কঠিন পরিস্থিতিতেও অবিচল, তাঁর মায়ের সাহস ও শক্তিই আজ ওনাকে অভিনন্দন বানিয়ে তুলেছে

কঠিন পরিস্থিতিতেও অবিচল, তাঁর মায়ের সাহস ও শক্তিই আজ ওনাকে অভিনন্দন বানিয়ে তুলেছে
  • Share this:

#চেন্নাই: বীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের দেশে ফিরে আসা নিয়ে উচ্ছসিত সারা দেশ । পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে অসম সাহসিকতা ও মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন সেই আলোচনায় মুখর দেশবাসী । আর দৃঢ়, শান্ত অভিনন্দনের পিছনে রয়েছে তাঁর পরিবারের অবদান।

অবসারপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন তরুণ কে সিং, বহুকাল ধরেই অভিনন্দনের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত আর তাঁর মতে অভিনন্দনের এহেন চরিত্রের পিছনে মূল অবদান তাঁর মা ডঃ শোভা বর্তমানেরই । শোভা দেবীও তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসক কর্মজীবনে প্রচুর যুদ্ধ ও আগ্রাসন পীড়িত এলাকায় কাজ করেছেন।

ক্যাপ্টেন সিং এর কথায় ব্যক্তিত্বময়ী ও একজন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার মানুষ শোভা দেবী । যুদ্ধ, হিংসা, আগ্রাসনের মত যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতেও অবিচলিতভাবে নিজের আহতদের ক্ষত সারাতেন তিনি; কঠোর পরিস্থিতিতেও একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের কর্তব্য করে গিয়েছেন তিনি । হাইতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও একাধিক সন্তান-সম্ভবা মহিলাদের নিরাপদে প্রসব করিয়েছেন তিনি। মানবতা ও কর্তব্যের মিশেলের এক পরিপূর্ণ বাস্তবায় ডঃ শোভা বর্তমান, News18 কে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন সিং।

শত্রুপক্ষের মাটিতে দাঁড়িয়েও নিজের মনোবল হারিয়ে ফেলেননি অভিনন্দন, ঠিক একইরকমভাবে যুদ্ধ-পীড়িত দেশগুলিতে দিনের পর দিন কাজ করে গিয়েছেন অভিনন্দনের মা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়েও একাধিক সমাজসেবামূলক কাজ করেন তিনি । হয়ত এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাজ করার কারণেই এহেন মনোবলের অধিকারিণী তিনি ।

২০০৫ সালের আইভরি কোস্টের যুদ্ধে একে-৪৭ ও ক্ষেপনাস্ত্রের পরোয়া করেননি শোভা দেবী । বিদ্রোহী ঘাঁটির ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে থেকেও কাজ করে গিয়েছেন তিনি ।

ইরাক যুদ্ধের সময় রীতিমত বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ করে গিয়েছেন তিনি। সেই সময় একমাত্র অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে সেখানে কাজ করতেন তিনি । নিরাপত্তার খাতিরে সেই সময় সকলকে ঘরের ভিতর থাকতে বলা হলেও নিজের প্রাণের ঝুঁকিকে অগ্রাহ্য করেই সেখানে নিজের কাজ করে গিয়েছেন তিনি ।

হাইতিতেও ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩লক্ষেরও বেশি মানুষ । সেই পরিস্থিতিতেও বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে অর্থোপেডিক ও শিশু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি ।

বীর পাইলটের বীর মাকে আমাদের কুর্ণিশ।

Story: Deepa Balakrishnan, Poornima Murali

First published: 08:15:13 PM Mar 01, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर