করোনার থেকেও বেশি ক্ষতিকর আবহাওয়ার পরিবর্তন ! সতর্ক করল রেড ক্রশ

এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে করোনার মতোই সমান তৎপরতার সঙ্গে লড়তে হবে মানুষজনকে। হতে হবে আরও সচেতন

এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে করোনার মতোই সমান তৎপরতার সঙ্গে লড়তে হবে মানুষজনকে। হতে হবে আরও সচেতন

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বছরের শুরু থেকেই মারণ-ভাইরাস করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে। বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলা থাকলেও মানুষ প্রায় একযোগে এই প্যানডেমিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন হোক বা অন্য বিধি নিষেধ- এই মারণ ভাইরাস দূর করতে সকলে বদ্ধপরিকর। কিন্তু এর থেকেও বড় বিপদ নিশ্বাস ফেলছে ঘাড়ের কাছে। তা হল জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তন। এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে করোনার মতোই সমান তৎপরতার সঙ্গে লড়তে হবে মানুষজনকে। হতে হবে আরও সচেতন। এমনই জানাচ্ছে রেড ক্রস।

সম্প্রতি এক নতুন রিপোর্টে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মার্চে করোনাকে প্যানডেমিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই করোনার জন্য একযোগে লড়ছেন। কিন্তু একটু গভীরে ভাবলে দেখা যাবে, ১৯৬০ সাল থেকে প্রায় ১০০-র বেশি বিপর্যয়ের জেরে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের পৃথিবী। ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। আর অধিকাংশ বিপর্যয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তন।

এ নিয়ে সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে IFRC-র সেকেট্রারি জেনেরাল জেগান শ্যাপগেইনের তাই বক্তব্য- করোনা নিঃসন্দেহে গুরুতর চিন্তার বিষয়। করোনার জেরে পরিবার-পরিজন সকলে বিপদের সম্মুখীন। এই মারণ ভাইরাসের কবলে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনও একটি ভয়ঙ্কর বিষয়। পৃথিবী ও মানবজীবনের উপরে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কোভিড ১৯ দূর করার জন্য আগমী কয়েকদিনের মধ্যে হয় তো ভ্যাকসিন চলে আসবে। কিন্তু ধীরে ধীরে বেড়ে চলা প্রকৃতির এই অসুখের জন্য এমন কোনও ভ্যাকসিন নেই, যা প্রয়োগ করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তাঁর কথায়, ক্রমবর্ধমান বিশ্ব উষ্ণায়ণের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে করোনার মতোই তৎপরতার সঙ্গে লড়তে হবে। কারণ ইতিমধ্যেই চরম আবহাওয়া, খরা বা অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়ের সাক্ষী হয়েছেন মানুষজন। অর্থাৎ ধীরে ধীরে জলবায়ু তথা প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক রূপটি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ৩০৮টি প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়। যার ৭৭ শতাংশের জন্য দায়ী আবহাওয়া বা জলবায়ুর পরিবর্তন। এর জেরে ২৪,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০ সাল থেকেই এই বিপর্যয়ের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান। ১৯৯০ সালের মধ্যে যা প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। খরা হোক বা বন্যা, নানা বিপর্যয়ের জেরে বিগত দশকগুলিতে প্রায় ৪,১০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মানুষই গরিব দেশের।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশ উন্নয়নে যে অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে বা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তারও যথাযথ রূপায়ণ হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবিদদের একাংশ।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: