corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভারতীয় রাজনীতির 'চাণক্য' প্রণব মুখোপাধ্যায়

ভারতীয় রাজনীতির 'চাণক্য' প্রণব মুখোপাধ্যায়

২০১২ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের দু নম্বর জায়গায় ছিলেন প্রণব৷ প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ মন্ত্রকের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন৷ ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউপিএ-র মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি৷

  • Share this:

একটা দীর্ঘ সময় তাঁকে বলা হত, ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য৷ জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস যখনই বিপদে পড়েছে, ত্রাতা হিসেবে বারবার উঠে এসেছেন তিনি৷ ইউপিএ আমলে একের পর এক বিপদ থেকে সরকারকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন অত্যন্ত ক্ষুরধার রাজনৈতিক চালে৷ জাতীয় কংগ্রেসের  রাজ্যস্তরের নেতা থেকে ধাপে ধাপে পৌঁছেছিলেন একেবারে রাজনীতির শীর্ষে৷ দেশের ১৩তম রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷

ভারতীয় রাজনীতিতে বাঙালিদের দাপট নতুন নয়৷ সেই দাপুটে বাঙালি রাজনীতিবিদদের অন্যতম ছিলেন প্রণববাবু৷ দীর্ঘ ৫ দশক ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন৷ শুধু জাতীয় কংগ্রেসেই নয়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সখ্য ছিল সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বের৷ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রকের গুরু দায়িত্ব সামলেছেন সাফল্যের সঙ্গে৷

তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায় তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায়

১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভায় সাংসদ নির্বাচিত হন৷ তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈনিক হয়ে ওঠেন অচিরেই৷ ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন৷ ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা ছিলেন৷ কিন্তু প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির সঙ্গে প্রণববাবুর সম্পর্ক ভাল ছিল না৷ রাজীব-জমানায় তাই খানিক সাইড লাইনেই চলে গিয়েছেন তিনি৷ এতটাই সাইড লাইন যে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে পৃথক দল গড়েন৷ নাম দেন, রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস৷ ১৯৮৯ সালে অবশ্য রাজীব গান্ধির সঙ্গে একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছন প্রণব৷ জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায় প্রণবের দল রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস৷

এরপর ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধির হত্যাকাণ্ডের পরে প্রণববাবুর রাজনৈতিক জীবনের ফের উত্থান শুরু হয়৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসীমা রাও তাঁকে পরিকল্পনা কমিশনের প্রধান পদে নিযুক্ত করেন৷ পরে ১৯৯৫ সালে প্রণববাবু বিদেশমন্ত্রী হন৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায়-- ফাইল ছবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায়-- ফাইল ছবি

এরপর নানা কারণে নেতৃত্বের অভাবে ভুগতে থাকা কংগ্রেসকে ঘুরে দাঁড়াতে আসরে নামেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ ১৯৯৮ সালে রাজীব গান্ধির স্ত্রী সনিয়া গান্ধিকে দলের সভানেত্রী হওয়ার পরামর্শ দেন৷ ২০০৪ সালে যখন কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ ক্ষমতায় এল, সে বার প্রণববাবু প্রথমবার লোকসভা আসনে জয়লাভ করেন৷

এরপর ২০১২ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের দু নম্বর জায়গায় ছিলেন প্রণব৷ প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ মন্ত্রকের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন৷ ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউপিএ-র মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি৷ আরেক প্রার্থী পিএ সাংমাকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি৷ ২০১৯ সালে ভারত রত্ন সম্মানে ভূষিত হন৷

প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন সম্মান প্রদান করছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন সম্মান প্রদান করছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ

২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি৷ সে বছর জুলাইয়ে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়তে চাননি তিনি৷ বরং রাজনীতি থেকে অবসর নেন৷

২০১৮ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের একটি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে৷ কংগ্রেসকেও বেশ অস্বস্তিতে ফেলে৷ তা হল, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আমন্ত্রণে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন৷ প্রথম প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন তিনি৷

অনেক বিতর্ক, বিবাদের মধ্যেও প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতীয় রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম৷ বলা ভাল, স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতির নির্ভরযোগ্য দলিল৷ জননেতা হিসেবে কোনও দিনই তাঁর খুব খ্যাতি ছিল না৷ বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ থাকেননি৷ দিল্লির অলিন্দেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ৷ একটা দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয় সরকারের চালিকাশক্তি৷ সেই চাণক্যের জীবনাবসান৷ প্রণব মুখোপাধ্যায় আর নেই৷ একটি বিরাট রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ৷

Published by: Arindam Gupta
First published: August 31, 2020, 6:23 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर