ভোটের ১৫ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কতটা জরুরি ? খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন নির্বাচন কমিশনের

ভোটের ১৫ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কতটা জরুরি ? খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন নির্বাচন কমিশনের
নরেন্দ্র মোদি ৷-ফাইল চিত্র ৷
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বুধবার সকালেই ট্যুইট করে জানানো হয়েছিল তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ৷ আর সেই মতো গতকাল ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সেখানে তিনি ‘মিশন শক্তির’কথা জানান ৷ সেই অভিযানে কোনও দেশের ক্ষতি করা ভারতের উদ্দেশ্য নয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী ৷

তবে এই ভাষণ দেওয়ার পর খানিকটা বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদি ৷ বুধবার সকালবেলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে সরকারিভাবে ভারতের অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিশাইল পরীক্ষার কথা জানান। তারপর থেকেই বিরোধীরা সরব হয়েছিলেন এই বলে যে, নির্বাচন কমিশনের বিধিলঙ্ঘন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা এই দাবিও করেন যে, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঘোষণাকে ব্যবহার করেছেন নরেন্দ্র মোদি। আর মাত্র দু'সপ্তাহ বাকি লোকসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার। তার আগে মোদীর এই ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের মডেল কোড অব কনডাক্ট লঙ্ঘন করারই সমতূল্য। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির জন্য কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না তার তালিকা করে নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

বিরোধীদের এই অভিযোগ জমার পর নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশনও ৷ লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই মিশন শক্তির ঘোষণা কি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করছে? তেমনই মনে করছে নির্বাচন কমিশন৷ মোদির এই ঘোষণাকে খতিয়ে দেখছে তাঁরা৷ বৃহস্পতিবার থেকে এই বিষয়ে কাজ শুরু করবে কমিশন৷

কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার জাতির উদ্দ্যেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ নিয়ে রিপোর্ট এসেছে৷ সেখানে অভিযোগ জানানো হয়েছে৷ এই ভাষণ নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে৷ কমিশন এই ইস্যুতে একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে৷ তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

উল্লেখ্য, মোদির এই ভাষণ দেওয়ার পরেই সিপিআইএমের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থার দাবি করে একটি লিখিত অভিযোগ কমিশনে পাঠানো হয়৷ সেখানে লোকসভা ভোটের আগে মোদীর ভাষণকে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা হয়৷ চিঠিতে বলা হয়, চারদিকে যখন নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক প্রচার চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ভাষণ বিজেপির প্রচারেরই সামিল৷ মোদী নিজেই যখন প্রার্থী, তখন এই ধরণের ভাষণ নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করছে৷

তবে কমিশন সূত্রে খবর, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খাতিরে এই ভাষণ হলে তা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের আওতায় নাও পড়তে পারে৷ সেক্ষেত্রে মোদীর ভাষণের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ৷ সে ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অথবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে মোদির ভাষণের প্রতিলিপি চেয়ে পাঠানো হতে পারে৷

First published: March 28, 2019, 8:21 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर