদনই নয়, গবেষণার কাজও চলছে দেশে। দুটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।

    পিটিআই সূত্রে খবর মিলেছে, ভাইরোলজিস্ট শাহিদ জামিল বলেছেন, হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এবং গুজরাতের জাইডাস বছরে ৪০০ মিলিয়ন টিকার ডোজ তৈরি করতে পারবে।

    Written By : Antara Dey

    Published by:Akash Misra
    First published: