কেন্দ্রের পশু কেনাবেচা বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা !

কেন্দ্রের পশু কেনাবেচা বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা !

ক্ষতির বহর কোথায় দাঁড়াবে, তাই ভেবে পাচ্ছেন না পোড়খাওয়া ব্যবসায়ীরা।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি:  চাষের কাজ ছাড়া পশুবাজারে কেনা যাবে না গরু, মোষ, বলদ, বাছুর এমনকি উটও। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই কার্যকর হবে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত। কেনার সময় দিতে হবে মুচলেকাও। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কমপক্ষে ৮০ হাজার কোটির ব্যবসা হারানোর আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। বড়সড় ধাক্কা খাবে মাংস রফতানিও। চাকরি হারাতে পারেন ৫০ হাজার মানুষ। পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার জন্য কেন্দ্রকে আবেদন জানাচ্ছে সর্বভারতীয় মাংস রফতানি ও পশু ব্যবসায়ীদের সংগঠন।

পশু কেনাবেচা বন্ধের সিদ্ধান্ত

বন্ধ হতে পারে শতাধিক পশুবাজার

৫০ হাজার চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কা

চামড়া ও মাংস রফতানিতেও বিপুল ক্ষতি

চাষ ছাড়া অন্য কোনও কাজের জন্য কেনাবেচা করা যাবে না গরু, মোষ, বলদ, বাছুর, উট। ৩ মাসের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ কেন্দ্রের। তাতেই মাথায় হাত মাংস, চামড়া ব্যবসায়ীদের। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার ট্যানারিও অনিশ্চয়তার মুখে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ধাক্কায় বসে যেতে চলেছে লক্ষ কোটি টাকার শিল্প। কিভাবে? হিসাব করে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা ৷

দেশে ৮৪৫ টি স্বীকৃত পশুবাজার ৷ গত বছর দেশে এখান থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার কাঁচামাল নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা ৷ গবাদি পশুর মাংস, চামড়া-সহ বিভিন্ন ব্যবসার কাঁচামালের ৯০ শতাংশ আসে পশুবাজার থেকে ৷প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় ৷পশু কেনাবেচা নিষিদ্ধ হলে বিপুলভাবে মার খাবে ব্যবসা ৷ এর ফলে চিন্তায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, রফতানিতে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও। মোষ ও গরুর মাংস রফতানি করে বড় অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা আয় করে ভারত ৷

গত অর্থবর্ষে ৪০০ কোটি ডলারের মাংস রফতানি হয়েছিল এদেশে ৷ ১৩৪৫টি অনুমোদিত রফতানি সংস্থার মাধ্যমে ৫৯২ কোটির মাংস রফতানি হয় ৷ পাশাপাশি মোট চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয় ৪২ হাজার কোটি টাকার ৷

অ্যাসোসিয়েশন অফ মিট সাপ্লায়ার্স ফেডারেশন, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ লেদার এক্সপোর্ট কমিটি কিংবা ইন্ডিয়ান লেদার গুডস এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মতো সংগঠন এখনই সিঁদুরে মেঘ দেখছে।

৯০ শতাংশ কেনাবেচাই পশুবাজার থেকে হয়। কেন্দ্রের নিয়ম মানতে হলে চামড়া ও মাংস ব্যবসাটাই উঠে যাবে। তাই এই নিয়ম মানা সম্ভব নয়। বিষয়টি পুর্নবিবেচনার আবেদন জানাবে কাউন্সিল।

আশঙ্কা, নতুন নিয়মে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চাকরি হারাবেন ২৫ লক্ষ মানুষ। রোজগার যাবে আরও ৫০ লক্ষ কর্মীর। এরাজ্যেও অবস্থাটা আরও খারাপ। চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসার অর্ধেকই হয় পশ্চিমবঙ্গে। রফতানিতে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাজ্য। রাজ্যেই বেকার হতে হবে লক্ষাধিক মানুষ। টান পড়বে খাদ্যেও। ক্ষতির বহর কোথায় দাঁড়াবে, তাই ভেবে পাচ্ছেন না পোড়খাওয়া ব্যবসায়ীরা।

First published: 08:56:56 PM May 27, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर