corona virus btn
corona virus btn
Loading

লেহ থেকে দিল্লি!‌ সন্তানকে বুকের দুধ পৌঁছে দিতে রোজ যাত্রা এক হাজার কিলোমিটার

লেহ থেকে দিল্লি!‌ সন্তানকে বুকের দুধ পৌঁছে দিতে রোজ যাত্রা এক হাজার কিলোমিটার

৩৩ বছরের জিকমত ওয়াংড়ুসের একমাত্র সন্তান জন্মের পর থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত।

  • Share this:

#‌নয়াদিল্লি:‌ এ যেন এক রূপকথার গল্প!‌ যেন স্বপ্ন। ছোট্ট সন্তান, মাতৃদুগ্ধ ছাড়া বাঁচবে না। তাই রোজ, লেহ থেকে দিল্লি, এক হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বাড়ি থেকে হাসপাতালে পৌঁছে যাচ্ছে মায়ের বুকের দুধ। বিনামূল্যে। এয়ারপোর্ট, যাত্রী থেকে সকলেই সাহায্য করছেন যাতে ছোট্ট প্রাণ শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে বাঁচতে পারে।

৩৩ বছরের জিকমত ওয়াংড়ুসের একমাত্র সন্তান জন্মের পর থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত। সেই কারণে লেহ–তে জন্ম নেওয়ার পরেই তাঁকে চিকিৎসকরা চণ্ডীগড় বা দিল্লির কোনও বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। জুন মাসের ১৮ তারিখে সেই সদ্যোজাত সন্তানকে দিল্লি নিয়ে আসা হয়। এদিকে বাবা জিকতম ছিলেন কর্নাটকে, তাঁর কর্মক্ষেত্রে। তিনিও চলে আসেন। কিন্তু সন্তানকে একবারও ছুঁতে পারেননি তিনি, কারণ কর্ণাটকে করোনার তীব্র আতঙ্ক রয়েছে। মাত্র চারদিন বয়সে সেই ছোট্ট শিশুর অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার সফল হয়। কিন্তু সেই ছোট্ট শিশুটির তো মায়ের বুকের দুধ প্রয়োজন!‌ কী হবে সেক্ষেত্রে?

পরিবারের থেকেই বিমান পরিবহনের সঙ্গে কথা বলা হয়। মাকে এতদূর নিয়ে আসা করোনা আতঙ্কের মধ্যে অসম্ভব বলে ঠিক করা হয়, মাতৃদুগ্ধ নিয়ে আসা হবে। এগিয়ে আসেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বিমানকর্মী সকলেই। তাঁরা রোজ লেহ বিমানবন্দর থেকে একটি কৌটয় করে নিয়ে আসেন সেটি ওই ছোট্ট শিশুটির জন্য। এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে সেই দুধের জন্য অপেক্ষা করেন শিশুটির পরিবারের বাকি সদস্যরা। তাঁরা বিমানবন্দর থেকে সেই দুধ সংগ্রহ করে নিয়ে যান হাসপাতালে। তারপর সেটি তুলে দেওয়া হয় শিশুটির মুখে। আপাতত হাসপাতালের NICU বিভাগে ভর্তি রয়েছে শিশুটি।

সবচেয়ে বড় কথা, এই সংকটে মানবিক হয়েছে বিমান পরিবহণ সংস্থা থেকে শুরু করে সকলেই। তাঁরা বিনামূল্যে রোজ লেহ থেকে দিল্লি, এই একহাজার কিলোমিটার রাস্তা নিয়ে আসছেন দুধ। যাতে শিশুটি খেয়ে সুস্থ থাকতে পারে। ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সবার প্রার্থনায় ও চিকিৎসকের সাহায্যে শিশুটি এখন ভাল আছে। রোজ মায়ের বুকের দুধ পৌঁছে যাচ্ছে তার কাছে।

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: July 22, 2020, 3:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर