Home /News /national /
KMC || ভাতা নিয়ে সুখবর পুরসভার কর্মীদের! পুজোর আগেই বদলাবে পরিস্থিতি...

KMC || ভাতা নিয়ে সুখবর পুরসভার কর্মীদের! পুজোর আগেই বদলাবে পরিস্থিতি...

KMC || ইতিমধ্যে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অনুমোদন মিলেছে। খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কলকাতা পুরসভা।

  • Share this:

    #কলকাতা: পুজোর আগে সুখবর কলকাতা পুরসভার কর্মীদের। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও ভাতা পাবেন কর্মীরা। আগের মতো লাগামছাড়া নয়, কর্মীদের ভাতা কাঠামোয় হবে সংস্কার। খরচে রাশ টানতে ভাতার সর্বোচ্চ মাসিক সিলিং বেঁধে দেবে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অনুমোদন মিলেছে। খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কলকাতা পুরসভা।

    আরও পড়ুন: 'প্রাণ গেলে যাবে, যতদূর যেতে হয়, যাবো!' আদালতে ছুটলেন অর্জুন! কারণ শুনলে চমকে উঠবেন

    কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীরা এই ভাতা পেয়ে থাকেন। এই ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার করতে চলেছে পুরসভা। এবার থেকে মজদুর বা সম মর্যাদার পদে কর্মরত কোনও কর্মীকে ওভারটাইম- সহ নানা ভাতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ দিনপিছু ৪০২ টাকা দেওয়া হবে। অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভাতার পরিমাণ মাত্র ১০০ টাকা। আবার কোনও কর্মী স্বাভাবিক কাজের সময়ের অতিরিক্ত যদি ছ’ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করেন, তাহলে মিলবে দৈনিক ২৫০ টাকা৷ তবে যত খুশি তত ওভারটাইম বা এই ভাতা নেওয়া যাবে না। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে থাকছে ভাতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিলিং।  প্রতি মাসে সর্বোচ্চ সিলিং ২৫০০ টাকা। অর্থাৎ কোনওভাবেই কোনও কর্মী প্রতিমাসে ২৫০০ টাকার বেশি ভাতা হিসেবে কলকাতা পুরসভার তহবিল থেকে নিতে পারবেন না।

    কর্মীদের ভাতা কাঠামোয় এই সংস্কারের কাজ বেশ কিছুদিন ধরেই করতে শুরু কলকাতা পুরসভা। মেয়রের অনুমোদন পাওয়ার পর এবার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায়। এই ক্ষেত্রে মাসিক সিলিং বেঁধে দিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। রাত্রিকালীন হলিডে ও টিফিন ভাতা-সহ সবমিলিয়ে প্রতিমাসে একজন কর্মী ওভারটাইমের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা অতিরিক্ত টাকা পাবেন। ইতিমধ্যেই মেয়র পরিষদ বৈঠকের শিলমোহর মিলেছে। দিন কয়েকের মধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হতে চলেছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর।

    করোনার সময় থেকেই পুরসভার আয়ে ভাঁটা। সম্পত্তি কর থেকে শুরু করে অন্যান্য সব করেই আয়ের টানে ভাঁটা পড়েছে। যার জেরে গত বছর দেড়েক এই ভাতাগুলি দেওয়া বন্ধ ছিল। নতুন করে সম্পত্তিকরে আয় বাড়ছে। এবার আর্থিক পরিস্থিতি খানিকটা ভাল হওয়ায় কর্মীদের ভাতা দিতে উদ্যোগী পুর-কর্তৃপক্ষ। তবে পুরনো নিয়মের ভাতা কাঠামোয় পুর্নগঠন করা হচ্ছে। সামগ্রিক উন্নয়ন-সহ নানা নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার কাজে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। ফলে, সেখানে বাড়তি টাকার প্রয়োজন।  সেই বৃহত্তর স্বার্থের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানাচ্ছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

    আরও পড়ুন- শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশন চালুর জন্য ফের মিলল কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির অনুমতি

    পুরসভা কর্তৃপক্ষ যে সাফাই দিক না কেন, ভাতার সংস্কারে খুশি নয় কর্মী ইউনিয়নগুলো। কেএমসি ক্লার্কস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, "শূন্যপদে লোক না নিলে ওভারটাইম তো করাতেই হবে! কাজ করানো হবে অথচ ন্যায্য ভাতা দেওয়া হবে না এটা কেমন কথা? ভাতা সংস্কারের নামে আসলে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।" আইএনটিইউসি-র কেএমসি মজদুর পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক দুলাল দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "বকেয়া ডিএ সহ ন্যায্য পাওনা গুলো যথাযথ দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে ন্যায্য ভাতা পাওয়ার আশা করাটাই মুর্খামি।"

    আরও পড়ুন: নজরে ২১ জুলাই, বড় চমক দিতে চলেছে তৃণমূল! মঞ্চের অতিথিদের নিয়ে তুমুল গুঞ্জন

    পুরসভার সূত্রে খবর, কর্মীদের একাংশের ওভারটাইম-সহ নানা ভাতা দিতে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা লাগে পুরসভার। মূলত জঞ্জাল সাফাই, স্বাস্থ্য, জল সরবরাহ এবং নিকাশি বিভাগের কর্মীদের সবথেকে বেশি ওভারটাইম এবং অন্যান্য ভাতা দিতে হয়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ৩-৪টে বিভাগে সব থেকে বেশি ওভারটাইম এবং ভাতা দিতে খরচ হয় পুরসভার। এর মধ্যে কয়েকটি বিভাগে প্রায় দুই কোটি টাকা ভাতা দেওয়ার জন্য অর্থ জোগাড় করতে হয়। এই কারণেই ভাতা সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিষয়টি দেখার জন্য পুর কমিশনার বিনোদ কুমার ও সচিব হরিহরপ্রসাদ মণ্ডলকে নির্দেশ দেন।

    Published by:Rachana Majumder
    First published:

    Tags: KMC

    পরবর্তী খবর