ভ্যাকসিন-এর জন্য হাহাকার! টিকা পেতে এবার Global Bids-এ নামছে রাজ্যগুলি, সমস্যা মিটবে?

যেটুকু বা জোগান আছে ভ্যাকসিনের, তা আদায় করার জন্য নিলামে নেমেছে রাজ্যগুলো বলেই খবর!

যেটুকু বা জোগান আছে ভ্যাকসিনের, তা আদায় করার জন্য নিলামে নেমেছে রাজ্যগুলো বলেই খবর!

  • Share this:
#নয়াদিল্লি: সরকার তো বলেই খালাস! পয়লা মে থেকে দেশে ১৮ বছরের উর্ধ্বের সব নাগরিক করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাবেন! এটা ঠিক, দেশকে রোগমুক্ত করতে হলে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এটাও ঠিক, এই দেশের সব নাগরিক যেমন খেতে পায় না, তেমনই সবার পক্ষে সঠিক ভাবে ভ্যাকসিন পাওয়াও এক রকমের আকাশকুসুম কল্পনা! কারণ, এই বিশাল জনসংখ্যার পক্ষে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের জোগান নেই! দেশে তৈরি Covishield এবং Covaxin এখন চাহিদার সঙ্গে সমানুপাতিক জোগান নিয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখছে। অন্য দিকে, রাশিয়া থেকে Sputnik V নিয়ে এলেও তা প্রয়োজনের পক্ষে যথেষ্ট নয়। এদিকে, রাজ্যসরকারের রয়েছে আরেক দায়- তাঁরা জনতার সামনে নিজেদের ব্যর্থতা তুলে ধরতে পারে না! ফলে, যেটুকু বা জোগান আছে ভ্যাকসিনের, তা আদায় করার জন্য নিলামে নেমেছে রাজ্যগুলো বলেই খবর! স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন (Harsh Vardhan) অবশ্য এই প্রসঙ্গে দেশকে আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন যে বর্তমান সময় থেকে চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে ৩০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করা হবে। তেমনই আবার অগাস্ট থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সব বয়সের নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ হবে ২১৬ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ। কিন্তু তাতেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।  কেউই এই পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করতে এতটুকুও রাজি নয়! পরিস্থিতি দেখে সরকার নানা রাজ্যে অবিলম্বে ৫ কোটির কাছাকাছি ভ্যাকসিনের ডোজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিটেফোঁটাও নয়। উপায় না দেখে তাই বিশ্বদরবারে উত্তরপ্রদেশ ৪ কোটি, তামিলনাড়ু ৫ কোটি, ওড়িশা ৩.৮ কোটি, কেরল ৩ কোটি এবং অন্য রাজ্য ১-২ কোটি ডোজ পাওয়ার জন্য গ্লোবাল বিড ডাকছে। এই প্রসঙ্গে News18-কে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন যে Sputnik V-র ভারতে উৎপাদনের উপরে ভরসা করে আছেন তাঁরা। এক সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে যে দেশে এখনও পর্যন্ত ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৬.৫ কোটি জনতা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে মেরেকেটে বড়জোর ১০ শতাংশকে ভ্যাকসিনের স্রেফ প্রথম ডোজটুকু দেওয়া গিয়েছে। মানে, প্রায় ৬ কোটি মতো এখনও বাকি পড়ে আছে, তার সঙ্গে আবার আগে যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কাজও বাকি! ফলে, রাজ্য সরকারের উপরে চাপ বাড়ছে, যা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) এবং সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (Serum Institute of India) মতো ভ্যাকসিন উৎপাদক সংস্থাও। এই দুই সংস্থা একত্রে জুন মাসের শেষের দিকে ১৩ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে, কিন্তু তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে সব রাজ্য সরকার জনতার পক্ষে কাজ করার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভ্যাকসিনের জন্য নিলামে নেমেছে। হরিয়ানা যেমন গ্লোবাল বিডের কথা ঘোষণা করতেই পঞ্জাবের অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh) সরকারকে বিরোধীরা টেন্ডার জমা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। অন্ধ্রপ্রদেশ টেন্ডার জমা দিলে তেলঙ্গানাও এই ব্যাপারে এগিয়ে আসে বুধবার। আবার তামিলনাড়ু ৫ কোটি ভ্যাকসিনের জন্য গ্লোবাল বিডে ভাগ নিলে তাকে অনুসরণ করে ৪ কোটির বিড ডাকে উত্তরপ্রদেশ, কেরল দেখাদেখি বিড ডাকে ৩ কোটির! কার্যত গড্ডলিকা প্রবাহে দেশের স্বাস্থ্যের গতি যে খুব একটা ভালো খাতে এগোচ্ছে না, সে নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
First published: