Home /News /national /
Delhi University Syllabus : মহাশ্বেতা দেবীর 'দ্রৌপদী' বাদ পড়ল কেন? বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যালেঞ্জ কাউন্সিলের সদস্যদের...

Delhi University Syllabus : মহাশ্বেতা দেবীর 'দ্রৌপদী' বাদ পড়ল কেন? বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যালেঞ্জ কাউন্সিলের সদস্যদের...

পাঠ্যক্রমে বাদ মহাশ্বেতা দেবীর 'দ্রৌপদী'

পাঠ্যক্রমে বাদ মহাশ্বেতা দেবীর 'দ্রৌপদী'

Delhi University Syllabus : দিনকয়েক আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারসাইট কমিটির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা দেশ। কমিটির এই সিদ্ধান্তকে কার্যত

  • Share this:

#নয়াদিল্লি :কেন মহাশ্বেতা দেবীর (Mahasweti Devi) 'দ্রৌপদী' (Draupadi) অস্বস্তিতে ফেলেছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (Delhi University) কর্তৃপক্ষকে? শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের  (Delhi University) পাঠ্যক্রম থেকে মহাশ্বেতা দেবীর গল্প সরিয়ে দেওয়া অসহিষ্ণুতার অন্যতম লক্ষণ যা দিন দিন বাড়ছে এদেশে।

দ্রৌপদী (Draupadi) আমাদের সামনে ভয়ঙ্কর যৌন অত্যাচার, জাতি বিদ্বেষের বাস্তবিক নির্মমতা এবং সমাজের তথাকথিত নিচু শ্রেণীর মানুষের প্রতিরোধের ছবি তুলে ধরে। প্রায় এক মাস আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) এক মহিলা অধ্যাপক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরের পাঠ্যসূচি থেকে দ্রৌপদী গল্পটি তুলে নিতে পারে একাডেমিক কাউন্সিল। ওই অধ্যক্ষের আশঙ্কা সত্যি হয় গত ২৪ অগাস্ট।

সেদিন ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি বা জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করার সময়  মহাশ্বেতা দেবীর 'দ্রৌপদী' গল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বহু মানুষ হতবাক হয়েছেন। কারণ ১৯৯৯ সাল থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের ইংরেজি পাঠ্যসূচিতে ছিল মহাশ্বেতা দেবীর দ্রৌপদী গল্পটি। প্রায় দু-দশক ধরে একটি গল্প পাঠ্যসূচিতে থাকার পর হঠাৎ কি এমন ঘটল, যাতে নীতিনির্ধারকরা গল্পটি সরিয়ে দিলেন?

তিনি যে মতাদর্শের মানুষই হোক না কেন মহাশ্বেতা দেবীর কাজ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে গভীর ভাবে মিশে গিয়ে তাঁর দীর্ঘ জীবন যাপন এবং তাঁর লেখা গল্প, উপন্যাস সমস্ত সরকার এবং সমস্ত মতাদর্শের উর্ধ্বে থেকেছে। সমাজের অন্তজ শ্রেণীর মানুষের লড়াই গোটা বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে নকশাল উত্থানের বিরুদ্ধে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক মেয়ে দোপদীকে কেন্দ্র করে দ্রৌপদী গল্প(অনুবাদক গায়েত্রী চক্রবর্তী) লিখেছিলেন। গল্পের শেষ হয়েছিল দ্রৌপদীর দৃঢ় উক্তি এবং দৃঢ়চেতা এক ছবি দিয়ে।

চলতি মাসের গোড়ায় ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতির এন ভি রামণ বলেছেন, "এদেশে থানা গুলিতেই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।" বিচার ব্যবস্থার শীর্ষ স্থানে বসে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য পড়ুয়াদের সামনে এই সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরা।

যদিও ওভারসাইট কমিটির এই সিদ্ধান্তকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ১৫ জন সদস্য। কমিটির কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করে একটি নোট দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চম সেমেস্টারে ইংরেজির এলওসিএফ(লার্নিং আউটকাম বেসড ক্যারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক) সিলেবাসে সব চেয়ে বেশি যথেচ্ছাচার করেছে ওভারসাইট কমিটি। এর আগে প্রথমে দুই দলিত সম্প্রদায়ের লেখক, বামা ও সুখরথারিনির লেখা সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরিবর্তে উঁচু জাতের লেখক রমাবাইয়ের লেখাকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, এরপর হঠাৎ করেই ইংরেজি বিভাগ মহাশ্বেতা দেবীর লেখা আদিবাসী মহিলার জীবন অবলম্বনে গল্প ‘দ্রৌপদী’-কে সিলেবাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই বাদ দিয়েছে কমিটি।

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের অভিযোগ, ১৯৯৯ সাল থেকে এই গল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে রয়েছে। এই গল্পটির শিক্ষাগত গুণাগুণের জন্যই এতদিন ধরে এই গল্পটি পড়ানো হয়ে এসেছে। কিন্তু এই গল্পের বদলে মহাশ্বেতা দেবীর মতো সাহিত্য একাডেমি, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও পদ্মবিভূষণ প্রাপ্ত লেখিকার অন্য কোনও গল্প সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

Published by:Sanjukta Sarkar
First published:

পরবর্তী খবর