corona virus btn
corona virus btn
Loading

গুজরাতে গত ২২ বছরে এটাই বিজেপির সবথেকে খারাপ ফল

গুজরাতে গত ২২ বছরে এটাই বিজেপির সবথেকে খারাপ ফল
Modi and Rahul

গুজরাতে গত ২২ বছরে এটাই সবথেকে খারাপ ফল বিজেপির

  • Share this:

#আমেদাবাদ: ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ষষ্ঠবারের জন্য গুজরাতে ফের নিরঙ্কুশভাবে সরকার গড়ল বিজেপি ৷ কিন্তু এই জয়ই গেরুয়া শিবিরে বয়ে আনল সতর্কবাণী ৷ খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যেই কংগ্রেসের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কষ্ট করেই ম্যাজিক ফিগার পেল বিজেপি। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের দেওয়া টার্গেট ১৫০-এর বহু দূরেই থামল পদ্মের রথ ৷ পরিসংখ্যান বলছে গত ২২ বছরে গুজরাত বিধানসভায় এটাই বিজেপির সবচেয়ে খারাপ ফল ৷

১৮২ আসনের বিধানসভায় বিজেপির দখলে নব্বইয়ের বেশি আসন। তবে জোর টক্কর দিয়ে ম্যাজিক সংখ্যা থেকে সামান্য কিছু আসন দূরে থামল কংগ্রেসও। সোমবার গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস ও বিজেপির টানটান লড়াই শুরু হয়। সংখ্যার বিচারে একসময় গেরুয়াশিবিরের টুঁটি চেপে ধরে হাতশিবির। গণনার শেষ পর্যায়েও সেই টানটান উত্তেজনা বজায় রইল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচন মোদির রাজ্যে। কিন্তু, গত বাইশ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল করল বিজেপি। জোর ধাক্কা খেল মোদির গুজরাত মডেলও।

রাজ্যের কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্র এলাকায় একচেটিয়া ভাবে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। সেখানে বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে পতিদার ও প্যাটেল সম্প্রদায়ের ভোট। তবে, গুজরাত নির্বাচনকে সামনে রেখে জিএসটি রেট কমানোর সুফল পেয়েছেন মোদি। সুরাতের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টিই গেরুয়াশিবিরের দখলে। বিজেপির মান বাঁচিয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ গুজরাত।

১৯৯৫ সালে গুজরাতে প্রথম সরকারে আসে বিজেপি ৷ সেবার গেরুয়া শিবিরের দখলে ছিল ১২১টি আসন ৷ অন্যদিকে সেবার মাত্র ৪৫টি আসনেই জয় পায় কংগ্রেস ৷ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৯৮-এও ১১৭টি আসনে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখে বিজেপি ৷ আগেরবারের থেকে ভাল ফল করে ৫৩টি আসন নিজেদের দখলে আনে হাত শিবির ৷ এরপর ২০০২ সালেও গেরুয়া ঝড়ে গুজরাতে বিজেপি সব থেকে ভাল ফল করে ৷ একপেশে লড়াইয়ে মাথা তুলতেই পারেনি কংগ্রেস ৷ বিজেপির জেতা ১২৭ টি আসনের মোকাবিলায় কংগ্রেসের দৌড় থেমে যায় মাত্র ৫১তেই ৷ ২০০৭ সালে গুজরাতের দ্বাদশতম বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির দখল করে ১১৭টি আসন কংগ্রেস পায় ৫৯টি ৷

শেষ পাঁচটি বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান শেষ পাঁচটি বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান

গতবার ১৮২টি আসনের মধ্যে ১১৫টি আসন শেষ পর্যন্ত পায় বিজেপি। কংগ্রেসের হাতে ছিল ৬১ আসন। কিন্তু এবার সেই হিসেব উল্টে দিয়েছে হাতশিবির। গেরুয়াশিবিরের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেসের উত্থান। রাহুলের মাষ্টার স্ট্রোকে জিগ্নেশ, অল্পেশ ও হার্দিক ম্যাজিকেই গুজরাতে খানিকটা হলেও ধাক্কা খেল বিজেপি ৷ শেষ পাঁচ বিধানসভা ফলের তুলনায় এটাই বিজেপির সবথেকে খারাপ রেজাল্টা ৷

ভাইব্র্যান্ট গুজরাতের ঢক্কানিনাদের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা গ্রামীণ গুজরাতের উন্নয়নই ভোটের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সেইসঙ্গে জোরদার হয় পতিদার ও প্যাটেলদের সংরক্ষণের আন্দোলনও। সব ফ্যাক্টরকে একসূত্রে গেঁথে বিজেপি বিরোধিতায় নামেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি।

পরিস্থিতি আঁচ করে গড় রক্ষা করতে নিজেই নামেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকী অমিত শাহকেও ভোটপ্রচারের ময়দানে ততটা দেখা যায়নি। কংগ্রেসকে রুখতে শেষপর্যন্ত জাতীয়তাবাদের প্রশ্নেও ঘা দিতে হয় তাঁকে। ভোটে জিততে কংগ্রেস পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। নিজের ক্যারিশমায় মোদি গুজরাতের ধস অনেকটা রক্ষা করতে পেরেছেন বটে। কিন্তু, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে, গুজরাতের বিধানসভা ভোটের ফল বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে গেল।

First published: December 18, 2017, 4:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर