বিশ্বজুড়ে কোথায় দাঁড়িয়ে করোনা ভ্যাকসিন? কোনটির ট্রায়াল চলছে, কোনটি পেল অনুমোদন?

বিশ্বজুড়ে কোথায় দাঁড়িয়ে করোনা ভ্যাকসিন? কোনটির ট্রায়াল চলছে, কোনটি পেল অনুমোদন?
সব মিলিয়ে, বর্তমানে বিশ্বের করোনা ভ্যাকসিনগুলি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে? কটি ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

সব মিলিয়ে, বর্তমানে বিশ্বের করোনা ভ্যাকসিনগুলি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে? কটি ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের অভিশপ্ত সময় পেরিয়ে, নতুন বছরে আশার আলো দেখছে মানুষ। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে। নানা দেশে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালও চলছে। ভ্যাকসিনের ভরসায় মারণ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে লড়ছে পুরো পৃথিবী। ইতিমধ্যে দেশেও শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনেশন। কিন্তু পুরো বিশ্বে কী পরিস্থিতি? কোথায় দাঁড়িয়ে করোনা ভ্যাকসিনের গতিবিধি?

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক ভ্যাকসিন ট্রায়ালের স্টেজ সম্পর্কে। এক্ষেত্রে সব মিলিয়ে মোট চারটি পর্যায়ে ট্রায়াল চলে ভ্যাকসিনের। এগুলি হল-

প্রি-ক্লিনিক্যাল স্টেজ (Pre-Clinical Stage)


ইমিউন রেসপন্সের জন্য প্রথমে পশু-পাখিদের গায়ে প্রয়োগ করা হয় ভ্যাকসিন।

ফেজ ১- ক্লিনিক্যাল টেস্টিং

আরও ভালো করে ইমিউন রেসপন্স খতিয়ে দেখার জন্য অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু করা হয়।

ফেজ ২

এক্ষেত্রে আরও বড় সংখ্যক অর্থাৎ ১০০ কিংবা ৫০০ জনের মধ্যে ভ্যাকসিনটিকে প্রয়োগ করা হয়। ডোজগুলি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

ফেজ ৩

হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রভাব, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া-সহ একাধিক বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয়।

সব মিলিয়ে, বর্তমানে বিশ্বের করোনা ভ্যাকসিনগুলি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে? কটি ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

ফাইজার-বায়োটেক ভ্যাকসিন (Pfizer-BioNtech vaccine)

আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডায় এই ভ্যাকসিন ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সর্বপ্রথম অনুমোদন পায় ভ্যাকসিনটি। সংস্থার দাবি, ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্মক্ষম এই ভ্যাকসিন।

মডার্না ভ্যাকসিন ( Moderna vaccine)

করোনা ভাইরাসের জেনেটিক কোড ব্যবহার করা হয়েছে এই ভ্যাকসিনে। ফেজ থ্রি ট্রায়াল অনুযায়ী, এই ভ্যাকসিন ৯৪. ১ শতাংশ পর্যন্ত কর্মক্ষম।

কোভিশিল্ড (Covishield-Oxford University-AstraZeneca)

৩ জানুয়ারি ভ্যাকসিন প্রয়োগে অনুমোদন মেলে। দেশ জুড়ে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

কোভ্যাকসিন- ভারত বায়োটেক ( Covaxin-Bharat Biotech)

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে ভ্যাকসিনটি। গত বছরই দেশে এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়। এরপর জরুরিকালীন প্রয়োগের শর্তে ৩ জানুয়ারি অনুমোদন পায় ভ্যাকসিন।

জনসন অ্যান্ড জনসন (Johnson & Johnson)

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর প্রায় ৭১ দিন পর্যন্ত ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। বর্তমানে আমেরিকায় তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে।

নোভাভ্যাক্স (Novavax)

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেনে ফেজ থ্রি ট্রায়াল শুরু হয় নোভাভ্যাক্সের। পাশাপাশি আমেরিকা, মেক্সিকোতেও চলছে ট্রায়াল। আপাাতত অনুমোদনের অপেক্ষায়।

গামালেয়া (Gamaleya)

রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে ভ্যাকসিনটি। এর নাম স্পুটনিক ভি (Sputnik V) বা গাম কোভিড ভ্যাক (Gam-Covid-Vac)। প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি, প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকরী এই ভ্যাকসিন।

সিনোভ্যাক (SinoVac)

চিন-সহ অন্যান্য দেশেও এই ভ্যাকসিনের ফেজ থ্রি ট্রায়াল শুরু হয়েছে। তবে চিনে সীমিত পরিমাণে ব্যবহারের জন্যেই অনুমোদন পেয়েছে সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা। বর্তমানে ব্রাজিল, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়াতেও ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে।

সিনোফার্ম (Sinopharm)

চিনের এই প্রস্তুতকারী সংস্থা দুই ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। দু'টি ভ্যাকসিনেরই ট্রায়াল শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চিনের বিভিন্ন প্রদেশে দেওয়া হবে এই ভ্যাকসিন।

কিওরভ্যাক (CureVac)

ডিসেম্বরের শেষে ভ্যাকসিনের (CVnCoV) ফেজ থ্রি ট্রায়ালের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল CureVac-এর তরফে। প্রাথমিক পর্যায়ে জার্মানির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলে। শোনা যাচ্ছে, প্রথম প্রথম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিতে ব্যবহার করা হবে এই ভ্যাকসিন।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর