দেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

২০০৮ থেকে নির্ভুল পূর্বাভাস, ভারতের 'সাইক্লোন ম্যান' মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র

২০০৮ থেকে নির্ভুল পূর্বাভাস, ভারতের 'সাইক্লোন ম্যান' মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র
সাইক্লোন ম্যান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র৷ PHOTO- FILE

এবারেও অনেক আগে থাকতেই আমফানের সতর্কতা জারি করে দিয়েছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতর৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: প্রায় ২৭ বছর ধরে আবহবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন তিনি৷ ফাইলিন, হুদহুদ, তিতলি, মেকুনু, ফণি- ২০০৮ সাল থেকে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাঁকে৷ আর সেই কারণেই ভারতের 'সাইক্লোন ম্যান' হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র৷ বর্তমানে তিনি ভারতীয় আবহবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান৷

গত বছরের মে মাসে ওড়িশায় আছড়ে পড়েছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণি৷ অনেক থেকে সেই ঘূর্ণিঝড় এবং তাঁর সম্ভাব্য গতিপথের পূর্বাভাস অংসখ্য প্রাণহানি রুখতে সাহায্য করেছিল৷ সেই কৃতিত্বও দেওয়া হয় মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র এবং তাঁর টিম-কে৷ যার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতর৷ ২০০৮ সাল থেকে এভাবে এভাবেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখা৷ যার শীর্ষ পদে ছিলেন এই মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র৷ যে কারণে ক্রান্তীয় এলাকার যে তেরোটি দেশ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে, তাদের মধ্যেও বিশেষ সমীহ আদায় করে নিয়েছে ভারত৷

১৯৯২ সালে পুণের আবহ দফতর থেকে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র৷ ওড়িশার বালাসোরে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনেও বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন তিনি৷ ২০০৮ সাল থেকে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান শাখার আঞ্চিলক বিশেষজ্ঞ শাখার প্রধান হিসেবে কাজ কাজ শুরু করেন তিনি৷ ২০১৯ সালে অগাস্ট মাস থেকে পাঁচ বছরের জন্য ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মৃত্যুঞ্জয়৷

এবারেও অনেক আগে থাকতেই আমফানের সতর্কতা জারি করে দিয়েছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতর৷ ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়তে পারে, তার সম্ভাব্য গতিবেগ কত হবে, সময় ধরে ধরে তার আপডেট দেওয়া হচ্ছে৷ নির্ভুল পূর্বাভাসের জন্য অবশ্য উন্নত প্রযুক্তিকেই অনেকটা কৃতিত্ব দিচ্ছেন ভারতের সাইক্লোন ম্যান৷ তিনি জানাচ্ছেন, ২০০৭ সালের আগে ভারতীয় আবহবিদদের পক্ষেও ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হত না৷ কিন্তু আধুনিকীকরণের পর ২০০৯ সাল থেকে অনেকটাই নির্ভুল এবং বিস্তারিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে৷

মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রের কথায়, 'ভারতীয় আবহ বিজ্ঞান দফতরের কাছে ফণি ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস ছিল টার্নিং পয়েন্ট৷ বিভিন্ন এজেন্সি দাবি করেছিল, ফণির গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৩৪০ কিলোমিটার৷ কিন্তু আমরা বলেছিলাম ফণির গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হবে না৷ বাস্তবে হয়েওছিল তাই৷' এই সঠিক পূর্বাভাসের কারণেই ভারতে শেষ ১৪ বছরে সবথেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম করা সম্ভব হয়েছিল৷

বর্তমানে ভারতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থায় আরও পেশাদারিত্ব এসেছে৷ এখন প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে বুলেটিন দেয় ভারতীয় আবহ বিজ্ঞান দফতর৷ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার অন্তত পাঁচ দিন আগে তার পূর্বাভাস দেওয়া হয়৷ ফলে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও অনেকটাই সহজ হয়৷

ভারতীয় আবহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বিশ্ব আবহ বিজ্ঞান সংগঠন বা WMO-তে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন৷ ২০১৩ সালে WMO-এর এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও তিনি নির্বাচিত হন৷

 
Published by: Debamoy Ghosh
First published: May 18, 2020, 11:55 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर