corona virus btn
corona virus btn
Loading

আমফানে বই-খাতা, ঘরবাড়ির সঙ্গে ভেসে গিয়েছে স্বপ্নও, সন্দেশখালির এই মেধাবী ছাত্রীর পড়াশুনাই এখন অনিশ্চিত

আমফানে বই-খাতা, ঘরবাড়ির সঙ্গে ভেসে গিয়েছে স্বপ্নও, সন্দেশখালির এই মেধাবী ছাত্রীর পড়াশুনাই এখন অনিশ্চিত

গ্রামের একমাত্র মেয়ে যে মাধ্যমিক দিয়েছে এ বছর। প্রত্যেকদিন নৌকা করে কয়েক কিলোমিটার গিয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছে এই মাধ্যমিক পড়ুয়া ৷

  • Share this:

#সন্দেশখালি: ওর বই নেই খাতা নেই। পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু বইপত্র তো সব  নদীতে ভেসে গেছে। তার থেকেও বড় প্রশ্ন কোথায় সে পড়াশোনা করবে? কারণ বুধবারের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফান তার ঘরবাড়িটাও কেড়ে নিয়েছে। আমফানের তাণ্ডবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সন্দেশখালি। আর সেই সন্দেশখালির নদীর ধারের একটি ছোট্ট গ্রাম যার নাম বড়কুঠি, সেই গ্রামে থাকেন তবে মাধ্যমিক দিয়েছে সুজাতা দাম।

News18 বাংলা আরফানের তাণ্ডবের পর কেমন আছে সন্দেশখালি তা দেখতে পৌঁছে গিয়েছিল। বোট ধরে যেতে যেতেই এই গ্রামের দেখা মিলল। বোট থেকে সেই গ্রামে নামতেই এমনই ছবি উঠে এলো। দেখলে আপনারও  সারা শরীরে শিহরণ দেবে। বুধবারের এই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের পুরো গ্রামটাই ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। নদীর জলের উচ্ছ্বাস এতটাই ছিল সব তুলে নিয়ে চলে গেছে। এই গ্রামেরই এই মেধাবী ছাত্রী তাই তার বই-খাতাটুকুও বাঁচাতে পারিনি। এবার মাধ্যমিক দিলেও বাবা-মা কি আদৌও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে সেই আশঙ্কাতেই নদীর ধারে এখন রাত কাটাচ্ছে সন্দেশখালির সুজাতা।

নৌকা ধরে যেতে যেতে সন্দেশখালির যে গ্রামে চোখ যায় সেই গ্রামে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। News18 বাংলা  পৌঁছে গিয়েছিল আমফানের তাণ্ডবের পর সন্দেশখালির বিভিন্ন গ্রামে। দেখার চেষ্টা হয়েছিল এই তাণ্ডবের পর কেমন আছেন সেখানকার মানুষ। নদীর ধার বরাবর এই বড়কুঠি গ্রাম। আয়লার সময়ও এই গ্রামে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল।তা থেকে ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করেছিল এই গ্রাম। আয়লার তাণ্ডবের পর সরকারের উদ্যোগে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য গ্রামের  মধ্যেই একটি একটি আশ্রয় শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ঝড় আসার কয়েক ঘন্টা আগে শুধুমাত্র প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি, বইপত্র ছেড়ে সুজাতা ও তার পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল ওই আশ্রয় শিবিরে। সময় পাননি নিজের বইপত্রটুকুও নিয়ে যেতে। বুধবার সারারাত তার নিজের বাড়িতে ফিরতেও পারেনি। বৃহস্পতিবার সকাল বেলায় ঝড়ের হাওয়ার গতিবেগ কমলে বাড়ি এসে একরাশ কান্না। নদীর জলোচ্ছ্বাস তাদের টিনের বাড়ি নিয়ে চলে গেলেও অতটা আক্ষেপ ছিল না সুজাতার যতটা আক্ষেপ হল তার বই পত্রগুলো নদীর জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ায়।

গ্রামের একমাত্র মেয়ে যে মাধ্যমিক দিয়েছে এ বছর। শহর বা শহর সংলগ্ন বাসিন্দারা টের পাবেন না বুঝতেও পারবেন না এই সুজাতার সাহসিকতার পরিচয়। কেননা প্রত্যেকদিন নৌকা করে কয়েক কিলোমিটার গিয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছে এই মাধ্যমিক পড়ুয়া সুজাতা। মাধ্যমিকের টেস্ট ভাল নম্বর পেয়েছে। বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চায়। শিক্ষিকা হওয়ার কারণটা গ্রামের আর পাঁচটা মেয়েকে শিক্ষিত করে তোলা। কিন্তু তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে নাকি তা জানেনা সন্দেশখালির সুজাতা। কারণটা অবশ্যই আমফান।

আমরা অর্থাৎ News18 বাংলা যখন সুজাতার কাছে গিয়ে পৌঁছালাম তখন ও আমাদের দেখে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে কথা বলতে বলতে ওর চাপা দুঃখকে আর চেপে রাখতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে বলল " স্যার আমি পড়াশোনাটা করতে চাই। খুব কষ্ট করে মাধ্যমিক দিয়েছি। বাবা-মা আমার পড়াশোনা চালাতে পারবে নাকি জানি না। কিন্তু আপনারা যখন এই গ্রামে এসেছেন একটু প্রশাসনকে বলুন আমাদেরকে যেন একটু সহযোগিতা করে।" শুনি তার এই কথার পর ওর মা আমাদের মুখোমুখি হয়ে জানাচ্ছে "আমফানের তাণ্ডবে আমাদের ঘরবাড়ি পশু সব চলে গেছে। কিভাবে বাঁচব আমরা তা জানি না। তাই এখন মেয়ের পড়াশোনার চেয়ে আমাদের বেঁচে থাকাটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।"

সন্দেশখালির এই গ্রাম এখনও জলের তলায়। অর্ধেকের বেশি কৃষিজমিতে ঢুকে গেছে নোনা জল। চাষবাস তো দূরের কথা জমিগুলি থেকে নোনাজল কবে নামবে তা নিয়েই চিন্তিত এখানকার গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই সুজাতার প্রসঙ্গ উঠে এল। তার প্রসঙ্গ উঠতেই বছর চল্লিশের কৃষক বলেন " ও গ্রামের মধ্যে খুব ভাল পড়াশোনা করে। আমাদেরই এখন বাঁচার রসদ নেই। আমরা ওকে কী সহযোগিতা করব। ওকে এখন শুধুমাত্র প্রশাসন সহযোগিতা করে ওর পড়াশোনাটা যদি চালিয়ে যায় তাহলে পুরো গ্রামের উপকার হয়।" এ তো তুলে ধরলাম সন্দেশখালি এক সুজাতার কাহিনী। News18 বাংলা সন্দেশখালি পৌঁছে কী দেখল তা আরও বিশদে তুলে ধরবো।

সন্দেশখালি থেকে সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: May 25, 2020, 4:47 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर