চিনের নৌ-সেনাবাহিনীর বেশিরভাগই ভোগেন মানসিক সমস্যায়, বলছে সমীক্ষা!

চিনের নৌ-সেনাবাহিনীর বেশিরভাগই ভোগেন মানসিক সমস্যায়, বলছে সমীক্ষা!
Photo Courtesy-CCTV

নৌসেনা বাহিনীর মধ্য়ে অ্যাংজাইটি, বিভিন্ন ফোবিয়া, সোমাটাইজেশন, প্যারানয়া ইত্যাদি দেখা গিয়েছে।

  • Share this:

#বেজিং: বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে পরিচিত লাল ফৌজ বা চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। একাধিক কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় এই বাহিনীর সদস্যদের। দুর্গম জায়গায়, প্রবল শীতে বা বরফের মাঝে হালকা জামায় প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন তাঁরা। তাঁদের শক্তি বা সামরিক ক্ষমতার কথা অনেকের জানা আছে। কিন্তু কারও হয় তো জানা নেই, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মানসিক অসুস্থতায় ভোগেন। সম্প্রতি চিনের সেনাবাহিনীর উপরে করা নতুন একটি সমীক্ষা বলছে, এই সেনাদের মধ্যে যাঁরা দক্ষিণ চিন-সাগরে যুদ্ধজাহাজে থাকেন, তাঁরা বেশি মানসিক ভাবে অসুস্থ হন এবং এই অসুস্থ নাবিকের সংখ্যাটাও অনেকটা বেশি। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫ জনের মধ্যে ১ জন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

গবেষণাটি চিনের সেকেন্ড মিলিটারি মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও নেভি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির তরফে করা হয়। যা সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল মিলিটারি মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। সমীক্ষাটিতে দেখা যায়, পিপলস লিবারেশন আর্মির অন্যান্য ফোর্সের সেনা জওয়ানদের থেকে যাঁরা যুদ্ধ জাহাজে কাজ করেন, তাঁরা বেশি মানসিক ভাবে অসুস্থ। এবং এর মধ্যে যাঁরা দক্ষিণ চিন-সাগরে পাহারায় থাকেন, তাঁরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সমীক্ষাটি যুদ্ধ জাহাজে কর্মরত ৫৮০ জন PLA-র নৌ-সেনাবাহিনীর পুরুষ সদস্যদের উপরে করা হয়। তাঁদের মধ্যে সকলেই দক্ষিণ চিন-সাগরে কর্মরত। দেখা যায়, এই ৫৮০ জনের মধ্যে ৫১১ জন সমীক্ষাটিতে সব প্রশ্নের মোটামুটি উত্তর দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, PLA-র স্থল সেনা বা অন্যান্য বাহিনীর লোকজনের মধ্যে যতটা না মানসিক সমস্যা রয়েছে, তার থেকে একটু বেশি রয়েছে নৌসেনার মধ্যে। কিন্তু এর মধ্যেই চারটি এলাকার সদস্যদের মধ্যে বেশি মানসিক সমস্যা দেখা গিয়েছে।


PLA-র নৌসেনা বাহিনীর মধ্য়ে অ্যাংজাইটি, বিভিন্ন ফোবিয়া, সোমাটাইজেশন, প্যারানয়া ইত্যাদি দেখা গিয়েছে।

দক্ষিণ চিন সাগরের পরিস্থিতি

বেশ কয়েক বছর ধরে পুরো দক্ষিণ চিন-সাগরের দাবিই চিন করতে শুরু করেছে। অর্থাৎ তাদের দাবি, ১.৩ মিলিয়ন অংশই তাদের। কিন্তু এই দাবি মানতে নারাজ ওয়াশিংটন। যার ফলে সেখানে মাঝে মাঝেই সেনা পাঠায় আমেরিকা। এদিকে, নিজের দখলে রাখতে সেখানে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে চিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দক্ষিণ চিন-সাগরে একদম সকলের থেকে আলাদা হয়ে থাকতে হয় সেনাবাহিনীকে। পাশাপাশি, আক্রমণের টেনশনও মাথায় থাকে। এছাড়াও প্রায় একসঙ্গে তিন থেকে চার মাস এক জায়গায় থাকতে হয়। এসব কারণে মানসিক সমস্যা বাড়তে পারে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই যুদ্ধ জাহাজগুলির পরিবেশ তেমন ভালো হয় না। ঘুমোনোর যে জায়গা তাঁদের দেওয়া হয়, তাও খুব একটা ভালো নয়। ফলে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে।

এছাড়াও আর্টিফিসিয়াল লাইটের তলায় সারাক্ষণ থাকায়ও মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে, এই নাবিকদের মধ্যে যাঁরা কম শিক্ষিত হন তাঁদের থেকে যাঁরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হন, তাঁদের মানসিক সমস্যা বেশি।

চিনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন প্ল্যান

২০১৯-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের এই বাহিনীতে অন্তত পক্ষে ৬০টি যুদ্ধ জাহাজ রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি পরমাণু শক্তি সম্পন্ন। তবে, আমেরিকার কয়েকটি সংস্থা বলছে, এই সংখ্যাটাই বেড়ে যেতে পারে আসছে বছরের মধ্যে। যা ১০ থেকে ১৬-রও বেশি হতে পারে।

এই সমীক্ষা বা গবেষণার দ্বারা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, চিনের PLA-র এই মুহূর্তে তাঁদের যুদ্ধ জাহাজের সেনাবাহিনীর দিকে নজর দিতে হবে এবং তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

Published by:Debalina Datta
First published: