ভোটারদের ঔদাসীন্য: শহর বনাম গ্রাম

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 18, 2019 04:54 PM IST
ভোটারদের ঔদাসীন্য: শহর বনাম গ্রাম
File Photo
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 18, 2019 04:54 PM IST

2019 সালের সাধারণ নির্বাচনের ষষ্ঠ দফার সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত হওয়া দেখা গেল 12ই মে তারিখে। এই ছয়টি পর্যায়ে দেখা গেছে যে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোটদানের হার তুলনামুলকভাবে বেশী।

এই প্রবণতা বিষয়ে অন্তর্তদন্ত ও বিশ্লেষন করবার জন্য News 18 India–র ডেপুটি ম্যানেজিং এডিটর, কিশোর আজওয়ানি মিডিয়া জগতের শক্তিশালী ব্যক্তিবর্গ নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করেছেন।

CNN News18-র এডিটর ভূপেন্দ্র চৌবে এবং এর সিনিয়র এডিটর পল্লভী ঘোষ সহ News18 India –এর পলিটিক্যাল এডিটর অমিতাভ সিনহা এবং First Post–এর এডিটর বিভি রাও – সকলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উত্সাহী হন এবং সকলেই এই বিষয়টির উপযুক্ত সমাধান অনুসন্ধানে উদ্যোগী হন।

তাঁদের প্রগাঢ় আলোচনার মাধ্যমে শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে থাকা এই বিশাল পার্থক্যের জন্য নিম্নলিখিত কারণগুলির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।

মানসিকতা

Loading...

এই তারতম্যের প্রধান কারণ হলো শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে মানসিকতার প্রভেদ। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর এবং হায়দ্রাবাদের মতো শহরগুলি সমৃদ্ধশালী। সমস্ত ধরণের মৌলিক নাগরিক সুবিধাবলি ও পরিকাঠামো এখানে সহজেই উপলব্ধ থাকে। এখানকার অধিবাসীরা কোনো প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করে না যে তাদেরকে আরোও উন্নততর সরকার গঠন করতে হবে।

গ্রামাঞ্চল, গ্রাম ও জেলাগুলিতে সরকারী পরিষেবাগুলির উপর নির্ভরতা অনেক বেশী। সেইকারণে তারা সর্বদা অনুভব করে যে আরো বেশী পরিষেবা তাদের প্রয়োজন আর সেইকারণেই তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকেই ভোট দান করে থাকে।

বেসরকারী উদ্যোগগুলি সমস্তকিছু নিয়ন্ত্রন করে

প্রধান প্রধান মহানগরগুলিতে যেমন মুম্বাই ও ব্যাঙ্গালোরে, বেসরকারী কোম্পানীগুলি যেমন রিলায়েন্স বা টাটা, এরাই বিদ্যুত সরবরাহের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধাদান ও তার উন্নতির দায়িত্বে থাকে। এরফলে শহরবাসীর কাছে সরকারের গুরুত্ব ক্রমশ কমছে। এই ঔদাসীন্য নির্বাচনের সময়ে আরো প্রকট হয় যখন দেখা যায় যে শহরবাসীর ভোট দিতে খুব একটা পছন্দ করে না।

শিক্ষা বিভ্রান্তি নিয়ে আসে

ভারতবর্ষের শহরগুলিতে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশী। এতদসত্ত্বেও শহরাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে ভোটদানের হার অনেক কম। মিডিয়া ও অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে অসংখ্য তথ্যাবলি শহরাঞ্চলের শিক্ষিত ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করে তোলে। এরা রাজনৈতিক দল ও তার প্রার্থীদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং অপছন্দের প্রার্থীকে নিমরাজি হয়ে আর ভোট দিতে চান না।

অন্য দিকে, ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের মানুষজনের আস্থা ও ভরসা আছে যে তাদের ভোটদান তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নততর করে তুলবে।

(এই ব্যাপকতর অসমতা বিষয়ে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে – কর্ণাটকের গ্রামীণ মান্ড্যে ভোটদানের হার যেখানে 80 শতাংশ সেখানে সমৃদ্ধশালী ও অভিজাত দক্ষিন ব্যাঙ্গালোরে ভোটদানের হার উপরে উল্লেখিত শতাংশের হার থেকে 27 শতাংশ কম।)

ভোটদানের হার কিভাবে বাড়ানো যায় সেবিষয়ে প্যানেলের সুপারিশগুলি

•মিডিয়ার সক্রিয় ব্যবহারের মাধ্যমে, ভোটারদেরকে যুক্তি দ্বারা শিক্ষিত করে তুলতে হবে কেন তাদের ভোট দেওয়া জরুরী। এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গী, নতুন আশা ইত্যাদির মতো সামগ্রিক অনুশীলনের মাধ্যমে তারা একটি নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পাবে।

• জনগন ঠিক কি কারণে ভোটদানে উত্সাহ পায় না সেইকারণগুলি খুঁজে বের করতে হবে। এই বিষয়গুলি হতে পারে অন্য জায়গা থেকে উঠে আসা অথবা ঠিকানা পরিবর্তন, নির্বাচক তালিকায় নাম না থাকা, ভোটার পরিচিতি পত্র না থাকা ইত্যাদি

• এই সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করুনয আমেরিকার মতো দেশগুলিতে, যারা ভোট দেয়নি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের কাছ থেকে অবগত হন যে কি কারণে তারা ভোট দেননি

• পরিযায়ী শ্রমিক, মহিলা, বরিষ্ঠ নাগরিক, অযোগ্য ও প্রথমবার ভোট দিতে চলা ভোটারদের জন্য সমস্ত নিয়মকানুন সহজতর করতে হবে, সহজে যাতে ভোটদান কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে ইত্যাদি। সমগ্র ভোটদান প্রক্রিয়াকে সহজতর করে তুলুন

• বাধ্যতামুলক ভোটদানের আিন চালু করুন এবং প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে তার দেওয়া ভোট কত মূল্যবান সেবিষয়ে ওয়াকীবহাল করুন।

• বিভিন্ন অ্যাপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ডিজিট্যাল ভোটিং প্লাটফর্মের সূচনা করুন।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে 2030 সালে, ভারতীয় জনসংখ্যার 50 শতাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করা শুরু করবে। বর্তমানে শহরাঞ্চলে ভোটারদের মধ্যে ভোটদান বিষয়ে যে ঔদাসীন্য বজায় আছে তা একটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি এবং সমস্ত ধরণের সাধারণ নির্বাচন সহ এই নির্বাচনেও শহরাঞ্চলের ভোটারদের আরো বেশী বেশী করে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করাতে হবে হবে।

বাটন দাবাও, দেশ বানাও হলো Network18-র পক্ষ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগ, যা আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেশের এই সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যেক ভারতীয়কে তার নিজের ভোটদান করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে #ButtonDabaoDeshBanao হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা বিভিন্ন মতামতগুলি পড়তে পারেন।

First published: 04:54:19 PM May 18, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर