corona virus btn
corona virus btn
Loading

Delhi Violence| বাড়িগুলিতে আগুন ধরিয়ে ওরা বলল, 'ছবি তুলবেন না, জাস্ট এই দৃশ্য এনজয় করুন'

Delhi Violence|  বাড়িগুলিতে আগুন ধরিয়ে ওরা বলল, 'ছবি তুলবেন না, জাস্ট এই দৃশ্য এনজয় করুন'
আগুন জ্বলছে দিল্লিতে

বাড়িগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে ভিড়টি গর্বের সঙ্গে চিত্‍কার করতে করতে চলে গেল৷ তখন আমাদের বলে গেল, 'এ বার একটা ছবি তুলতেই পারেন৷ কিন্তু একটাই৷'

  • Share this:

Runjhun Sharma

#নয়াদিল্লি: আমার মনে হল, যেন কোনও সিনেমা দেখছি৷ ওই দৃশ্য ভয়াবহ৷ শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল৷ মানুষের হাতে খোলা তলোয়ার, লোহার রড, হকি স্টিক, অনেকেরই মাথায় হেলমেট৷ চিত্‍কার করছে, 'জয় শ্রীরাম৷' চোখের সামনে দিল্লি হিংসার ভয়াবহতা দেখলেন News18-এর সাংবাদিক রুনঝুন শর্মা৷ সেই ভয়াবহতা তুলে ধরলেন কলমে৷

রুনঝুন জানালেন, বাড়িগুলিতে যখন ওই ভিড় ঢুকছে, শুনতে পাচ্ছি, ভিতরে চিত্‍কার৷ কিছু মিনিট পরে, আমি দেখলাম বাড়িগুলির জানলা থেকে আগুনের শিখা লকলক করছে৷ একটি বড় নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি৷ উত্তর-পূর্ব দিল্লির খাজুরি খাস এলাকায়৷ আমার সঙ্গে আরও দু জন সাংবাদিক ছিলেন৷

আমাদের ওই ঘটনার ভিডিও শ্যুট করতে বারণ করা হল৷ ছবি তোলাও বারণ৷ ভিড়ের মধ্যে কিছু লোক বলল, 'পকেট থেকে ফোন বের করবেন না৷ জাস্ট এনজয় করুন এই দৃশ্য৷' আমাদের সামনে, পিছনে গলিগুলিতে ইট ছোড়া চলছে৷ আমরা কাছে যেতে পারছি না৷ শুধু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক৷ আমরা শুধুই দেখছি৷ বাড়িগুলো জ্বলছে৷ চোখের সামনে৷ কিছু কিলোমিটার দূরে পুলিশ দাঁড়িয়ে৷ আশ্চর্য লাগল, ওরা কেউ ঘটনাস্থলের ধারেকাছেও এল না৷ সাংবাদিকদের কাছে খবর চলে আসছে, পুলিশের কাছে নেই, এটা বিশ্বাস করা যায় না৷

বাড়িগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে ভিড়টি গর্বের সঙ্গে চিত্‍কার করতে করতে চলে গেল৷ তখন আমাদের বলে গেল, 'এ বার একটা ছবি তুলতেই পারেন৷ কিন্তু একটাই৷'

আমরা যখন আরেকটি জায়গায় গেলাম, পুরনো মৌজপুরের কাছে, দেখলাম, হাতে অস্ত্র নিয়ে একটি ভিড় হেঁটে চলেছে৷ ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও৷ পুরনো মৌজপুরের কাছে আরেকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর চালাল ওরা৷ ২০০-৩০০ জনের একটি ভিড় ভাঙল৷ তারপর আগুন ধরিয়ে দিল৷ আমার সঙ্গে NDTV-র আরও দু জন রিপোর্টার ছিলেন, সৌরভ শুক্লা ও অরবিন্দ গুণশেখর৷ আমরা আমাদের গাড়ি থামালাম৷ এটা মূল রাস্তা নয়৷ কাছাকাছি ফ্লাইওভারও নেই৷ আমরা দেখলাম, কপালে তিলক কাটা পুলিশ অস্ত্রধারী ওই লোকগুলিকে বাইকে করে পৌঁছে দিচ্ছে৷

অরবিন্দ তাঁর মোবাইলে ওই দৃশ্য রেকর্ড করা শুরু করল৷ বুক-পকেটে ছিল মোবাইলটা৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখলাম, হাতে লোহার রড, হকিস্টিক নিয়ে প্রায় ৫০ জন আমাদের দিকে তেড়ে আসছে৷ আমরা ওদের হাতজোড় করে বললাম, 'আমাদের ক্ষমা করুন৷ ভুল হয়ে গিয়েছে৷ আমরা সাংবাদিক৷' কোনও কিছু কাজে দিল না৷ অরবিন্দকে মারতে শুরু করল৷ দেখলাম, আরও ভিড় তেড়ে আসছে৷

সৌরভ শুক্লা আর আমি হাতজোড় করে বললাম, আমাদের ছেড়ে দিন৷ অরবিন্দকে বেধড়ক মেরে, ওরা ওঁকে দিয়ে মোবাইলের সব ছবি, ভিডিও ডিলিট করালো৷ তারপর ছাড়ল৷ অরবিন্দের তখন মুখ ফেটে রক্ত বেরচ্ছে৷ একটা দাঁত ভেঙে গিয়েছে৷

আমি আর অরবিন্দ যখন আমাদের গাড়িতে এসে পৌঁছলাম, আরও ভয়াবহতা টের পেলাম৷ আমাদেরই মধ্যে থাকা আরও একজন রিপোর্টারকে ওরা ধরেছে৷ সৌরভ শুক্লা৷ সৌরভকে ওরা বলছে, সব এক্ষুনি ডিলিট কর ফোন থেকে৷ না হলে ফোন আগুনের মধ্যে ফেলে দেব৷

আমরা ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে এলাম৷ আমার ফোনটিও আমার প্যান্টের পকেটই ছিল৷ ওদের বললাম, গাড়িতে আছে৷ ওরা আমায় সার্চ করেনি৷ তারপর ওরা আমাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাইল৷ আমি ওদের প্রেস কার্ড দেখালাম৷ সেখানে আমার বদবী লেখা ছিল, শর্মা৷ সৌরভ ওঁর রুদ্রাক্ষের মালাটি বের করে দেখাল৷ অনেক ক্ষণ ওদের হাতেপায়ে ধরে থেকে, তারপর ওরা আমাদের ছাড়ল৷ যাওয়ার আগে আবার চিত্‍কার করল, 'জয় শ্রীরাম৷'

First published: February 26, 2020, 2:17 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर