• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • ভাঙল জুটি, আরও একা আডবানি

ভাঙল জুটি, আরও একা আডবানি

Photo Collected

Photo Collected

সদ্য মুক্তি পেয়েছে রাজ কপূর-নার্গিসের 'ফির সুভাহ হোগি'। সেদিন ওই ছবি আর তার টাইটেল সং তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিল, 'ওহ সুভাহ কভি তো আয়েগি'। চল্লিশ বছর পর সত্যিই এসেছিল সেই সকাল।

  • Share this:

    #কলকাতা: সময়টা ১৯৫৮-র এক সন্ধ্যা। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ভোটের ফল বেরিয়েছে। বামপন্থীরা,অরুণা আসফ আলির নেতৃত্বে জিতে কর্পোরেশনে বোর্ড গড়তে চলেছেন। জনসংঘ নির্বাচনে গো-হারা হেরেছে। অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে। মন খারাপের সেই বিকেলে দিল্লির রাজপথে হাঁটছেন দুই যুবক।একজন আরএসএস-এর মুখপত্র অর্গানাইজারে, সিনেমা আর সংস্কৃতি বিভাগের সাংবাদিক।অন্যজন জনসংঘের কার্যকর্তা। দু’জনেই সিনেমা পাগল। এই বিপর্যয় আর শোক ভুলতে তাই বেছে নিলেন সিলভার স্ক্রিন।

    সদ্য মুক্তি পেয়েছে রাজ কপূর-নার্গিসের 'ফির সুভাহ হোগি'। সেদিন ওই ছবি আর তার টাইটেল সং তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিল, 'ওহ সুভাহ কভি তো আয়েগি'। চল্লিশ বছর পর সত্যিই এসেছিল সেই সকাল। জনসংঘের উত্তরসূরী বিজেপির নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল এনডিএ সরকার। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেদিনের সেই জনসংঘ কার্যকর্তা অটল বিহারি বাজপেয়ী। আর তাঁর 'ডেপুটি', সেদিনের সেই সাংবাদিক লালকৃষ্ণ আডবানি।

    রাজনীতি বা ব্যক্তিগত জীবন--দুজনের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। সাংগঠনিক বিস্তারে আর ভোটবাক্সে তার ফসল তুলতে বরাবরই দক্ষ লালকৃষ্ণ আডবানি। '৮৪-তে ইন্দিরা গান্ধির মৃত্যুর পর লোকসভায় ২ সাংসদের দলে পরিণত হয় বিজেপি। দলের সভাপতি তখন বাজপেয়ী। রামমন্দিরের ইস্যুকে দলের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় এনে বিজেপি কর্মীদের মনোবল আর জনসমর্থনের ভিত আবার শক্ত করেন আডবানি। আবার সংঘ পরিবার ও বিজেপির বাইরে ভারতীয় রাজনীতির যে বৃহত্তর মঞ্চ সেখানে অত্যন্ত সাবলীল বাজপেয়ী। সব দলের নেতা ও কর্মীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। দলের বৃহত্তর লাভ বুঝতেও দূরদর্শী। তাই '৭৭-এ জনসংঘ তুলে দিয়ে জনতা পার্টিতে মিশিয়ে দিতে আরএসএসের কাছে সবচেয়ে বেশি সওয়াল করেন অটল বিহারি। প্রবল ইন্দিরা বিরোধী মুডে জনগণের চাহিদা বুঝতে ভুল হয়নি তাঁর।

    আডবানি যখন রামমন্দিরের আন্দোলনকে রাজনৈতিক ইস্যু করে দলকে গভীর গাড্ডা থেকে টেনে তুলছেন,তখন মূল স্রোতের বফর্স কেলেঙ্কারির অ্যাজেন্ডায় কংগ্রেস বিরোধী মঞ্চে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাজপেয়ী। ভিপি সিংকে মাঝে রেখে ধরে নিচ্ছেন আদর্শগত ভাবে উল্টো মেরুর জ্যোতি বসুর হাত। নিজেদের এই পরিপূরক দক্ষতা ও ক্ষমতা বুঝতেন দু’জনেই। ১৯৯৫ -এই আডবানি বুঝে যান কোয়ালিশন রাজনীতির যুগে একার ক্ষমতায় সরকার গড়তে পারবে না বিজেপি। বাবরি ধ্বংসের স্মৃতি জনমানসে তখনও দগদগে।রামমন্দির আন্দোলনের মুখ আডবানিকে মেনে নেবে না বিজেপির বাইরের দলগুলি।তাই আরএসএস বা সংঘ চালক রজ্জুভাইয়ার সঙ্গে আলোচনা না করেই ঘোষণা করে দেন '৯৬-এ লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী অটল বিহারি বাজপেয়ী।

    সংঘ প্রবল আপত্তি তোলে। জৈন-হাওয়ালা কেলেঙ্কারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকেই উল্টে অস্ত্র করেন আডবানি। জানিয়ে দেন, নির্দোষ প্রমাণ না হওয়া অব্দি তিনি নির্বাচনে লড়বেন না।বাজপেয়ীকে মেনে নিতে বাধ্য হয় সংঘ। '৯৬-এ ১৩ দিনের সরকারে অবশ্য বাজপেয়ী- আডবানির স্বপ্নপূরণ হয়নি। হল '৯৮-এ। ততদিনে অভিযোগ মুক্ত হয়ে সংসদে ফিরে এসেছেন আডবানি। কিন্তু,প্রধানমন্ত্রী পদে দলে 'অটোমেটিক চয়েস' হয়ে গেছেন বাজপেয়ী। আবার সরকারে তাঁর ডেপুটি হিসেবে এবং দলের সব দায়িত্ব আডবানিকে সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন বাজপেয়ী। এভাবেই জুটি বেঁধে ছিলেন দুজনে,এতদিন।

    download

    '৫৮-য় দুজনেই জানতেন,'ওহ সুভাহ কভি তো আয়েগি'। '৯৮-এ সেই সকাল এসেছিল। তারপর,'জীবন গিয়েছে চলে..কুড়ি কুড়ি বছরের পার'। আজকের বিজেপিতে ব্রাত্য আডবানি জানেন, 'আমার আর কিচ্ছু করার নেই।আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই।' তবু তাঁর একজন 'গানওয়ালা' ছিলেন।যাঁর কাছে গিয়ে আবদার জানাতে পারতেন, 'আর একটা গান গাও'। যে গানে হয়তো, একটা অন্য সকালের স্বপ্ন আঁকা থাকত।কারণ,বাজপেয়ী নিজেই বারবার বলেছেন,তাঁর কবিতা 'যুদ্ধ ঘোষণার,আত্মসমর্পণের নয়'। চলে গেলেন আডবানির 'গানওয়ালা'।'লৌহপুরুষ'-এর জন্য 'ইস রাত কি সুভাহ নেহি'।

    প্রতিবেদন: অনির্বাণ সিনহা

    First published: