মৃত মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাবা-মাকে মাঝপথে নামিয়ে দিল অ্যাম্বুলেন্স, পায়ে হেঁটে পাড়ি ৬ কিলোমিটার

হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যু হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে জোর করে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় বাবা-মাকে ৷

হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যু হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে জোর করে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় বাবা-মাকে ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #মালকানগিরি: ওড়িশার কালাহান্ডির দানামাঝি, উত্তরপ্রদেশের কানপুরের সুশীল কুমারের পর ফের মালকানগিরির এক অমানবিক দৃশ্য লজ্জিত করল মনুষ্যত্বকে ৷

    কোথাও স্ট্রেচার না পেয়ে বাবার কাঁধেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছেলে আর সেই ছেলে মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দৌড়ে বেড়ান বাবা ৷ কোথাও অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রী-র মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে পায়ে হেঁটে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হাঁটতে হয় স্বামী ৷ আবারও ওড়িশার মালকানগিরিতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ৷

    হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যু হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে জোর করে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় বাবা-মাকে ৷ দানামাঝির মতো হতভাগ্য এই খেমুডু দম্পতিকেও মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে ৬ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি পৌঁছাতে হয় ৷

    জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিল খেমুডু দম্পতির সাত বছরের মেয়ে বর্ষা খেমুডু ৷ অবস্থার অবনতি হওয়ায় মালকানগিরির মিঠালি হাসপাতাল থেকে মালকানগিরি জেলা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক ৷ অসুস্থ বর্ষাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার মধ্যেই মাঝ রাস্তাতেই থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে একরত্তি মেয়েটি ৷ বর্ষার শোকার্ত বাবা দীনবন্ধু খেমেডু জানান, মেয়ে মারা গিয়েছে জানতে পেরেই অ্যাম্বুলেন্স চালক তাদের নেমে যেতে বাধ্য করেন ৷

    আরও পড়ুন

    স্ট্রেচার না পেয়ে বাবার কাঁধেই মৃত অসুস্থ ছেলে

    মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে ৬ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেই ফিরতে হয় খেমেডু দম্পতিকে ৷ স্থানীয় মানুষেরা দীনবন্ধুর থেকে সমস্ত ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বিডিও এবং জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট করেন ৷ জেলা কালেক্টর, জেলার মুখ্য মেডিক্যাল আধিকারিককে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ৷ অভিযোগ, প্রমাণিত হল কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শাসক ৷

    অন্যদিকে, সপ্তাহখানেক আগেই টাকার অভাবে গাড়ি না পেয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে ৬৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন দানামাঝি ৷ তাঁর সঙ্গে ছিল ১২ বছরের মেয়ে ৷ অমানবিকতার এই দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দেশ ৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতর এই ঘটনার কথা জানতে পেরে ওড়িশা সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে ৷

    First published: