প্রাণী মৃত্যুতে শীর্ষে থাকা দিল্লি চিড়িয়াখানায় আসতে চলেছে নতুন বাসিন্দারা

প্রাণী মৃত্যুতে শীর্ষে থাকা দিল্লি চিড়িয়াখানায় আসতে চলেছে নতুন বাসিন্দারা
এই চিড়িখানায় বর্তমানে ৮৩টি প্রজাতি রয়েছে, জীবজন্তুর সংখ্যা বাড়াতে আরও ১০টি প্রজাতিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

এই চিড়িখানায় বর্তমানে ৮৩টি প্রজাতি রয়েছে, জীবজন্তুর সংখ্যা বাড়াতে আরও ১০টি প্রজাতিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: একের পর এক বাসিন্দার মৃত্যু-পাক্কা দু' বছর ধরে দিল্লি চিড়িয়াখানা শুধু এ কারণেই জায়গা করে নিয়েছিল খবরের হেডলাইনে। দেশ জুড়ে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠনগুলিও দিল্লি চিড়িয়াখানার জীবজন্তুদের এই মৃত্যুর কারণে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এখন অবশ্য এই মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণের জন্য একটি গন্ডার, একটি বাঘিনী এবং কুমির সমেত প্রায় দশের বেশি প্রজাতিকে দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানা থেকে দিল্লি চিড়িয়াখানা নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে চলেছে। অবশ্য এর জন্য দিল্লি চিড়িয়াখানাকেও নিজেদের কাছে থাকা বেশ কিছু পশু-পাখি ওইসব চিড়িয়াখানাগুলিকে দিতে হবে। সম্প্রতি খোদ দিল্লি চিড়িয়াখানা সূত্রেই জানা গিয়েছে এ কথা।

    দিল্লি জু-এর ডিরেক্টর রমেশ পাণ্ডে জানান, চিড়িয়াখানার পশু মৃত্যুর হার গত ছয় মাসে ৪৫% কমেছে। এই চিড়িখানায় বর্তমানে ৮৩টি প্রজাতি রয়েছে, জীবজন্তুর সংখ্যা বাড়াতে আরও ১০টি প্রজাতিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

    গত বছরে দিল্লি জুলজিকাল পার্কের একমাত্র অবশিষ্ট চিঙ্কারাটি মারা যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এই বছর ঠিক করে, চন্ডিগড়ের ছতবির জু থেকে পাখির বিনিময়ে দু' জোড়া চিঙ্কারা নিয়ে আসা হবে। চিড়িয়াখানায় আগে অনেকগুলি চিঙ্কারা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সেগুলির মৃত্যু ঘটে।


    উত্তরপ্রদেশ ও পাটনা থেকে একটি বাঘিনী এবং গন্ডার নিয়ে আসা হবে বলেও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে দিল্লি জুলজিকাল পার্কে দুটি নারী গন্ডার রয়েছে যেখানে পাটনা জু-এর গন্ডার সংখ্যা ১২। লখনউ এবং মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক ট্রাস্ট থেকে ঘড়িয়াল এবং কুমির নিয়ে আসার কথাও চলছে বলে দিল্লি চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে।

    দিল্লি চিড়িয়াখানায় জিরাফ এবং জেব্রার দেখা এত দিনেও কেন মেলেনি? পান্ডে জানান, কিছুটা সময় লাগলেও চেষ্টা চলছে এই দুই প্রাণী প্রজাতিকেও চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসার।  তাঁর মতে, নিজেদের মধ্যে লড়াই এবং সময়ের আগে জন্মানোর জন্যই এই চিড়িয়াখানায় পশু মৃত্যুর হার এত বেশি।

    তাঁর দাবি পুরো মিথ্যাও নয়। সেন্ট্রাল জু অথরিটির গাইডলাইন অনুসারে বড় চিড়িখানাগুলির একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একই প্রজাতির ২০টি পশু থাকতে পারে।  সেখানে দিল্লি চিড়িয়াখানাতে ২৫০টি কৃষ্ণসার হরিণ, ১৫০টি হরিণ, ৬০টি সম্বর, এবং ৪০টি নীলগাই রয়েছে।

    পান্ডে আরও জানান, গত ছয় মাসে চিড়িয়াখানার প্রায় ৬৫টি জানোয়ার মারা গিয়েছে। গত বছরে এই মৃত্যু সংখ্যা ছিল ১২০-রও বেশি। কিছু দিন আগে ফুসফুস সংক্রমণে দুটি নারী বেবুনের মৃত্যু হয়েছে। এখন চিড়িয়াখানাতে মাত্র তিনটি বেবুন পড়ে রয়েছে।

    স্বাভাবিক ভাবেই দুই বছর ধরে দিল্লি চিড়িয়াখানার পশুমৃত্যুর এই অস্বাভাবিক হার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। কিডনির অসুস্থতায় ১৪ বছরের বাঘিনী কল্পনা এপ্রিলে মারা যায়। ওই মাসেই একটি মেয়ে ঘড়িয়ালেরও মৃত্যু ঘটে। চলতি সেপ্টেম্বরে বছর আটেকের বাঘ রামাও মারা যায় কিডনির অসুস্থতায়। অজ্ঞাত কারণে গত বছর একটি প্লাম-হেড প্যারোটেরও মৃত্যু হয়। এই বিশেষ প্রজাতির দু'জোড়া টিয়াপাখির মধ্যে প্রথমটার সাপের আক্রমণে আগেই প্রাণ গিয়েছিল।

    চিড়িয়াখানার শেষ ক্যাসোয়ারি পাখিটিও কিছু দিন আগে মারা যায়। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ গিনির বাসিন্দা এই পাখি পৃথিবীর সব থেকে হিংস্র পক্ষী প্রজাতি হিসাবে পরিচিত। দেশের হাতেগোনা কয়েকটি চিড়িয়াখানায় এই পাখির দেখা মেলে। সব মিলিয়ে মাত্র ৪-৫ টি ক্যাসোয়ারি পাখি দেশের ওই ক'টি  চিড়িয়াখানাগুলিতে ঘুরলে দেখতে পাওয়া যাবে। সে দিক থেকে দেখলে এখনও পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণটাই বেশি। তাও যে জীবন আর মৃত্যুর ভারসাম্য রক্ষায় উদ্যোগী হয়েছে দিল্লি চিড়িয়াখানা, সেটাই যা আশার কথা!

     

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published:

    লেটেস্ট খবর