Delhi Violence| 'ওই তো আমার ছেলে!' মর্গে লাশের স্তূপ হাতড়াচ্ছেন রাহুল, আসফাকের মা-বাবারা

Delhi Violence| 'ওই তো আমার ছেলে!' মর্গে লাশের স্তূপ হাতড়াচ্ছেন রাহুল, আসফাকের মা-বাবারা
মর্গের সামনে অপেক্ষায় আসফাকের পরিবার

জিটিবি হাসপাতালে মর্গের সামনে দীর্ঘ লাইন৷ কম করে ৫ থেকে ৬টি পরিবার দাঁড়িয়ে লাইনে৷ লাশ চিহ্নিত করবেন তাঁরা৷ হিংসা-পরবর্তী লাশ৷

  • Share this:

Nikhil Ghanekar

#নয়াদিল্লি: চারদিকে শুধু আর্তনাদ৷ রক্ত৷ আর্তনাদের কোনও ধর্ম নেই৷ রক্তের রঙে ভেদাভেদ নেই৷ হিংসার জীবন্ত সাক্ষী দগদগে৷ দিল্লির দিলশাদ গার্ডেনে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে কান্নার রোল৷ হিংসার নির্যাস যেমন হয় আর কি! 'An eye for an makes the whole world blind,' মহাত্মা অনেক আগেই বলেছিলেন৷

জিটিবি হাসপাতালে মর্গের সামনে দীর্ঘ লাইন৷ কম করে ৫ থেকে ৬টি পরিবার দাঁড়িয়ে লাইনে৷ লাশ চিহ্নিত করবেন তাঁরা৷ হিংসা-পরবর্তী লাশ৷ পরিবারগুলির কান্নায় ধর্ম নেই৷ হিন্দু-মুসলমান মিলে মিশে দাঁড়িয়ে৷ নিজেরা নিজেদের স্বান্তনা দিচ্ছেন৷

২৬ বছরের রাহুল সোলাঙ্কি বুলেট বিদ্ধে হয়ে মৃত৷ মর্গে দেহটা রাখা আছে৷ পাশেই আরেকটি দেহ৷ পাশেই বসে রয়েছেন ৬৪ বছরের সদরুদ্দিন৷ ৩২ বছরের ছেলে মহম্মদ ফুরকানকে হারিয়েছেন তিনি৷ বুলেট তাঁর শরীর এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছিল৷ তিনিও ছেলের দেহ শনাক্ত করবেন৷

দিল্লিতে হিংসার আগুন দিল্লিতে হিংসার আগুন

সোমবার সন্ধে থেকে ওই পরিবারগুলি অপেক্ষা করে আছেন মর্গের সামনে৷ প্রিয়জনের দেহ নিয়ে যাবেন৷ শেষকৃত্য হবে৷ জিটিবি হাসপাতালে ২৫ জনকে আগেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ আপাতত মৃত বেড়ে ৩৪৷ জিটিবি হাসপাতালের সুপার সুনীল কুমার গৌতমের কথায়, 'একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার আবেদন রয়েছে৷ পুলিশের থেকে সেই আবেদন আসছিল না৷ হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই গুলিবিদ্ধ৷ বাকিরা হয় অগ্নিদগ্ধ, না হয় ছুরিতে আহত৷'

সোমবার থেকে ওই পরিবারগুলি হাসপাতাল থেকে নড়েননি৷ মৃত দেহ নেবেন বলে অপেক্ষায়৷ ২৬ বছরের শাহবাজ আলম চিত্‍কার করে কাঁদছেন৷ ওঁর প্রিয় বন্ধু আর নেই৷ 'ওকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন মৃত৷ দেহগুলি কখন পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, দুদিন ধরে হাসপাতাল কিছু জানাচ্ছে না৷'

শ্বেতা চৌহানও মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে৷ বললেন, 'এই হিংসা বন্ধ হোক৷ সরকার চাইছে না নিয়ন্ত্রণ করতে৷'

মহম্মদ ফুরকানের বাবা বৃদ্ধ সদরুদ্দিনের কথায়, 'এই শহরে ৪০ বছর ধরে বাস করছি৷ শিখ দাঙ্গা চোখের সামনে দেখেছি৷ মনে আছে, বহু শিখকে বাঁচিয়ে ছিল হিন্দু, মুসলমান৷ গত দু দিনেও মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি৷ দুর্ভাগ্য৷'

First published: February 27, 2020, 10:05 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर