বিশ্বের সব চেয়ে বড় হিন্দু মন্দির, গুজরাতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আজকের দিনে!

ব্রিটিশ শাসন চলাকালীনই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত, এই মন্দিরের ইতিহাস বহুধা বিস্তৃত।

ব্রিটিশ শাসন চলাকালীনই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত, এই মন্দিরের ইতিহাস বহুধা বিস্তৃত।

  • Share this:

#গুজরাত: বিরাট জায়গা, অপূর্ব ভাষ্কর্য। পরিপূর্ণ ভারতীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের ধাঁচে তৈরি অক্ষরধাম মন্দির বা স্বামী নারায়ণ মন্দির। ভারতে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় গুজরাতে। আজ দেশের অনেক শহরেই এই মন্দির রয়েছে। অপূর্ব কারুকার্য, চোখ ধাঁধানো শিল্পকলা ও দুর্দান্ত পরিবেশের জন্য নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের।

১৮২২ সালে এই মন্দির প্রথম তৈরি হয় গুজরাতের আহমেদাবাদে। ব্রিটিশ শাসন চলাকালীনই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত, এই মন্দিরের ইতিহাস বহুধা বিস্তৃত। দিল্লিতে ১০০ একর জমির উপরে অবস্থিত অক্ষরধাম মন্দিরটি বিশ্বের সব চেয়ে বড় হিন্দু মন্দির হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম তুলে নিয়েছে।

এই মন্দিরে স্বামী নারায়ণের পুজো করা হয়। এই স্বামী নারায়ণ ১৭৮১ সালে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাম নবমীর দিনে জন্মগ্রহণ করায় প্রথম থেকেই তাঁকে বিশেষ ভাবতেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বিভিন্ন মন্ত্র পড়তে ও লিখতে শুরু করেন। ধর্ম ও শাস্ত্র নিয়ে খুব অল্প বয়সেই পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। তার পরই বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঠাঁই নেন গুজরাতে। সেখানেই নিজের কাজের জন্য ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকেন তিনি। সেখানকার মানুষ তাঁকে নীলকণ্ঠ বলে ডাকতে শুরু করেন।

তিনি এতটাই সুবক্তা ছিলেন যে খোদ ব্রিটিশরা মন্দির বানানোর জন্য তাঁকে জমি দান করে। এই মন্দির বানানো ছিল তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন ও প্রয়াস। তাঁর অনুগামী আনন্দনন্দন স্বামীর তত্ত্বাবধানে এই মন্দির তৈরি হয়।

দুর্দান্ত শিল্পকলা ও ভাষ্কর্যের জন্য বিখ্যাত এই মন্দির। যার প্রতিফলন রয়েছে গুজরাতের অন্য মন্দিরেও। সেই সময়েই এই অপরূপ সুন্দর স্থাপত্যের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী নারায়ণ। মন্দিরের বিভিন্ন জায়গা বিভিন্ন কাজের জন্য বা বিভিন্ন মানুষের জন্য বরাদ্দ। যেমন মন্দিরে মহিলাদের জন্য একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। সেখানে মহিলারা হিন্দু শাস্ত্র পড়া থেকে পুজো-অর্চনা সব করতে পারেন। পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গাও রয়েছে।

দিল্লির মন্দিরটি সব চেয়ে বড়। এই মন্দিরের মূল অংশটি প্রায় ১৪১ ফুট উচু, ৩১৬ ফুট চওড়া ও ৩৫৬ ফুট লম্বা। মন্দিরের মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি স্তম্ভ, ৯টি বিশাল গম্বুজ ও ২০,০০০ মূর্তি ও হিন্দু দেব-দেবী, সাধু-আচার্যদের স্থাপত্য। গোটা মন্দিরটি রাজস্তানের গোলাপি বেলেপাথর ও ইতালির কারারা মার্বেল দিয়ে তৈরি হয়েছে। মন্দির তৈরিতে স্টিল বা কংক্রিট ব্যবহার হয়নি। হিন্দু সংস্কৃতি ও ভারতের ইতিহাসকে মিলিয়ে মন্দিরের বহু অংশে হাতির স্থাপত্য বানানো হয়েছে। প্রতিটি হাতির স্থাপত্যের ওজন প্রায় ৩০০০ টন।

দিল্লির এই মন্দিরে ১১ ফুটের স্বামী নারায়ণের মূর্তি রয়েছে। এই মন্দিরে রয়েছে ১৫১টি হ্রদও। ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ওঠে দিল্লির এই মন্দিরের।

First published: