corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাবার ‘পা’ পড়ে আছে শুধু, পুলিশ ফেরত দিলে শেষকৃত্য করবেন দিল্লির গুলশন

বাবার ‘পা’ পড়ে আছে শুধু, পুলিশ ফেরত দিলে শেষকৃত্য করবেন দিল্লির গুলশন
A view of the street outside the mosque in Shiv Vihar after riots ravaged the area.

গুলশনের বাবা আনওয়ার থাকতেন শিব বিহারে৷

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: শিব বিহার শান্ত৷ কিন্তু এখনও দিল্লি হিংসার ক্ষত ছড়িয়ে আছে গোকুলপুরী, শিব বিহারের মতো এলাকায়৷ আর সেখান থেকেই উঠে আসছে একের পর এক মর্মান্তিক ছবি৷

শিব বিহারে বাসিন্দা গুলশন বেশ কয়েকদিন ধরে অপেক্ষা করছেন দিল্লির তেগ বাহাদুর হাসপাতালের বাইরে৷ কারণ, বাবার শেষকৃত্য করতে চান তিনি৷ তবে দেহ পাবেন না৷ কেন? জানলে শিউরে উঠবেন৷

গুলশনের বাবা আনওয়ার থাকতেন শিব বিহারে৷ দিল্লির হিংসায় যে এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল৷ গুলশন জানিয়েছেন, হিংসা চলার সময় দু’বার আনওয়ারের বুকে গুলি করা হয়েছিল৷ তারপর আনওয়ারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ আর সেখানে ছুড়ে ফেলা হয় আনওয়ারকে৷ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে আনওয়ারের বাড়ি লুঠ করা হয়, তারপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সেই আগুনেই পুড়ে যায় আনওয়ারের দেহ৷ বাকি ছিল শুধু পা৷ সেই কাটা পা উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ৷ সেই পায়ের ডিএনএ টেস্ট করা হবে এবার৷ যদি গুলশনের সঙ্গে সেই ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায়, তাহলেই পুলিশ ফেরাবে পা৷ বাবার শেষকৃত্য করবেন গুলশন৷

আর বিয়ের পর গুলশন থাকেন হাপুরের পিলকাওয়া এলাকায় স্বামী নাসিরুদ্দিন ও দুই সন্তানের সঙ্গে৷ তাই সেদিন ছুটে যেতে পারেননি৷ শেষ বার বাবার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল? গুলশন বললেন, ‘‘আমি বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তোমার সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে?’ বাবা বলেছিল, ‘না বেটা’৷ তারপর বাবা আমাকে ফোন করে বললেন, ‘আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়েছে৷’ তারপরই ফোনটা কেটে যায়৷

গুলশনের কাকা সেলিম শিববিহারেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন৷ সেদিনের হিংসায় তাঁরও মৃত্যু হতে পারত৷ কোনওমতে প্রাণ হাতে করে বেঁচেছিলেন৷ গুলশন আতঙ্কের কথা মনে করে বললেন, ‘ওরা জিজ্ঞাসা করছিল, সেলিম কোথায়? আরও একজম মুসলিম যে এখানে থাকত?’ সেলিম, প্রাণ বাঁচাতে সেদিন পালিয়ে গিয়েও চোখের সামনে দেখেছিলেন, দাদাকে আগুনে ছুড়ে মারছে গুণ্ডারা৷ তারপরেই ঘটনার কথা গুলশনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন তিনি৷

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: March 2, 2020, 7:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर