corona virus btn
corona virus btn
Loading

নতুন কৃষি বিল নিয়ে কেন অসন্তুষ্ট কৃষকরা?‌ বিজেপি কেন হারাচ্ছে জোট সঙ্গী, হাতে ইস্যু পেল বিরোধীরা

নতুন কৃষি বিল নিয়ে কেন অসন্তুষ্ট কৃষকরা?‌ বিজেপি কেন হারাচ্ছে জোট সঙ্গী, হাতে ইস্যু পেল বিরোধীরা
Photo Courtesy: PTI

তিনটি বিল নিয়েই শুরু হয়েছে কৃষক বিক্ষোভ ৷

  • Share this:

#চণ্ডীগড়: কৃষক ‘বিরোধী’ আইন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার ৷ এই অভিযোগে আচমকাই নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পঞ্জাবের শিরোমণি অকালি দলের নেত্রী হরসিমরত কউর বাদল। ইস্তফা দেওয়ার পর ট্যুইট করে হরসিমরত জানান, কৃষক ‘ভাইবোনদের’ স্বার্থেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।

তবে যে বিষয়টি উল্লেখ্য, সেটা হল নতুন কৃষি বিলগুলি যে মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাশ হয়েছিল, সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন হরসিমরত নিজেও। কিন্তু এখন দলের কৃষক-কর্মী সমর্থকদের চাপে, আচমকাই সুর বদল করতে বাধ্য হল এনডিএ-র অন্যতম শরিক শিরোমণি অকালি দল।

হরসিমরত কউর বাদল হরসিমরত কউর বাদল

তিনটি বিল নিয়েই শুরু হয়েছে কৃষক বিক্ষোভ ৷ পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে কৃষক বিক্ষোভ চলছে ৷ ফার্মার্স ট্রেড অ্যান্ড কমার্স বিল নিয়ে ক্ষোভ যেমন রয়েছে, তেমনি প্রাইস প্রোটেকশন অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিস বিল নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ৷ মঙ্গলবার বিলের বিপক্ষে ভোট শিরোমনি অকালি সাংসদের ৷ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ( সংশোধনী) বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন তিনি ৷ ৩ বিল কৃষক স্বার্থ বিরোধী, দাবি সুখবীর সিং বাদলের ৷ সংসদে আলোচনা চলার সময় ৩ বিলে সমর্থনের কথা জানায় শিরোমনি অকালি দল ৷  ২০২২-এ পঞ্জাবে বিধানসভা ভোট ৷ ভোটের দিকে তাকিয়েই কি তাহলে মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা ? এই নিয়ে চর্চা চলছেই ৷

পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলের পুত্রবধূ হরসিমরতই ছিলেন ওই রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। হরসিমরত কউর বাদল তাঁর ইস্তফা পত্রে লিখেছেন যে যারা কৃষক তাদের সঙ্গে কথা না বলেই এই সব বিল নিয়ে এসেছে কেন্দ্র। তিনি এই সম্পর্কে আপত্তি করলেও সেগুলি শোনা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এই তিনটি বিল হল-

Farmers' Produce Trade and Commerce (Promotion and Facilitation) Bill, 2020 Farmers (Empowerment and Protection) Agreement on Price Assurance and Farm Services Bill, 2020 Essential Commodities (Amendment) Bill

কৃষিক্ষেত্রে ফসল বিক্রি এবং কৃষিপণ্যের বাজারে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে অনেক আগেই তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল কেন্দ্র৷ সেখানে বেসরকারি সংস্থার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে৷ এর ফলে বেসরকারি সংস্থা চাইলে সরকারি অনুমতি ছাড়াই নিজেদের মতো দামে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনতে পারবে৷ এখান থেকে কৃষকদের মনে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা৷ তাঁরা মনে করছে, বাজার থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ উঠে যাবে৷ সরকার ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে ফসল কেনা বন্ধ করে দেবে৷

কেন্দ্রের নয়া কৃষি বিল নিয়ে শুরু থেকে বিরোধ জানিয়ে আসছে কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ৷ তাদের মতে, ‘‘ যাঁরা বলছেন বিলটি কৃষকদের স্বার্থের জন্য আনা হয়েছে তাঁরা মিথ্যা কথা বলছেন৷ আমরা বেসরকারি পুঁজিপতিদের হাতের পুতুল হয়ে থাকব৷ প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ দয়া করে আমাদের কথা শুনুন৷ দেশের সব কৃষকদের উদ্দেশে বলতে চাই, তারা রাস্তায় নেমে বিলটির বিরোধিতা করুন৷’’

কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভয় এখন এটাই যে নতুন বিলের জন্য তাঁরা MSP অনুযায়ী তাঁদের ন্যায্য দাম পাবেন না ৷ আবার অন্যদিকে কমিশন এজেন্টরাও ভয়ে আছেন, তাঁরা এবার থেকে তাহলে কমিশন আদৌ পাবেন কী না ৷ পঞ্জাব এগ্রিকালচার বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী পঞ্জাবে ১২ লক্ষ কৃষক পরিবার এবং ২৮ হাজার কমিশন এজেন্ট রয়েছেন ৷ নতুন এই বিলগুলির জন্য রাজ্য নিজেও ৬ শতাংশ কমিশন হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ সবমিলিয়ে নতুন কৃষি বিল নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল দেশের কৃষক মহল ৷

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: September 18, 2020, 1:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर