Citizenship Amendment Bill: লোকসভায় পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

Citizenship Amendment Bill: লোকসভায় পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দিনভর বিতর্কের শেষে লোকসভায় পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল৷ সোমবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ধ্বনি ভোটে পাশ হল৷ এ বার বিলটি যাবে রাজ্যসভায়৷ সেখানে পাশ হয়ে গেলেই তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হবে৷ বিলের স্বপক্ষে ভোট পড়ল ৩১১৷ বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮০৷

বিলের কপি ছিঁড়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান All India Majlis-e-Ittehadul Muslimee-এর সাংসদ আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি৷ কংগ্রেসের লোকসভায় দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, 'দেশের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে তৈরি করা হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিলের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বিজেপি৷ ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করছে দেশে৷'

 

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ হতেই এ দিন লোকসভায় শুরু হয়ে যায় তুমুল বাক-বিতণ্ডা৷ অমিত শাহ বিলের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, 'এই বিল সংবিধান বিরোধী নয়৷ এই বিল সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়৷ শরণার্থীদের জন্য সরকার দায়বদ্ধ৷ অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকা রুখতে হবে৷ ১৯৪৭-এর পর অনেকেই ভারতে আসেন৷ মনমোহন সিং পাকিস্তান থেকে আসেন৷ পাকিস্তান থেকে আসেন আদবানিও৷ রেশন কার্ড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না৷ বাংলার সাংসদরা বিল সমর্থন করুন৷'

 

এরপরই বিলের বিরুদ্ধে জোরাল সওয়াল করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলেন, 'আমরা শান্তি, সম্প্রীতে বিশ্বাস করি৷ আপনারা ভারতের হিংসা চান৷ এই বিল সংবিধান বিরোধী৷ বিলটি বিভেদ সৃষ্টি করবে৷ হয় স্বামীজির কথা ঠিক, নয় অমিত শাহের৷ সিএবি-এনআরসির পার্থক্য নেই৷ দুটই ফাঁদ৷ ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব হয় না৷ এনআরসি আতঙ্কে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বাংলায়৷ এই মৃত্যুর দায় কার?'

 

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় একের পর এক বন্‌ধের জেরে কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছে ত্রিপুরা৷ বিলের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে একাধিক রাজনৈতিক দল৷ সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করছে বিজেপি-র শরিকদল ইন্ডিজিনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (IPFT)৷

নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, সেই সব হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের জেরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন৷ ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ১২ মাস টানা ভারতে থাকতে হত৷ একই সঙ্গে গত ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর ভারতবাস জরুরি ছিল। সংশোধনী বিলে দ্বিতীয় নিয়মে পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান থেকে আনা নির্দিষ্ট ৬টি ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১১ বছর সময়কালটিকে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৬ বছরে। বেআইনি অভিবাসীরা ভারতের নাগরিক হতে পারে না। এই আইনের আওতায়, যদি পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া কেউ দেশে প্রবেশ করে থাকেন, বৈধ নথি নিয়ে প্রবেশ করার পর নির্দিষ্ট সময়কালের বেশি এ দেশে বাস করে থাকেন, তা হলে তিনি বিদেশি অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য হবেন।

আরও ভিডিও: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কি? জেনে নিন

First published: 12:06:15 AM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर