দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘এই ইস্যুতে কোনও রাজনীতি চলতে পারে না, দোষীদের ফাঁসিতে ঝোলাও’, যন্তরমন্তরে হাতরসের প্রতিবাদ সভায় মন্তব্য কেজরির

‘এই ইস্যুতে কোনও রাজনীতি চলতে পারে না, দোষীদের ফাঁসিতে ঝোলাও’, যন্তরমন্তরে হাতরসের প্রতিবাদ সভায় মন্তব্য কেজরির

হাতরসকাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ মিছিলে ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে সামিল হন আপ সু্প্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: হাতরসের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা প্রতিবাদ সভায় দাঁড়িয়ে দোষীদের চরম শাস্তির সওয়াল করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৷ তিনি বলেন, ‘হাত জোড় করে সরকারের কাছে অনুরোধ দোষীদের ফাঁসিতে ঝোলান৷ হাতরসের মতো নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে ৷ এই নিয়ে দয়া করে রাজনীতি করবেন না ৷ হাতরসের মতো নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে ৷’

হাতরসকাণ্ডের ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় রাজনীতি ৷ দেশ জুড়ে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ-মিছিল ৷ উত্তাল রাজধানীও ৷ হাতরসকাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ মিছিলে ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে সামিল হন আপ সু্প্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ৷ শখানেক লোকের এই প্রতিবাদ সমাবেশে এসে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমরা সুবিচারের লক্ষ্যে এখানে জড়ো হয়েছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, মেয়েটির আত্মা যেন শান্তি পায়। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এমন নৃশংস অপরাধের জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ না ঘটাতে পারেন ৷

হাতরসের প্রতিবাদে ট্যুইটারে গর্জে ওঠেন ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর ৷ বলেছন, ‘আমি হাতরসে যাব। কিন্তু যতক্ষণ না উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন এবং অন্যায়ের সুবিচার হচ্ছে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ, এই ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।’

দিল্লির বাল্মিকী মন্দিরের প্রার্থনা সভা থেকে প্রতিবাদে সামিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধিও ৷ তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করব। দেশের প্রতি মহিলা যেন চাপ তৈরি করেন। আমাদের বোনের ন্যায় চাই। পরিবারের লোক দাহ করতে পারবে না এটা আমাদের পরম্পরা নয়।’

হাতরসে নির্যাতিতার গ্রামে এখন কারোর প্রবেশাধিকার নেই ৷ এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ বৃহস্পতিবার হাতরসে পৌঁছনোর আগে রুখে দেওয়া হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকেও ৷ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ রাহুল গান্ধির কনভয় আটকালে গাড়ি থেকে নেমে কথা বলতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস অধ্যক্ষ ৷ অভিযোগ, সেসময় রাহুল গান্ধিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পুলিশ কর্মীরা ৷

যোগী সরকারকে একহাত নিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি একটি ভার্চুয়াল বিবৃতিতে বলেন, "আপনি প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন? এক ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে এ কেমন ব্যবহার? একজন মা তাঁর মৃত সন্তানের দেহ বাড়ি নিয়ে যেতে পারল না। আপনার সরকার কী ভাবে এত অমানবিক হয়?" ট্যুইটারে সরব হন রাহুল গান্ধিও। তাঁর মতে, উত্তরপ্রদেশে জঙ্গলরাজ চলছে। তিনি লেখেন, "বিজেপি সরকার দলিতদের দমিয়ে রাখছে। এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই ।

একদিনে সমলোচনার ঝড়, অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন। ব্যাকফুটে পড়ে আদিত্যনাথ সরকার সিট গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে রিপোর্টও দেবে সিট। ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে সেই মামলার শুনানি হবে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন যোগী। কিন্তু প্রশ্ন থাকছেই। কেন এতদিন লেগে গেল সিট গঠন করতে? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন নীরব আদিত্যনাথ? আগুনে ঘি ঢেলেছে নির্যাতিতার মায়ের বয়ান। তিনি বলছেন, চোখের দেখা দেখতে না দিয়ে জোর করে পুলিশ দেহ দাহ করে দিয়েছে।

২০ বছরের হাতরসের দলিত কিশোরী মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে গণধর্ষণ ও নৃশংস নির্যাতনের কথা জানিয়ে গিয়েছেন ৷ অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত ছিল ওই কিশোরীর শরীর ৷ জানা গিয়েছে, মেরে শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়া হয় তরুণীর, কেটে ফেলা হয় জিভ ৷ গলার কাছে হাড়ও ছিল ভাঙা ৷ অত্যাচারে পক্ষাঘাত হয়ে পড়েছিল ওই কিশোরীর শরীর ৷

Published by: Elina Datta
First published: October 2, 2020, 9:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर