গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী ২০২১: বিস্মিত করবে শেষ মানব শিখগুরুর জীবনকাহিনি!

গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী ২০২১: বিস্মিত করবে শেষ মানব শিখগুরুর জীবনকাহিনি!
পিতার এই অকালমৃত্যু থেকেই পরবর্তীকালে শিখজাতি এবং শিখধর্মে এক বিশেষ অংশের প্রচলন করেন তিনি। একেই বলা হয় খালসা।

পিতার এই অকালমৃত্যু থেকেই পরবর্তীকালে শিখজাতি এবং শিখধর্মে এক বিশেষ অংশের প্রচলন করেন তিনি। একেই বলা হয় খালসা।

  • Share this:

ইতিহাসের স্বভাবই এই- বিগত দিনের একেকটি পৃষ্ঠাকে সে হঠাৎ করে হাজির করে চোখের সামনে। আর সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে আমরা হাজির হই অতীতে। প্রত্যক্ষ করি সময় এবং সেই সময় ধরে বেঁচে থাকা চরিত্রদের। ঠিক সেরকম ভাবেই আজ সময় আমাদের হাজির করেছে পঞ্চনদের দেশে। সেখানে তরবারির ঝনঝন শব্দ, ভজনের সুরেলা গুঞ্জন, শত্রুর রক্ত জল করে দেওয়ার হুঙ্কারের সঙ্গে মিশে গিয়েছে উন্নতশির পাগড়ির রঙিন ছটা! সব কিছুর মধ্যে দিয়ে প্রথম সূর্যের মতো দীপ্ত তেজে বিরাজ করছেন গুরু গোবিন্দ সিং।

শিখ ধর্মের দশম এই গুরুর জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে কথা তো হবেই! কিন্তু তার আগে একটা খটকা দূর করে না নিলেই নয়! যদি উইকিপিডিয়ার দিকে চোখ রাখা যায়, তা হলে দেখা যাবে যে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্মতারিখটি ঘোষণা করা হচ্ছে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর। এদিকে আজ ২০ জানুয়ারি! তা হলে?

হিসেব কিছু ভুল নয়। খ্রিস্টাব্দ ধরে যে বিচার হয়েছে শিখগুরুর জন্ম তারিখের, ওটা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেব। কিন্তু আমাদের দেশে বরাবরই নানা উপলক্ষ্যে মেনে চলা হয় আলাদা আলাদা তিথিনির্ণয় পদ্ধতি। অতএব, যদি নানকশাহি ক্যালেন্ডারের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তা হলে দেখা যাবে যে শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথি মিলিয়ে চলতি বছরে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্মদিন পড়েছে আজকের তারিখেই!


গুরু গোবিন্দ সম্পর্কে একাধিক কিংবদন্তি আছে। কী অশ্বচালনা, কী অস্ত্রচালনা, শিখ জাতির ইতিহাসে তাঁর মতো বিস্ময়কর পুরুষ আর দ্বিতীয় কেউ জন্মগ্রহণ করেননি! দেশের পুরনো মিনিয়েচার পেন্টিংয়ে তাই বেশিরভাগ সময়েই গুরুর অশ্বপৃষ্ঠে বিচরণের প্রতিকৃতি ধরা দেয়। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন কবি এবং দার্শনিকও- বহু মনোমুগ্ধকর ভজনও তিনি রচনা করেছেন। কিন্তু এই সব কিছুর উর্ধ্বে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর বিচক্ষণতা যা শিখজাতি এবং শিখধর্মে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেই দিক থেকেই নানা ছবিতে তাঁকে সিংহাসনেও আসীন দেখা যায়।

রাজা তো সিংহাসনে বসবেনই! কিন্তু গুরু গোবিন্দ সিংয়ের ক্ষেত্রে ঘটনাটি বিশেষ ভাবে তাৎপর্যবাহী। ঔরঙ্গজেব তাঁর পিতা গুরু তেগ বাহাদুরের শিরশ্ছেদন করেছিলেন দিল্লির চাঁদনি চকের প্রকাশ্য পথে। তার পর মাত্র ৯ বছর বয়সেই তিনি পিতার স্থলে অভিষিক্ত হন। এটি নিতান্তই উত্তরাধিকার সূত্র নয়। কেন না, খুব অল্পবয়স থেকেই রাজ্যপরিচালনের মতো নানা বিষয়ে এবং জীবনের নানা খুঁটিনাটি দিকে বিস্ময়কর বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলেন গুরু গোবিন্দ সিং।

পিতার এই অকালমৃত্যু থেকেই পরবর্তীকালে শিখজাতি এবং শিখধর্মে এক বিশেষ অংশের প্রচলন করেন তিনি। একেই বলা হয় খালসা। খালসা প্রকৃতপক্ষে অনুরাগীদের শস্ত্রবিদ্যায় শিক্ষিত করে যাতে তারা কোনও ভাবেই শত্রুর হাতে পর্যুদস্ত না হয়। পাশাপাশি দেয় সুজীবনশিক্ষাও। গুরু গোহিন্দ সিং খালসাবাহিনীর পুরুষদের সিং এবং নারীদের কৌর উপাধি দেওয়ার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন। যা আজও মিশে আছে এই দেশের ঐতিহ্যে।

তবে তাঁর সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বোধ হয় গুরুপ্রথার লোপ! তিনিই শিখ ধর্মের দশম গুরু এবং শেষ মানবগুরু। গুরুপদ যাতে বংশানুক্রমিকতায় স্বেচ্ছাচারে পরিণত না হয়, সেই জন্য তিনি শিখধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহিব-কেই শিখধর্মের আজীবন গুরু বলে ঘোষণা করে দিয়ে যান। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যে রাজতান্ত্রিক ভারতেই সূচনা করেছিল গণতন্ত্রের, তা বিশেষ করে উল্লেখের দাবি রাখে!

Published by:Pooja Basu
First published: