জামতারায় মুদি দোকানেও বিক্রি হয় মোবাইলের সিম তোলার জাল নথি

জামতারায় মুদি দোকানেও বিক্রি হয় মোবাইলের সিম তোলার জাল নথি

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি যেখানে কুটিরশিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে 'শিল্প'-র প্রয়োজনে অনুসারী শিল্প তো গড়ে উঠবেই

  • Share this:

#জামতারা, ঝাড়খণ্ড :  ব্যাঙ্ক জালিয়াতি যেখানে কুটিরশিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে 'শিল্প'-র প্রয়োজনে অনুসারী শিল্প তো গড়ে উঠবেই। ঝাড়খণ্ডের জামতারা জেলার কথা বলা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে সারা দেশের কাছে ত্রাসের কারণ এই জেলা। কারণ, এখানে ঘরে ঘরে উঠতি কিশোর-যুবকেরা ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে পটু। এটাই এখানকার কর্মসংস্থান।

পুলিশসূত্রে খবর, জামতারায় প্রত্যেকদিন গড়ে ১০০ সিমকার্ড বিক্রি হয়। প্রত্যেকটিই নকল আইডেন্টিটি কার্ড দিয়ে তোলা। তাই এত পরিমাণ সিম তুলতে নকল আইডেন্টিটি কার্ডের তো প্রয়োজন ! কিন্তু এত নকল পরিচয়পত্র কোথা থেকে সরবরাহ হবে ?  সে'জন্যই সেখানে গজিয়ে উঠেছে জাল পরিচয়পত্র সরবরাহের দোকান। এমনকী মুদি দোকানেও বিক্রি হয় এই নকল পরিচয়পত্র। সেইজন্য এটাই সেখানকার 'অনুসারী শিল্প'। এক্ষেত্রে জেরক্স দোকান থেকেই নথি জাল হয় বলে মনে করছে পুলিশ।

কলকাতায় PayTm এর কেওয়াইসি করার নামে জালিয়াতির ঘটনায় গত পরশু ঝাড়খণ্ডের জামতারা গ্যাংয়ের ৫জনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। আপাতত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে জামতারা গ্যাং। লালবাজারের গোয়েন্দারা জামতারার এই অভিযুক্তদের জেরা করে জানতে পারেন, জাল নথি দিয়েই সিম কার্ড তুলে জালিয়াতি করে তারা। টাকা হাতানোর পর ফেলে দেওয়া হয় সিমকার্ড। কিন্তু এত সিমকার্ড তুলতে যে নথি প্রয়োজন তা কোথায় পাওয়া যায় ? জেরায় ধৃতের জানিয়েছে, এলাকার বিভিন্ন দোকানে টাকা দিলেই মেলে সিম তোলার জাল কাগজ। সম্প্রতি এরকম দোকান গজিয়ে উঠেছে। এমনকী, মুদি দোকান থেকেও এই কাগজ পাওয়া যায় বলে তারা জানিয়েছে। তবে যে কেউ গেলে মিলবে না এই কাগজ, জামতারা গ্যাং গেলে তবেই মিলবে।

গোয়েন্দারা জানিয়েছে, নিজেদের পরিচয় গোপন করতে আর পুলিশ যাতে তাদের খুঁজে না পায় সেজন্যই এরা জাল নথি দিয়ে তোলা সিম কার্ড তুলে দেশজুড়ে জালিয়াতি চক্র চালায়। তাই শুধু জাল নথি নয়, ভুয়ো নথি দিয়ে তোলা সিম কার্ডও মেলে জামতারার অলিগলিতে। তবে সেই সিম কার্ড পেতে দ্বিগুণ টাকা খরচ করতে হয়। ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে যা আয় হয় তাতে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে সিম তোলা জামতারা গ্যাংয়ের কাছে মামুলি ব্যাপার।

লালবাজার সূত্রে খবর, জামতারা গ্যাং আগে এটিএম কার্ডের বৈধতা শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গ্রাহককে ফোন করে ফাঁদে ফেলত। বোকা বানিয়ে গ্রাহকের থেকে ওটিপি জেনে নিয়ে টাকা তুলে নিত। দীর্ঘদিন এ'ভাবে চক্র চালানোর পর এখন তারা পদ্ধতি বদলেছে। পুরনো পদ্ধতিতে মানুষকে আর বোকা বানাতে না পেরে তারা এখন আধুনিক। তাই PayTm বা বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা প্রদানকারি সংস্থার নাম করে লোক ঠকাচ্ছে। লালবাজারের এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ' জামতারা গ্যাং কিছুদিন অন্তর নিজেদের পদ্ধতি বদল করে। যখন যে পদ্ধতিতে লোক ঠকানো সফল হয়, তখন গোটা জামতারা সেভাবেই লোক ঠকায়। এদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকে সচেতন হতে হবে। ব্যাঙ্কের নাম করে কেউ গ্রাহকের তথ্য চাইলে তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে।'

Sujoy Pal

First published: February 3, 2020, 9:17 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर