দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

OPINION: কৃষক বিক্ষোভকে কেন সাজানো মনে হচ্ছে?

OPINION: কৃষক বিক্ষোভকে কেন সাজানো মনে হচ্ছে?
Photo-PTI
  • Share this:

#দিল্লি: গত একমাস ধরে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখছে গোটা দেশ৷ দিল্লি সীমান্তে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক৷ তাঁদের দাবি, তিনটি নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে৷ অথবা বলা চলে, দেশের প্রতিটি জেলায় যাতে ফড়েদের দাপট অব্যাহত থাকে, সেই জন্যই যেন এই আন্দোলন৷

আর এখানেই প্রশ্ন? কেন নিজেদের আয়ের একাংশ ফড়েদের দিয়ে দিতেও রাজি কৃষকরা? তাছাড়া নতুন এই আইনগুলি কার্যকর থাকলেও কৃষকদের কাছে তো পুরোন নিয়মেই ফসল বিক্রির পথ খোলা থাকছে৷ বরং কৃষকদের কাছে ফসল বিক্রির নতুন একটি পথ খুলে যাচ্ছে৷ তাই এই আন্দোলনের যথার্থতা ঠিক স্পষ্ট হচ্ছে না৷

প্রথমত, এই সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল৷ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ইস্তেহারে একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কংগ্রেস৷ আম আদমি পার্টির ইস্তেহারেও একই দাবি করা হয়েছিল৷ ভারতীয় কিষান ইউনিয়নও বরাবর দাবি করে এসেছে, নিজেদের ফসল কৃষকদের যেখানে খুশি বিক্রির স্বাধীনতা থাকা উচিত৷ তাহলে এই বিক্ষোভ কেন?

এবার একটু উল্টো দিক দিয়ে বিষয়গুলি ভাবা যাক৷ এতদিন এই সংস্কারগুলির পক্ষে কথা বললেও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সরকারে থাকার সময় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেনি কেন? কারণ সম্ভবত তাদের উপরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপ ছিল যারা কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে৷ দশকের পর দশক ধরে দেশে মান্ডি এবং ফড়েদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই ব্যবস্থা চলে আসছে৷ ভারতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে৷ এর একটা সুতোয় টান পড়লে রাজনীতিক দলগুলির কাঠামোই ভেঙে পড়তে বাধ্য৷

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সামনের সারিতে থাকা অনেকেই বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলনকারী কৃষকদের ক্ষোভ রয়েছে৷ নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ভাবে বক্তব্য নেই তাঁদের৷ এই যুক্তিকে নেহাতই ভিত্তিহীন বলতে হয়৷ কারণ চলতি বছরে কৃষিক্ষেত্রে জিডিপি-র বৃদ্ধির হার ইতিবাচক৷ বর্ষাও এ বছর ভাল হয়েছে৷ কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতির অন্যান্য পরিমাপ গুলি যেমন ট্র্যাক্টরের বিক্রি এ বছর নয়া রেকর্ড সৃষ্টি করেছে৷ ফলে যে কারণগুলি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিতে পারে, তা এই মুহূর্তে চোখে পড়ছে না৷ সেই কারণেই কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে বিক্ষোভের অভিযোগ সামনে আসছে৷

ভারতে অবশ্য এই জিনিসটি কয়েকবছর ধরেই চলছে৷ ছোট, বড় যাই ঘটুক না কেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরে এমন ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চলছে যাতে মনে হয় দেশ কোনও সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে৷ নিট এবং জেইই পরীক্ষা নিয়ে বিক্ষোভে কীভাবে সুইডেন থেকে সমর্থন আসতে শুরু করেছিল অনেকেরই মনে আছে৷ বর্তমান কৃষক বিক্ষোভও যেন একই পথে এগোচ্ছে৷ বিহার, বাংলা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র বা তামিলনাড়ুর কথা না হয় ছেড়েই দিলাম৷ উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানেও এই আন্দোলনের বিশেষ প্রভাব পড়েনি৷ তা সত্ত্বেও ব্রিটেনের ৩৬জন সাংসদ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন৷

কারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং কারা এর ফলে উপকৃত হচ্ছে সেটা জানা প্রয়োজন৷ এই আন্দোলনে সবথেকে বেশি যে প্রতীক চোখে পড়ছে, তা হল কাস্তে এবং হাতুড়ির৷ ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেক কৃষিকাজের উপরে নির্ভরশীল৷ এই জনসংখ্যার যদি কোনও রাজনৈতিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়, তাহলে কি তাঁরা বামপন্থীদের দিকে ঝুঁকতেন? বামপন্থী দলগুলি তো অনেক দিন আগেই এ দেশে জনভিত্তি হারিয়েছে৷

এই বিক্ষোভ যতটা বড় আকারের বলে দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে বাধ্য৷ কারণ দেশের জনতার যে অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, বাস্তবের সঙ্গে তার অমিল রয়েছে৷ কারণ যদি ধরেও নেওয়া যায় ৬০ কোটি মানুষের জীবিকা সঙ্কটে পড়েছে আর তা নিয়েই ক্ষোভ, তাহলে এতদিনে দেশে অচলাবস্থা তৈরি হত৷ নতুন আইন পাশ হওয়ার পর সাত মাস কেটে গিয়েছে৷ এতদিনে মূলত একটি রাজ্য থেকেই ১০ হাজার মতো কৃষক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন৷ ফলে এই বিক্ষোভকারীরা গোটা দেশের কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা বলা যাবে না৷ কিন্তু যে সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন, গোটা পৃথিবীর সংবাদপত্রগুলিতে তা জায়গা করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট৷

তাহলে এই বিক্ষোভ থেকে কারা উপকৃত হয়েছেন? চিনের তুলনায় ভারতে অন্যতম সুবিধা হল, আমদের দেশ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে৷ যে কারণে গোটা বিশ্বই চিনের তুলনায় ভারত সরকারের পদক্ষেপে বেশি ভরসা রাখে৷ চিন চায়, গোটা বিশ্ব এটা বিশ্বাস করুক যে তাদের দেশের মতোই ভারতে সরকার বিরোধী ক্ষোভ দেখানোর কোনও সুযোগ নেই৷ যা একনায়তন্ত্রের সমান৷

চিনের এই স্বার্থ কি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা যায়? ভারতের বামপন্থীদের সঙ্গে চিনের সরকারের আঁতাতের সম্ভাবনা কি পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায়? এই বিক্ষোভ চলাকালীন বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে৷ বিশেষত ভারতীয় বড় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে৷ অথচ চিনা পণ্য বা সংস্থাকে বয়কট করার কোনও ডাক দেওয়া হচ্ছে না৷ আবার যাঁরা এই ধুয়ো তুলছেন, সেই অংশই চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা এবং আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন৷

এই ধরনের বিক্ষোভে বারবারই বিদেশি শক্তির হাত থাকার অভিযোগ ওঠে৷ অতীতে বিভিন্ন সরকার নিজেদের ঘাটতি ঢাকার জন্য বিদেশি শক্তির হাতকে ঢাল করেছে৷ তাই তারাও এখন দাবি করছে যে কৃষক বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির মদত আসলে একটা অজুহাত৷

লেখক- অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়৷

লেখক একজন গণিতজ্ঞ, কলামনিস্ট৷ মতামত সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: January 2, 2021, 2:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर