হিমালয়ের হিমবাহ দ্বিগুণ হারে গলছে! উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের পরই আলোচনায় ২০১৯ সালের গবেষণা

হিমালয়ের হিমবাহ দ্বিগুণ হারে গলছে! উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের পরই আলোচনায় ২০১৯ সালের গবেষণা
Himalayan Glaciers Melting Twice As Fast

হিমালয়ের হিমবাহ এখন দ্বিগুণ হারে গলছে! ২০১৯ সালের রিপোর্টে প্রকাশিত এই তথ্য নিয়েই ফের আলোচনা চলছে৷ একবিংশ শতকের শুরু থেকেই এমনটা হচ্ছে৷ আর এর পিছনে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন৷

  • Share this:

    #দেহরাদুন: উত্তরাখণ্ডে চামোলি জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধৌলিগঙ্গা নদীর উপর প্রবল তুষারধসের ভয়াবহ ঘটনাই সামনে নিয়ে এল আরেক তথ্য। হিমালয়ের হিমবাহ এখন দ্বিগুণ হারে গলছে! ২০১৯ সালের রিপোর্টে প্রকাশিত এই তথ্য নিয়েই ফের আলোচনা চলছে৷ একবিংশ শতকের শুরু থেকেই এমনটা হচ্ছে৷ আর এর পিছনে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন৷

    দু'বছর আগের জুন মাসে জার্মানিতে বন শহরে চলছিল জলবায়ু সম্মেলন৷ সেসময় সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে,গত শতকের তুলনায় হিমালয়ের হিমবাহ এখন দ্বিগুণ হারে গলছে৷ ২০০০ সাল থেকেই বছরে শতকরা এক ভাগ করে গলছে বরফ৷ বছরে সাড়ে পাঁচ ফুটের বেশি করে বরফ গলার পরিণাম কিন্তু ভয়ঙ্কর হতে চলেছে৷ গত ২৫ বছরের (১৯৭৫-২০০০) তুলনায় দ্বিগুণ হারে কমা বরফে গলায় বিজ্ঞানীরা ভারত, চিন, নেপাল, ভুটান সহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে অন্তত একশ কোটি মানুষের জন্য অদূর ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে জলের সঙ্কট৷ এমনটাই আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের৷ গত ৪০ বছরে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এই সব দেশের তোলা ছবি পর্যবেক্ষণ করেই বিজ্ঞানীরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন৷

    কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যায়ের মার্কিনি গবেষক জোশুয়া মাউরার বলেন, ‘‘এই সময়ের মধ্যে কেন হিমালয়ের হিমাবহ গলছে, তার পরিস্কার চিত্রটা আমাদের সামনে চলে এসেছে৷" মাউয়ার আরও জানিয়েছেন যে, গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে গণনা না করা গেলেও এটা বলা যেতে পারে যে, হিমবাহগুলি গত চার দশক ধরে তাদের বিশাল ভরগুলির এক চতুর্থাংশের চেয়ে বেশি হারিয়েছে৷ তথ্যগুলি সূচিত করেছে যে, সময় এবং স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমে বেড়ে চলা তাপমাত্রাই এই গলনের জন্য দায়ী৷


    তাপমাত্রা স্থানে ভেদে পরিবর্তিত হলেও, ১৯৭৫-২০০০ সালের তুলনায় ২০০০-২০১৬ পর্যন্ত তাদের গড়ে এক ডিগ্রি করে বেড়েছে৷ গবেষকরা পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত ২০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত প্রায় ৬৫০ হিমবাহের উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করেই এই রিপোর্ট পেশ করেছেন৷ বিংশ শতাব্দীর অনেক পর্যবেক্ষণ মার্কিন গুপ্তচর উপগ্রহগুলির দ্বারা গৃহীত অস্বীকৃত ফটো থেকেও এসেছে।গবেষকরা লক্ষ করে দেখেছেন যে, এশীয় দেশগুলি জীবাশ্ম জ্বালানী এবং জ্বলন্ত জৈববস্তুর ঝুল আকাশে চলে যাচ্ছে৷ এবং এর বেশিরভাগ অংশ তুষারাবৃত হিমবাহের পৃষ্ঠে অবতরণ করছে এবং যেখানে এগুলি সৌরশক্তি শোষণ করে দ্রুত গলছে৷ তারা গ্রাউন্ড স্টেশনগুলি থেকে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করে হিমবাহ গলনের পরিমাণ নির্ধারণ করেই পর্যবেক্ষকরা তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন৷ পৃথিবীর উষ্ণায়নই দ্রুত হিমবাহ গলনের সবচেয়ে বড় কারণ বলেই তাঁরা জানিয়েছেন৷

    Published by:Subhapam Saha
    First published:

    লেটেস্ট খবর