ছেলের মৃতদেহ বস্তায় ভরে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হল হতভাগ্য বাবাকে!

ছেলের মৃতদেহ বস্তায় ভরে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হল হতভাগ্য বাবাকে!

Photo- news 18

অভাগা বাবা নিজের হৃদয়ের ধনের শবদেহ বস্তায় বেঁধে ঘরের দিকে যেতে শুরু করেন৷

  • Share this:

    #কাটিহার: বিহারের কাটিহার জেলার এক নক্কারজনক ছবি সামনে এল সংবেদনশীলহীণতার ঘটনা৷ বিহারের সুশাসন রয়েছে এমন দাবি করে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী৷ তাহলে কী করে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে এই প্রশ্নই উঠছে সব মহলে৷ ১৩ বছরের পুত্র সন্তানেরে মৃতদেহ ব্যাগে ভরে এক পুলিশ স্টেশন থেকে অন্য পুলিশ স্টেশনে যেতে হল ভাগ্যহীণ বাবাকে৷ এরকম ভাবে পায়ে চলে তিন কিলোমিটার পথ পেরোলেন মৃত কিশোরের বাবা৷

    ভাগলপুরের গোপালপুর থানার পুলিশ ও কাটিহার জেলার কুর্সেলা পুলিশ থানা এই ধরণের কাণ্ড ঘটাল৷ তাঁরা যদি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে ওই হতভাগ্য বাবাকে এভাবে সন্তানের মৃতদেহ কাঁধে বয়ে বেড়াতে হত না৷ এক পুলিশ স্টেশন থেকে অন্য পুলিশ স্টেশনে তিনি সন্তানের মৃতদেহ বয়ে বেড়ালেন৷

     ভাগলপুরের বাসিন্দা কিশোরের বাবা নীরু যাদব জানিয়েছেন গোপালপুর থানার ক্ষেত্র তিনটঙ্গা গ্রামের নদী পার করার সময় তাঁর ১৩ বছরের ছেলে হরিওম যাদব নৌকা থেকে নদিতে পরে গিয়েছিল৷ এরপরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না৷ এর জন্য গোপালপুর থানায় ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেছিলেন তিনি৷ এরপর তিনি ছেলের অনুসন্ধান জারি রেখেছিলেন৷ নীরু জানতে পারেন তাঁর সন্তানের মৃতদেহ কাটিহার জেলার কুর্সেলা থানা -র খেরিয়া নদির পারে ভাসমান অবস্থায় দেখা গেছে৷

    এই খবর পেয়ে নীরু যাদব ়যখন ঘাটে পৌঁছন তখন তাঁর ছেলের শবদেহ অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিল৷ বাচ্চার দেহ অনেকাংশেই পচে গলে গিয়েছিল৷ বিভিন্ন পশু তার শরীরের বিভিন্ন অংশ খুবলে খেয়ে নিয়েছিল৷ কিশোরটির পরণের পোশাক দেখে তাকে চিনে নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু এরপর শুরু হয় সিস্টেমের সংবেদনশীলহীণতার কর্মকাণ্ড! শবদেহ আনতে কাটিহার জেলা পুলিশের কুর্সেলা থানা কিছুটা কার্যকরিতা দেখায়৷ বাকি দুটি জেলার পুলিশ অ্যাম্বুলেন্স ডাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি৷

    শেষে অভাগা বাবা নিজের হৃদয়ের ধনের শবদেহ বস্তায় বেঁধে ঘরের দিকে যেতে শুরু করেন৷ পুলিশের অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্তহীণতার কারণে ভাগ্যহীণ বাবাকে এইভাবে তিন কিলোমিটার পেরোতে হয়৷ কোনও থানার পুলিশ না কোনও গাড়ি যোগাড় করে দেয় না কোনও সাহায্য করে৷ এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে আসার পর কাটিহারের ডিএসপি অমরকান্ত ঝা পুরো ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন৷

    Published by:Debalina Datta
    First published: