corona virus btn
corona virus btn
Loading

১ টাকার কয়েন ব্যবহার করে অদ্ভুত কায়দায় চলন্ত ট্রেনে লুঠ

১ টাকার কয়েন ব্যবহার করে অদ্ভুত কায়দায় চলন্ত ট্রেনে লুঠ

এক টাকার কয়েনে সাহায্যে রাজধানীতে লুঠ চালালো দুষ্কৃতীরা ৷

  • Share this:

#পটনা: এক টাকার কয়েন। ভারতীয় রেলের কাছে ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কয়েন। এক টাকার কয়েনে সাহায্যে রাজধানীতে লুঠ চালালো দুষ্কৃতীরা ৷ গত রবিবার নয়াদিল্লি-পটনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ২০জন যাত্রীদের থেকে বহুমূল্যের জিনিস লুঠ করা হয় ৷

মাত্র  ১ টাকার কয়েন। মানিব্যাগে বা লক্ষীর ভাঁড়ে সাধারণভাবে যার নিরীহ উপস্থিতি। তবে ১ টাকার কয়েন এই মুহূর্তে মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় রেলের কাছে। এই ১ টাকার কয়েন দিয়েই রাজধানী এক্সপ্রেস থেকে লাখ টাকা লুট করল দুষ্কৃতীরা। একেবারে ফিল্মি কায়দায় দিল্লি-পাটনা রাজধানী এক্সপ্রেসে লুটপাট চালায় ৪ জন। এক টাকার কয়েন দিয়ে ট্রেনের সিগন্যাল লাল করে ট্রেন থামায় তারা। মুঘলসরাই ডিভিশনের গহমার ও ভাদিউরা স্টেশনের মাঝখানে ঘটে এই ঘটনা। কিন্তু কীভাবে ? ট্রেনের উপস্থিতি বোঝার জন্য রেল লাইনে ইলেকট্রিক সার্কিট থাকে এই ইলেকট্রিক সার্কিট ট্রেনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে

এর সঙ্গে থাকে ইন্টারলকিং ব্যবস্থা অটোমেটিক ও অবসিলিউট সিগন্যালিং সিস্টেম দুটি থাকে ট্রেন বিভিন্ন সেকশনে বদল করার জন্য ব্যবহার করা হয় এই সার্কিট এই সার্কিটগুলির মাঝে থাকে গ্লু-জয়েন্ট বা রাবার ইনসুলেটর এই রাবার ইনসুলেটর বিকৃত করা হয় এক টাকার কয়েন দিয়েই যার ফলে সার্কিট বিকৃত হয়ে সিগন্যাল লাল দেখায় প্রশ্ন উঠছে দুষ্কৃতীরা সিগন্যাল বিকৃত করছে। রেলের সুরক্ষার জন্য আর পি এফ ও জি আর পি থাকলেও তারা কি করছিল। কারণ সার্কিট পর্যন্ত পৌছে সেখানে তা বিকৃত করা হচ্ছে কিভাবে তা রেলকর্মীদের নজর এড়িয়ে গেল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। তাদের জেরা করে চলছে বাকিদের খোঁজ। তবে রেল কর্তাদের একাংশ দফতরের কোন কর্মীর জড়িয়ে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। অভিযুক্তদের নাম ফতেহ খান (২০), রাজা (১৯), ওমমপ্রকাশ শর্মা (১৯) ও চন্দন কুমার (২০)। বিহারের বক্সার জেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ জেরায় জানা গিয়েছে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এর আগেও মুঘলসরাই ডিভিশনে বেশ কয়েকটি ট্রেনে তারা লুটপাট চালিয়েছে ৷

মুঘলসরাই ডিভিশনে গাহমার আর ভাদাউরা স্টেশনের মধ্যে চলে ওই লুঠপাট। ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, ওয়ালেট, এটিএম কার্ড ও গয়না উদ্ধার করা হয়েছে ৷

পটনা রেলের এসপি জিতেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, জেরায় চলন্ত ট্রেনে চুরি করার একটি অদ্ভুত কায়দার কথা জানিয়েছেন ৷ এক টাকার কয়েনের সাহায্যে নাকি তারা এই লুটপাট চালাত ৷  লাইনের যোগস্থলে এক টাকার কয়েন ঢুকিয়ে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় গন্ডগোল করা হত ৷ রাবার ইনসুলেশন খুলে শর্টসার্কিট করে দেওয়া হত ট্র্যাকে ৷ সিগন্যালে জ্বলে উঠত লাল আলো  ৷ যা দেখে ড্রাইভার ট্রেন থামাতে বাধ্য হত ৷ আর এই সুযোগ ব্যবহার তারা ট্রেনে উঠে পড়ত ৷

ভেস্টিবিউল দিয়ে তারা প্রবেশ করত কামরায় ৷ এরপর একে একে কামরায় প্রবেশ করে যাত্রীদের সমস্ত জিনিস লুটপাট করা হত ৷

চুরি করা সোনার গয়না তারা বক্সার এক স্যাকরার কাছে ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করেছে ৷ সে আরও একজনকে গয়না গলানোর জন্য দিয়েছিল ৷ ঘটনায় তাদের দু’জন কেউ গ্রেফতার করা হয়েছে ৷

First published: April 16, 2017, 3:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर