'সে দিন রাতে ফিরে বলল, কিছু না, একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে,' বললেন হায়দরাবাদের ধর্ষকের মা

'সে দিন রাতে ফিরে বলল, কিছু না, একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে,' বললেন হায়দরাবাদের ধর্ষকের মা
এই জায়গাতেই চিকিত্‍সকের দেহ জ্বালিয়ে দেয় ধর্ষকরা

ভয়ে কেঁপে উঠছিলেন বৃদ্ধা৷ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, 'ঘটনার পর থেকে আমরা বাড়ির বাইরে বেরতে পারছি না৷ খুব ভয় করছে৷'

  • Share this:

#হায়দরাবাদ: মহিলা চিকিত্‍সককে ধর্ষণ করে খুন ও দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনায ফুঁসছে গোটা দেশ৷ এই পৈশাচিক ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের কীর্তিতে স্তম্ভিত তাদের পরিবারও৷ একই সঙ্গে তীব্র ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন ধৃত ৪ জনের পরিবার ও আত্মীয়রা৷ শিবা ও আরিফের পরিবার বিশ্বাস করতে পারছেন না, তাঁরা একজন নৃশংস অপরাধীকে এতদিন ধরে বড় করেছেন৷

জানা গিয়েছে, দু জনেরই বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়৷ শিবা ও আরিফ দুজনেই সংসারে ছিল একমাত্র রোজগেরে৷ তবু ছেলেদের উপযুক্ত সাজা চাইছেন বৃদ্ধ মা-বাবা৷ হায়দরাবাদ গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অন্যতম অপরাধী চেন্নাকেসাভুলুর বৃদ্ধ মায়ের কথায়, 'ওদের যা শাস্তি দেওয়ার দিন৷ আমারও এক মেয়ে রয়েছে৷ আপনারা ওকে ফাঁসি দিন, খুন করুন, গুলি করে দিন, পুড়িয়ে দিন৷ গত ৬ মাস ও কোনও কাজ করছিল না৷ অসুস্থ ছিল৷'

ভয়ে কেঁপে উঠছিলেন বৃদ্ধা৷ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, 'ঘটনার পর থেকে আমরা বাড়ির বাইরে বেরতে পারছি না৷ খুব ভয় করছে৷' শিবার পরিবারেরও দাবি, যা শাস্তি ইচ্ছে দেওয়া হোক তাঁদের ছেলেকে৷ আরিফের মা বলছেন, 'যে কোনও শাস্তি দিন৷ আমাদের কিছু বলার নেই৷ সে দিন রাতে ও বাড়িতে এসে বলল, একটা দুর্ঘটনা হয়েছে৷ কী ঘটেছে, কিছুই বলল না৷'

হায়দরাবাদের ঘটনায় ৪ অভিযুক্তই লরি চালক ও খালাসি৷ ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে বয়স৷ ২৯ নভেম্বর তাদের গ্রেফতার করা হয়৷

তেলেঙ্গনায় লাগাতার অত্যাচারে যন্ত্রণায় আতর্নাদ করতে থাকা চিকিৎসক তরুণীর চিৎকার বন্ধ করতে মুখে হুড়হুড় করে মদ ঢেলে দিয়ে চেপে ধরে চার ধর্ষক ৷ অভিযুক্তদের হাতের পাঞ্জার চাপে ছটফট করতে করতে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তরুণী ৷ তাঁর দেহ নিথর হয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখ থেকে হাত সরাননি অভিযুক্তেরা৷ তেলেঙ্গনা ধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তদের জেরা করে এমনই শিউরে ওঠা তথ্য পেয়েছে পুলিশ৷ তরুণী নিথর হয়ে যাওয়ার পর ট্রাকে করেই মৃতদেহ হায়দরাবাদের অদূরে চাতানপল্লির কাছে একটি কালভার্টের নীচে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৷ দেহ পোড়াতে ওই চিকিৎসক তরুণীর স্কুটি থেকেও বের করে নিয়ে আসা হয়েছিল ডিজেল ৷

Loading...

এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি, তরুণীর সঙ্গে দুজন যুবক এসে স্কুটিটি নিয়ে যায়। তরুণীও তাদের সঙ্গেই ছিলেন। সম্ভবত তাঁরা স্কুটি সারিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। স্কুটি সারাতে পাশের একটি দোকানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও বোনকে জানান ওই তরুণী। তারপরেই তাঁর মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

First published: 08:47:48 AM Dec 02, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर