বিয়ের ১৫ বছর পরেও সন্তান হয়নি, ঘটা করে বাছুর দত্তক নিলেন উত্তরপ্রদেশের দম্পতি

বিয়ের ১৫ বছর পরেও সন্তান হয়নি, ঘটা করে বাছুর দত্তক নিলেন উত্তরপ্রদেশের দম্পতি

প্রতীকী চিত্র ।

সন্তান দত্তক নেওয়ার এই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৫০০ অতিথি । গোমতী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে পুজো দেন তাঁরা । ‘মুন্ডন’ রীতি মেনে মাথা ন্যাড়া করেন ।

  • Share this:

    #বরেলি: গরুকে মায়েরই অপর রূপ মানা হয় হিন্দু ধর্মে । গরু’কে কখনও মাতা রূপে, কখনও দেবতা জ্ঞানে পুজো করেন অনেক হিন্দুরাই । কখনও আবার সে ঘরের সদস্য । উপকারী গৃহপালিত পশু হিসাবে তার কদর রয়েছে গৃহস্থের পরিবারে । কিন্তু তা বলে তাঁকে সন্তান হিসাবে দত্তক নেওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি ।

    এমনই আজব ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে । বিয়ের ১৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও নিঃসন্তান ছিলেন বিজয়পাল ও রাজেশ্বরীদেবী । অনেক চেষ্টা করেও সন্তান সুখ পাননি তাঁরা । অবশেষে স্বামী-স্ত্রী ঠিক করেন দত্তক নিয়ে এই শূন্যস্থান পূরণ করবেন । সন্তান দত্তক নেওয়ার এই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৫০০ অতিথি । আশেপাশে গ্রামের থেকেও লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সকলেই এসেছিলেন এই অনুষ্ঠানে ।

    বিজয়পাল ও রাজেশ্বরী তাঁদের ছোট্ট বাছুর সন্তানের নাম দিয়েছেন লাল্টু বাবা । লাল্টু’কে গোমতী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে পুজো দেন তাঁরা । ‘মুন্ডন’ রীতি মেনে মাথা ন্যাড়া করেন । পুরোহিত বাবা-মা ও তাঁদের সন্তানকে আশীর্বাদ দান করেন ।

    বিজয়পালের এক প্রতিবেশী রত্নেশ মিশ্র জানান, ওই দম্পতি খুবই নিসঙ্গ ছিলেন । এ বার তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে । বেশ কিছু বছর আগে বিজয়ের বাবা-মা গত হয়েছেন । দুই বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে । তাঁদের কোনও সন্তানও নেই । তাই একাকীত্বে ভুগতেন তাঁরা ।

    অবশেষে তাঁরা ঠিক করেন লাল্টুকে দত্তক নেবেন । কারণ জন্মের পর থেকেই লাল্টু তাঁদের স্নেহধন্য । লাল্টুর মা’কে ছোট থেকে বড় করেছিলেন বিজয়ের বাবা । লাল্টু যখন ছোট তখন তার মা মারা যায় । এরপর থেকেই ওই বাজুরটি বিজয়পালের নয়ণের মণি । অন্যদিকে, রাজেশ্বরী দেবী বলছেন, গরুকে যদি আমরা মা ভাবতে পারি, তাহলে বাছুরকে কেন নিজের সন্তান ভাবতে পারব না?

    Published by:Simli Raha
    First published:

    লেটেস্ট খবর