corona virus btn
corona virus btn
Loading

মসজিদ নির্মাণের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন হিন্দুরা, বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি ফিরছে অযোধ্যায়

মসজিদ নির্মাণের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন হিন্দুরা, বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি ফিরছে অযোধ্যায়
প্রতীকী ছবি৷ PHOTO- AP

এই মসজিদ নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে চেয়ে যাঁরা ফোন করছেন, তাঁদের ৬০ শতাংশই হিন্দু৷ মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের পক্ষ থেকেই এ কথা স্বীকার করা হয়েছে৷

  • Share this:

#অযোধ্যা:  দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে অযোধ্যায় শুরু হয়েছে রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতোই অযোধ্যা শহরের বাইরে তৈরি হচ্ছে মসজিদও৷ আর এই মসজিদ নির্মাণকে ঘিরেই ফের একবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি উজ্জ্বল হয়ে উঠল অযোধ্যায়৷

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে চেয়ে যাঁরা ফোন করছেন, তাঁদের ৬০ শতাংশই হিন্দু৷ মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের পক্ষ থেকেই এ কথা স্বীকার করা হয়েছে৷

বাবরি মসজিদ ধ্বংস, রাম মন্দির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অযোধ্যায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিভেদ তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘদিন পরে তা দূরে সরিয়ে ফের সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরে আসছে৷

অযোধ্যা শহরের বাইরে ধন্নিপুর গ্রামে এই মসজিদ তৈরি হওয়ার কথা৷ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সেখানেই উত্তর প্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছে৷ মসজিদের নির্মাণকাজ দেখাশোনার জন্য একটি ১৫ সদস্যের ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে৷ ইন্দো- ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে ওই ট্রাস্টের মুখপাত্র আতহার হুসেন বলেন, 'মসজিদ নির্মাণের জন্য যেভাবে মানুষ এগিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অভিভূত৷ যাঁরা অনুদান দিতে চেয়ে ফোন করছেন, তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই হিন্দু৷' এখনও পর্যন্ত যা হিসেব করা হয়েছে, তাতে মসজিদ নির্মাণের পরেও ওই ট্রাস্টের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা থাকবে৷ তা দিয়েই মসজিদের পাশাপাশি একটি হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেন এবং শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷

ইতিমধ্যেই ওই ট্রাস্টের কাজ পরিচালনার জন্য লখনউতে একটি অফিস খোলা হয়েছে৷ পাশাপাশি, বিদেশি অনুদান গ্রহণের জন্য খোলা হয়েছে দু'টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট৷ তবে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি পুজো হয়ে গেলেও করোনা অতিমারির জন্য মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু করার আয়োজন এখনও সেভাবে করে ওঠা সম্ভব হয়নি৷ তবে ট্রাস্টের তরফে আতাহার হুসেন দাবি করেছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন৷

প্রসঙ্গত রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর অনুষ্ঠানেও সু্প্রিম কোর্টে অযোধ্যার জমি বিবাদের মূল মামলাকারী ইকবাল আনসারি, পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত সমাজসেবক মহম্মদ শরিফ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টে অন্যতম মামলাকারী জাফারইয়াব জিলানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ সেই অনুষ্ঠানেই রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রধান মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস ঘোষণা করেন, মন্দির তৈরির জন্য মুসলিমদের থেকেও অনুদান গ্রহণ করা হবে৷ কারণ দীর্ঘ দিনের বিবাদ অবসানে মুসলিম নেতৃত্বই মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে চেয়েছিলেন৷

তবে মসজিদ তৈরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও নরেন্দ্র মোদি সেখানে উপস্থিত হবেন কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কিছু বলা হয়নি৷ তবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে,  এত আগে থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: August 13, 2020, 11:21 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर