Abhishek Banerjee Tripura : ত্রিপুরার পা রেখেই পদে পদে বাধা! যাত্রাপথে কী হল, জানালেন সফরসঙ্গী...

'উন্নয়নের আশ্বাস নয়, চ্যালেঞ্জ'

Abhishek Banerjee Tripura : তৃণমূলের দাবি, গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন বিপ্লব দেব সরকার। তাই আগামী দিনে ত্রিপুরা-বাংলার পাশাপাশি দিল্লিতেও এই নিয়ে সর্বাত্মক বিক্ষোভের পথে হাঁটবে তৃণমূল কংগ্রেস।

  • Share this:

ত্রিপুরা : বঙ্গভোটে বিপুল জয়ের পর নতুন দায়িত্ব পেয়ে ত্রিপুরা সফরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ২০২৩-এ বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে ঘুঁটি সাজাতেই তাঁর এই সফর বলে রাজনৈতিক মহলের মত। সোমবার অভিষেকের সঙ্গে এই সফরে ছিলেন রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক। সঙ্গী ছিলেন সিএনএন নিউজ ১৮-এর প্রতিনিধিও।

দিনভর অভিষেকের একাধিক কর্মসূচি সাজানো ছিল উত্তর-পূর্বের এই ছোট্ট রাজ্যে। কিন্তু বাস্তবে কী হল? দেখা গেল এদিনের যাত্রা পথের শুরু থেকেই চরম বাধার সম্মুখীন হতে হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এক-আধবার নয়। সবমিলিয়ে দশ-দশবার বাধার মুখে পড়তে হল অভিষেকের কনভয়কে। দেখানও হল কালো পতাকা, হামলা চালানো হল তাঁর গাড়িতেও। প্রতি ১০০ মিটার অন্তর অন্তর নানা ভাবে বিক্ষোভের অছিলায় পথ রোধ করা হল অভিষেকের।

এই পথরোধকে কার্যত গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ বলেই আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম সফরে এইভাবে তাঁকে প্রতি পদে পদে বাধা দেওয়ার ঘটনা একইসঙ্গে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন অভিষেক। কোনও কারণ ছাড়াই এইভাবে তাঁর রাস্তা রোধ করাকে 'অপ্রীতিকর' বলেই মনে করছেন অভিষেক। যাবতীয় বাধার পরেও এদিন ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন অভিষেক। বেশ কিছু জায়গায় গাড়ি থেকে নেমে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। করেন সাংবাদিক বৈঠকও। যে বৈঠকে অভিষেকের দাবি, "দুয়ারে দুয়ারে গুন্ডা নয়, দুয়ারে সরকার পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য তৃণমূল কংগ্রেসের।”

কিন্তু এইভাবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তাঁর প্রথম সফরে বাধা দেওয়ার এই গোটা ঘটনায় চরম ধিক্কার জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা বাংলায় ত্রিপুরার লজ্জার নিদর্শন হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে একইসঙ্গে এর শেষ দেখার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিচ্ছেন তাঁরা। তৃণমূলের দাবি, গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন বিপ্লব দেব সরকার। তাই আগামী দিনে ত্রিপুরা-বাংলার পাশাপাশি দিল্লিতেও এই নিয়ে সর্বাত্মক বিক্ষোভের পথে হাঁটবে তৃণমূল কংগ্রেস।

আর তাৎপর্যপূণভাবে তৃণমূলের এই বিক্ষোভে তাঁদের হাতের অন্যতম ট্রাম কার্ড হতে চলেছে সেইসব ইস্যুই যে ইস্যুতে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে সোচ্চার হয়েছিল গেরুয়া শিবির। যার অন্যতম প্রধান হল বহিরাগত প্রসঙ্গ। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, যে বহিরাগত ইস্যুতে আজ অভিষেককে বা তাদের দলকে কোনঠাসা করতে চাইছে বিজেপি সরকার কিছুদিন আগে সেই বহিরাগত ইস্যুতেই কিন্তু বাংলায় সরব হয়েছিল সেই বিজেপি। এক্ষেত্রে বিজেপির দু-মুখো নীতিই প্রকট হচ্ছে বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

একইসঙ্গে বাংলা রাজ্য ত্রিপুরায় বাঙালি রাজনৈতিক দলের এহেন অপমানকে কোনওভাবেই কম গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। যে একভাষা একজাতি তত্বে বাধা বাংলা ত্রিপুরা সেই অনুভূতিতেও চরম আঘাত হানা হয়েছে বলেই মনে করছেন তারা। আর ঠিক সেখান থেকেই তৃণমূলের হাতে উঠে আসছে ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের দ্বিতীয় তুরুপের তাসটি। ত্রিপুরা-বাংলা তথা দিল্লির আগামীদিনের প্রতিবাদ বিক্ষোভে তারা জিগির তুলবে বিজেপির বাঙালি বিরোধীতা নিয়েও। কাজেই সবমিলিয়ে ত্রিপুরায় তাঁদের আজ যে বাধা দেওয়া হল আগামী দিনে সেই বাধাই তাঁদের যাত্রাপথ আরও মসৃন করে তুলবে বলে মনে করছেন অভিষেকরা।

প্রতিবেদন : কমলিকা সেনগুপ্ত

Published by:Sanjukta Sarkar
First published: