মর্গে পচছে বাবা, মৃত্যুর ৬ দিন বাদে ছেলেকে বাবার মৃত্যুসংবাদ দিল হাসপাতাল

মর্গে পচছে বাবা, মৃত্যুর ৬ দিন বাদে ছেলেকে বাবার মৃত্যুসংবাদ দিল হাসপাতাল

Representative image

ছেলের অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর ১৪৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসংবাদ আসে

  • Share this:

    #আহমেদাবাদ: পোরবন্দরের বাসিন্দা নীরজ বারিদুন তাঁর ৫৪ বছর বয়সী বাবাকে ৪ মে আহমেদাবাদের গুজরাট ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (GCRI)-এ নিয়ে এসেছিলেন কেমোথেরাপির জন্য। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বলা হয় প্রথমে রোগীকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি করতে। কিন্তু লালারসের নমুনা পরীক্ষার পর ব্যক্তির রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। নীরজের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন ৭ মে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়, কিন্তু হাসপাতালের তরফে তাঁকে কিছুই জানানো হয় নি, অথচ তিনি রোজই হাসপাতালে এসেছেন।

    ৩১ বছরের নীরজের দাবি, আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের অসহিষ্ণুতা ও অক্ষমতা এতটাই চরম যে, ৭ মে তাঁর বাবার মৃত্যু হলেও সেই মৃত্যু সংবাদ তাঁকে জানানো পর্যন্ত হয়নি। তিনি যতক্ষণে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন, পেরিয়ে গিয়েছে ১৪৪ ঘন্টা। এতদিন সিভিল হাসপাতালের ক্যাম্পাসে কোভিড-১৯ স্পেশ্যাল হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল মৃতদেহ।

    নীরজ জানিয়েছেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে শেষবার দেখা হয় ৪ মে, যেদিন তাঁকে GCRI-তে নিয়ে এসেছিলাম কেমোথেরাপির জন্য। যেহুতু আমরা পোরবন্দর থেকে এসেছিলাম, আমাদের বলা হয়েছিল কেমোথেরাপি শুরু করার আগে বাবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে। সেইমত, ৪ মে-ই কোভিড-১৯ হাসপাতালে বাবাকে ভর্তি করি।'

    নীরজের অভিযোগ, ' যেহুতু রোগী ছাড়া অন্য কারও হাসপাতালের ভিতর প্রবেশ নিষেধ, তাই ৫ মে হেল্প ডেস্ক-এ বাবার খোঁজ নিই। আমায় বলা হয়, বাবা বেড-এ নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে হাসপাতালে গিয়েছি, কিন্তু হেল্প ডেস্ক থেকে কোনও খবরই মেলেনি।' নীরজ আরও জানান, বাবার কোনওরকম খোঁজ না পেয়ে তিনি রাজনৈতিক সখ্যতা খাটিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর, ১৩ মে তাঁর কাছে হাসপাতালের তরফ থেকে ফোন যায়, একটি মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য। নীরজ জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন,  মর্গে থাকা দেহটি আর কারও নয়, তাঁর বাবারই!

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    লেটেস্ট খবর