Covid Horror: কাজ খুইয়ে খালি পেটে শিশুসন্তান নিয়ে ৫ দিন হাঁটা দম্পতির, শেষ পরিণতি যা হল...

দুর্দিনের সহায়

Covid Horror: পরিস্থিতির দ্বারা বিপর্যয়ের শিকার হয়ে এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে পথে নেমে এলেন দম্পতি।

  • Share this:

#ভেলোর: কোভিড ১৯-এর প্রথম ঢেউ দেখিয়েছিল চোখে আঙুল দিয়ে- গণপরিবহন না থাকায় কী ভাবে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা! পায়ে হাঁটার সেই ছবি এবার দেখা দিল কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় ঝাপটাতেও। তবে এবার আর বিষয়টি শুধু সমাজের নিম্নবিত্তদের মধ্যে সীমিত থাকেনি, উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যেও। যেখানে পরিস্থিতির দ্বারা বিপর্যয়ের শিকার হয়ে এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে পথে নেমে এলেন দম্পতি।

জানা গিয়েছে যে এই দম্পতির নাম নবীন এবং রম্যা। নবীন কোয়েম্বাতোরের মাদুকারাই অঞ্চলে এক অফিসে চাকরি করতেন। কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় ধাক্কায় তাঁর চাকরি চলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও নবীন কোয়েম্বাতোরে কোনও কাজ জোগাড় করে উঠতে পারেননি। এদিকে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে সঞ্চিত অর্থও। ফলে, আর উপায় না দেখে নবীন এবং রম্যা চেন্নাইয়ের পারিবারিক বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নবীন জানিয়েছেন যে করোনার প্রথম ধাক্কা, দেশের প্রথম লকডাউন, এই সব কিছুর সঙ্গে লড়তে লড়তেই ফুরিয়ে আসছিল তাঁদের পরিবারের সঞ্চিত অর্থ। অবশেষে চূড়ান্ত ধাক্কা হিসাবে সম্প্রতি চাকরি চলে যায় তাঁর। এমন একটা অবস্থায় কোয়েম্বাতোরের বাসাবাড়ির ভাড়া জোগাড় করাটাও ছিল তাঁদের কাছে সমস্যা। বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। তাছাড়া, চেন্নাইয়ে বাবার চিকিৎসার জন্যও ৩০ হাজার টাকা অবিলম্বে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সব মিলিয়ে দম্পতি চেন্নাই যাওয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেন।

আর এখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের পথে হাঁটা! আন্তঃরাজ্য পরিবহন বন্ধ, সুতরাং হাঁটা ছাড়া আর উপায় নেই! নিজেদের যা কিছু জরুরি জিনিস, তাই নিয়ে শিশুসন্তানের সঙ্গে পথে নামেন নবীন আর রম্যা। টানা ৫ দিন হেঁটে ভেলোর পর্যন্ত এসে তাঁরা আর সামর্থ্য ধরে রাখতে পারেননি, আশ্রয় নিয়েছিলেন পথে। আর এখানেই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় ভেলোর-নিবাসী রবিশঙ্করের।

জানা গিয়েছে যে রবিশঙ্কর অনেক দিন ধরেই বৃদ্ধদের খাদ্যদান, সম্বলহীনদের অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর জোগানের মতো সামাজিক উপকারে ব্যাপৃত রেখেছিলেন নিজেকে। সেই সঙ্গে নিজের গাড়িটিকে তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন আপৎকালীন পরিষেবার জন্য। সব জানতে পেরে তিনি এই দম্পতির হাতে ১০০০ টাকা তুলে দেন, নিজের গাড়িতে তাঁদের চেন্নাই পৌঁছনোর ব্যবস্থাও করেন। নবীন জানিয়েছেন যে চেন্নাইয়ের এক হলো ব্লক কারখানায় কাজ পেয়েছেন তিনি, সেখানে একেবারে উপার্জনহীন দশায় দিন কাটবে না তাঁর!

First published: