Home /News /national /
সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি, সরকারের মত জানতে চাইল দিল্লি হাইকোর্ট

সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি, সরকারের মত জানতে চাইল দিল্লি হাইকোর্ট

বিচারপতি নবীন চাওলা নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেন, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ করার জন্য ফেসবুক, ট্যুইটার এবং গুগলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হবে সরকারকে৷ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স মন্ত্রককে পদক্ষেপ করতে বলেছে আদালত৷ Photo-File

বিচারপতি নবীন চাওলা নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেন, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ করার জন্য ফেসবুক, ট্যুইটার এবং গুগলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হবে সরকারকে৷ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স মন্ত্রককে পদক্ষেপ করতে বলেছে আদালত৷ Photo-File

প্রথম মামলাটি দায়ের করেন কবিতা অরোরা (৪৭) এবং অঙ্কিতা খান্না (৩৬) নামে দুই মহিলা৷ তাঁদের দাবি, গত আট বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে রয়েছেন৷

  • Share this:

    #দিল্লি: সমকামী বিয়েকে বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দুই যুগল৷ তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবার কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি সরকারের জবাব তলব করল আদালত৷ আবেদনকারীদের দাবি, তাদের ভারতীয় আইনে তাদের বিয়েকে স্বীকৃতি না দেওয়া হলে তা তাঁদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে৷

    বিচারপতি রাজীব সহায় এন্ডল এবং বিচারপতি আশা মেননের ডিভিশন বেঞ্চ দুই সরকারের কাছে এই নোটিস পাঠিয়েছেন৷ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি৷ মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী রাজকুমার যাদব এই দাবি করেন, এমন অদ্ভুত পরিস্থিতি ৫০০০ বছরের সনাতন ধর্মের ইতিহাসে কখনও তৈরি হয়নি৷ তার জবাবে দুই বিচারপতি বলেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা গোঁড়ামি এবার ঝেড়ে ফেলতে হবে৷

    বিচারপতি মেনন বলেন, 'আমাদে গোঁড়ামি থেকে সরে আসতে হবে৷ দেশের সব আইনই লিঙ্গ নিরপেক্ষ৷ যাঁরা সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাঁদেরকে দয়া করে আইনটা বোঝানোর চেষ্টা করুন৷ কোনও শত্রুতা বা বিরোধিতা থেকে এই মামলা দায়ের হয়নি৷ এটা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারের প্রশ্ন৷' এর পরই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আদালতে তাদের কৌঁসুলি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন৷'

    প্রথম মামলাটি দায়ের করেন কবিতা অরোরা (৪৭) এবং অঙ্কিতা খান্না (৩৬) নামে দুই মহিলা৷ তাঁদের দাবি, গত আট বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে রয়েছেন৷ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা দুই মহিলা আদালতে করা আবেদনে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা পরস্পরকে ভালবাসলেও দু' জনেই মহিলা হওয়ায় বিয়ে করতে পারছেন না৷ এই আবেদনটি দেখে ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, 'আর পাঁচজনের মতো এই যুগলও একই রকম৷ শুধু একটাই পার্থক্য, তাঁরা দু'জনেই মহিলা৷'

    অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন বৈভব জৈন এবং পরাগ বিজয় মেহতা নামে দুই যুবক৷ বৈভব ভারতীয় নাগরিক হলেও পরাগের কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেনশিপ রয়েছে৷ ২০১৭ সালে আমেরিকায় তাঁদের বিয়ে হয়৷ যদিও এ বছর ভারতীয় দূতাবাস ১৯৬৯ সালের ফরেন ম্যারেজ অ্যাক্ট-এর উল্লেখ করে এই বিয়ে মানতে অস্বীকার করে৷

    এই যুগলের অভিযোগ, ২০১২ সাল থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে৷ তাঁদের পরিবার, বন্ধুরা এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছে৷ কিন্তু দেশের আইনে স্বীকৃতি না মেলায় করোনা অতিমারির মধ্যে বিবাহিত হিসেবে তাঁরা দেশে আসতে পারেননি৷ মামলাকারীরা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের ভেদাভেদ এলজিবিটি যুগলদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এবং তাঁদের বিবাহিত সম্পর্ককে পূর্ণতা দেওয়া ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে৷ এর পাশাপাশি অন্য মামলাকারী দুই মহিলা অভিযোগ করেছেন, জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্বাস্থ্য বিমা করানো, অ্যাড্রেস প্রুফ আদায় করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের৷ এমন কি তাঁরা সরকারি ভাবে বিয়ে করতে গেলেও করতে পারেননি৷ যা ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশিকার পরিপন্থী বলেই অভিযোগ ওই যুগলের৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    পরবর্তী খবর