COVID-19 vaccine: Covaxin, Covishield, Sputnik V- জেনে নিন কোন ভ্যাকসিন রয়েছে সেরার দৌড়ে এগিয়ে

COVID-19 vaccine:  Covaxin, Covishield, Sputnik V- জেনে নিন কোন ভ্যাকসিন রয়েছে সেরার দৌড়ে এগিয়ে

বিশদে জেনে নেওয়া যাক যে Covaxin, Covishield এবং সদ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা Sputnik V-র মধ্যে কোনটি সেরা হবে!

বিশদে জেনে নেওয়া যাক যে Covaxin, Covishield এবং সদ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা Sputnik V-র মধ্যে কোনটি সেরা হবে!

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: প্রশ্নটা উঠবেই খুব স্বাভাবিক ভাবে! এই মুহূর্তে দেশে কোভিড ১৯-এর সঙ্গে লড়াইয়ে সক্ষম তিনটি ভ্যাকসিনের অস্তিত্ব রয়েছে। অন্য দিকে, শুরু হয়ে গিয়েছে ১৮ বছরের উর্ধ্বে সব ভারতীয়র টিকাকরণ প্রক্রিয়া। তাই বিশদে জেনে নেওয়া যাক যে Covaxin, Covishield এবং সদ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা Sputnik V-র মধ্যে কোনটি সেরা হবে!

    কোন ভ্যাকসিন সব থেকে ভালো?

    নিকটবর্তী ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, চিন্তা না করে সেটাই নিয়ে নেওয়া উচিত। ১৬ জানুয়ারি থেকে Covaxin এবং Covishield আমাদের দেশে চলছে। এর মধ্যে Covaxin সম্পূর্ণ ভাবেই তৈরি হয়েছে দেশে। Covishield ম্যানুফ্যাকচার করেছে সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া, তৈরি করতে সাহায্য করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং AstraGeneca। অন্য দিকে, Sputnik V তৈরি হয়েছে মস্কোর গামালেয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউট অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজিতে রাশিয়ান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের উদ্যোগে। হায়দরাবাদের ড. রেড্ডি'স ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে ভারতের ৬টি সংস্থাও এই ভ্যাকসিন তৈরিতে পয়সা ঢেলেছে। সুতরাং, সবক'টাই পরীক্ষিত এবং নিরাপদ। তবে এটাও ঠিক যে WHO বিশেষ করে Covaxin-কে এগিয়ে রেখেছে।

    ভ্যাকসিনগুলো তৈরি হয়েছে কী ভাবে?

    Covaxin তৈরি হয়েছে সাবেকি মতে। এর মধ্যে ভাইরাসের মৃত কোষ ইনজেক্ট করা হয়েছে। ফলে শরীরে যাওয়ার পরে এটি করোনাভাইরাসের মতো অনেকগুলি কোষ তৈরি করে এবং তখন তা ঠেকানোর জন্য শরীরের ভিতরে অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়।

    Covishield তৈরি হয়েছে শিম্পাঞ্জির শরীরে পাওয়া Adenovirus ChAD0x1 দিয়ে। ফলে এটি শরীরের ভিতরে গেলে করোনাভাইরাসের মতো স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে এবং তখন অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে শরীর।

    Sputnik V-ও Covishield-এর মতো ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন। তফাতের মধ্যে এখানে দুই রকমের ভাইরাসের মিশেল রয়েছে।

    কোন ভ্যাকসিনের ক'টা ডোজ কত দিন অন্তর নিতে হবে?

    এই তিনটেই টু ডোজ ভ্যাকসিন, তিনটেই দু'টো করে ডোজ নিলে তবেই কাজ হবে। এর মধ্যে Covaxin-এর দুই ডোজ নিতে হবে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে। Covishield-এর দুই ডোজ নিতে হবে ৬-৮ সপ্তাহ অন্তর দিয়ে। আর Sputnik V-এর ক্ষেত্রে ৩ সপ্তাহ ব্যবধান রাখতে হবে দুই ডোজের মধ্যে।

    কোন ভ্যাকসিন কত শতাংশ রোগপ্রতিরোধে সক্ষম?

    এই তিন ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে WHO-এর নির্দেশিকা মেনে, অতএব তিনটিই করোনাভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলায় সক্ষম। এর মধ্যে Covaxin ১০০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ করবে এবং মৃত্যুর হার রুখে দেবে। Covishield-এর ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৭০ শতাংশ আর Sputnik V-এর ক্ষেত্রে ৯১.৬ শতাংশ। এদের মধ্যে রোগীর দ্রুত নিরাময়ের ক্ষেত্রেCovishield-এর কার্যকারিতার কথা বিশ্বে আদৃত হয়েছে।

    ভ্যাকসিনগুলোর দাম কত? উপলব্ধতার সম্ভাবনাই বা কতটা?

    জানা গিয়েছে যে এই তিন ভ্যাকসিন-ই খুব তাড়াতাড়ি স্থানীয় বাজারে পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিন জোগানের জন্য রাজ্যগুলোকে আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

    সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া সরকারি হাসপাতালগুলোকে ৩০০ টাকায় এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৬০০ টাকায় একেকটি ভ্যাকসিনের ভায়াল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে যে Sputnik V-এর একেকটি ভায়ালের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০ টাকা, তবে এই দামটাই ভারতের বাজারে মেনে চলা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। আবার Covaxin নিঃসন্দেহেই সব চেয়ে দামি, এর একেকটা ডোজেরই দাম পড়ছে ৬০০ টাকা। এর পর রয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ব্যাপার- ভ্যাকসিন কোন জায়গা থেকে নেওয়া হবে, তার উপরেও দাম ওঠা-নামা করবে।

    করোনার নতুন ধারার বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিনগুলো কতটা উপযোগী?

    WHO সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে করোনার যে কোনও ধারার সঙ্গে মোকাবিলায় Covaxin তুলনাহীন। Covishield এবং Sputnik V নিয়ে এই জাতীয় কোনও রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তবে চিকিৎসকরা যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, সেটাই নিয়ে নিতে বলছেন। সম্মিলিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হলে করোনার সংক্রমণ বন্ধ করা যাবে না।

    কোন ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী রকম?

    Covaxin, Covishield, Sputnik V- এই তিন ভ্যাকসিনেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক রকম, কেন না তিন ভ্যাকসিন-ই পেশিতে ইনজেক্ট করা হচ্ছে। ফলে ওই জায়গায় ব্যথা, সার্বিক ভাবে গায়ে ব্যথা, হালকা জ্বর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

    কাদের কোন ভ্যাকসিন নেওয়া ঠিক হবে না?

    কারও যদি বিশেষ কোনও খাবার বা ওষুধে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তবেই ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। ঠিক তেমনই প্রথম ডোজ নেওয়ার পর কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।

    যাঁদের মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দেওয়া হয়েছে বা প্লাজমা থেরাপি হয়েছে, তাঁদের এখনই ভ্যাকসিন নেওয়ার দরকার নেই।

    যাঁদের শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা কম, যাঁদের স্টেরয়েড ট্রিটমেন্ট চলছে, তাঁদের চিকিৎসকের অধীনে থেকে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

    অন্তঃসত্ত্বা এবং স্তন্যদানকারিণীদের ভ্যাকসিন নিতে বারণ করা হচ্ছে।

    করোনায় আক্রান্ত থাকা কালে ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না।

    এই তিন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কত দিন থাকবে?

    এই তিন ভ্যাকসিন-ই যেহেতু প্রচণ্ড তাড়াহুড়োর মধ্যে তৈরি হয়েছে, ট্রায়ালের সময় মেলেনি, তাই এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন যে একবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অ্যান্টিবডি ৯-১০ মাস কার্যকরী থাকে। তাই সময় মতো ভ্যাকসিনেশনের দু'টি ডোজ অবশ্যই নিয়ে নেওয়া উচিত।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    লেটেস্ট খবর