Home /News /national /
Explained: আগামী জুনেই আসছে কোভিডের চতুর্থ ঢেউ, ভবিষ্যদ্বাণী গবেষকদের!

Explained: আগামী জুনেই আসছে কোভিডের চতুর্থ ঢেউ, ভবিষ্যদ্বাণী গবেষকদের!

coronavirus 4th wave: iit researchers predict 4th wave to hit india in june and last till october

coronavirus 4th wave: iit researchers predict 4th wave to hit india in june and last till october

Explained: কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (IIT-Kanpur) বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাসের আরও একটি ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাস (Coronavirus) অতিমারী রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কোভিডের তিনটি ঢেউয়ের (Wave) ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী থেকেছি। সবচেয়ে সাম্প্রতিক তৃতীয় ঢেউ ওমিক্রন প্রজাতির (Omicron Variant) কারণে হয়েছে। এই প্রজাতি প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa) পাওয়া গিয়েছিল। এখন, যেহেতু সংক্রমণ কমেছে তাই লোকজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। তবে, কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (IIT-Kanpur) বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাসের আরও একটি ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউয়ের সাক্ষী হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবোয়ের মতো কয়েকটি দেশ অতিমারীর চতুর্থ (Fourth Wave Of COVID) এবং উচ্চতর ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে ওমিক্রন শেষ কোভিড প্রজাতি নাও হতে পারে এবং পরবর্তী স্ট্রেন আরও সংক্রামক হতে পারে। তারা বলেছে, পরবর্তী উদ্বেগের প্রজাতি কতটা সংক্রামক হবে, কতটা প্রভাব ফেলবে তা আগে থেকে বলা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা কী বলেছেন?

IIT কানপুরের গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষক সবরাপ্রসাদ রাজেশভাই (Sabara Parshad Rajeshbhai), শুভ্র শঙ্কর ধর (Subhra Sankar Dhar) এবং শলভ (Shalabh) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে কোভিডের চতুর্থ ঢেউ (Fourth Covid Wave) চলতি বছরের ২২ জুনে দেশে আঘাত হানতে পারে এবং ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যদ্বাণীগুলি সত্য হলে এই ঢেউটি ৪ মাস স্থায়ী হবে, ১৫-৩১ অগাস্টের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। ভবিষ্যদ্বাণীটি এটা বলে যে ভারতে চতুর্থ ঢেউ ডেল্টা প্রজাতির হদিশ মেলার ৯৩৬ দিন পরে আসতে পারে। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ভারতে ডেল্টা প্রজাতির (Delta) প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। ভবিষ্যদ্বাণী করতে গবেষকরা পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, "এই পদ্ধতিটি অন্যান্য দেশেও চতুর্থ এবং অন্যান্য ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।" এই একই গবেষণা দল পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ভারতে অতিমারীর তৃতীয় তরঙ্গ ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শিখরে উঠবে।

আরও পড়ুন - BCCI-তে ‘দাদাগিরি’ দেখাতে নিয়মকে নাকি বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, কাণ্ডটা কী

চতুর্থ ঢেউ কেমন হবে?

গবেষকরা জানিয়েছেন যে আসন্ন কোভিড ঢেউয়ের তীব্রতা নতুন রূপের আবির্ভাব, তার সংক্রমতা, টিকাকরণ (Vaccinations), বুস্টার ডোজ (Booster Dose)-সহ বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করবে। যাই হোক, গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে সর্বদা একটি ন্যায্য সম্ভাবনা রয়েছে যে করোনাভাইরাসটির একটি সম্ভাব্য নতুন রূপ পুরো বিশ্লেষণের উপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন - Viral: মাঠেই স্ত্রী অনুষ্কাকে জড়িয়ে ধরলেন বিরাট কোহলি, মাঠেই বউয়ের গালে Kiss , ভাইরাল

অতীত থেকে শিক্ষা: যেহেতু রাজ্যগুলি কোভিড-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে এবং লোকেরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে, তাই অতীতের ঘটনাগুলি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিমধ্যে তিনটি ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং বেঁচে আছি। যদিও প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউ সত্যিই অপ্রত্যাশিত ছিল। ওমিক্রনের কারণে তৃতীয় ঢেউ পরিচালনা করা সামান্য বেশি সহজ এবং কম গুরুতর ছিল। যাই হোক, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিরা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকে সবসময়। গবেষকরা বলেছেন, সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, সমস্ত কেভিড উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং আমাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার আছে। মাস্ক (Mask) পরা, হাতের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং ভিড় এড়িয়ে চলা সংক্রমণ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।

আরও পড়ুন -

উপসর্গ: কোভিড একটি শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা, যা শরীরের অন্যান্য অংশেরও ক্ষতির কারণ হিসেবে পরিচিত। করোনাভাইরাস বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে। কয়েকজনকে অসুস্থ করে, অন্যরা উপসর্গহীন থাকে। কোভিড রোগীদের মধ্যে কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ হল-জ্বর, ক্রমাগত কাশি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, গন্ধ এবং স্বাদ না পাওয়া। গুরুতর উপসর্গগুলি হল শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম হওয়া এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা। বেশিরভাগ কোভিড উপসর্গগুলি সাধারণ সর্দি এবং ফ্লু-র উপসর্গগুলির সঙ্গে ওভারল্যাপ করে এবং এটি ভাইরাসের সমস্ত প্রজাতির কারণে সৃষ্ট সংক্রমণে দেখা গিয়েছে।

কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ (Covid Symtoms), যা করোনার অন্য সব প্রজাতিতেই দেখা যায়: ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরে মানবদেহে যে উপসর্গগুলি দেখা যায়, তা নির্ভর করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্যাথোজেনের প্রতি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তার উপর।

ওমিক্রন সংক্রমণে উপসর্গ: ওমিক্রনে সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে যে ধরনের উপসর্গগুলি দেখা দেয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওমিক্রম সংক্রমণে সাধারণ উপসর্গগুলি হল-গলায় আঁচড়, মাথাব্যথা, শরীরে প্রচুর ব্যথা, সর্দি, হাঁচি। অস্বাভাবিক উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে-রাতের দিকে ঘাম হওয়া, বমি, খিদে কমে যাওয়া ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই টেস্ট করার পরামর্শ দেন।

আলফা প্রজাতির সংক্রমণে উপসর্গ: আলফা প্রজাতি হল করোনাভাইরাসের প্রথম প্রজাতি, যা উদ্বেগের প্রজাতির অধীনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। B.1.1.7 ভ্যারিয়েন্ট হিসাবেও এটি পরিচিত। আলফা প্রজাতিতে সংক্রমণের সময় দেখা যাওয়া সাধারণ উপসর্গগুলি হল ঠান্ডা লাগা, খিদে কমে যাওয়া, মাথাব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা।

বিটা প্রজাতির সংক্রমণের উপসর্গ: এই প্রজাতিটি B.1.351 নামেও পরিচিত। বিটা প্রজাতির উপসর্গগুলি অন্যান্য কোভিড প্রজাতির থেকে আলাদা নয়। এই প্রজাতিটি মূল উহান ভাইরাসের চেয়ে বেশি সংক্রমণযোগ্য বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এটি আরও গুরুতর রোগের দিকে নিয়ে যায় বলে মনে করা হয় না।

ডেল্টা প্রজাতির সংক্রমণের উপসর্গ: করোনাভাইরাসের সমস্ত প্রজাতিগুলির মধ্যে মারাত্মক এটি। ডেল্টা প্রজাতি ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী। এই প্রজাতির সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাটি ছিল অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে গন্ধ এবং স্বাদের ক্ষতিও খুব বেশি দেখা গিয়েছিল। ডেল্টা সংক্রমণের কারণে ভারতে গত এপ্রিল-মে মাসে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Coronavirus, COVID-19

পরবর্তী খবর