
#কলকাতা: দক্ষিণ দিনাজপুর তপন থেকে উত্তর ২৪ পরগনার দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটার কাছাকাছি। আর এই ৪০০ কিলোমিটার পেরিয়ে ফাইল পৌঁছতে সময় লাগছে ১৩ বছরেরও বেশি। তাও কলকাতা হাইকোর্টের খোঁচায়। কেন ১৩ বছরে ফাইল নড়েনি? হাইকোর্টের প্রশ্নের উত্তরে আমতা-আমতা অবস্থান রাজ্যের। আর এতেই ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ও ডিস্ট্রিক্ট স্কুল ইন্সপেক্টরের বেতন বন্ধের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এক বছর, দু' বছর নয়, ১৩ বছরেও একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বদলি সংক্রান্ত ফাইল নড়েনি! প্রাথমিক সংসদের কাজের ধরনে বিস্মিত হাইকোর্ট। নির্দেশনামায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনা শিক্ষা দপ্তরের নোংরা প্রশাসনিক কাজের উদাহরণ৷ যেখানে একজন প্রাথমিক শিক্ষক গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অবসরের নেওয়ার পরেও এখনও তাঁর অবসরকালীন প্রাপ্য পাচ্ছেন না। আর তাই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের ( প্রাথমিক) বেতন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দুই আধিকারিককে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, হাইকোর্টে চলা মামলার খরচও ওই আধিকারিকদের বহন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷ রাজ্য সরকার এঁদের জন্য টাকা দিতে পারবে না। নির্দেশে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর নেন প্রাথমিক শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সরকার। মামলাকারীর আইনজীবী গৌরব দাস জানান, "একাধিকবার আবেদন করেও এখনও পর্যন্ত অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ পাননি ধ্রুবজ্যোতিবাবু। এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই এই দুই আধিকারিকের বেতন বন্ধের নির্দেশ।"
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ(DPSC) চেয়ারম্যান ও ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টরের হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া বেতন পাবেন না। ২০০৮ সালে দক্ষিণ দিনাজপুর তপন থেকে উত্তর ২৪ পরগণায় বদলি হন প্রাথমিক শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সরকার। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর গ্রহণের পরেও অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা পাননি তিনি। হাইকোর্টে মামলা করতেই জানা যায়, ১৩ বছরের পরও প্রাথমিক শিক্ষকের ফাইল আসেনি উত্তর ২৪পরগণা জেলায়। এই তথ্য জেনেই বেতন বন্ধের নির্দেশ দেয় ক্ষুব্ধ আদালত। দুই আধিকারিককে হলফনামা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এমন কড়া মনোভাবে ফাইলে ফিতের ফাঁস আলগা হবে বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।