সর্বদা আপনি আপনার ভোটদান করাকে অগ্রাধিকার দিন

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 17, 2019 11:22 PM IST
সর্বদা আপনি আপনার ভোটদান করাকে অগ্রাধিকার দিন
File Photo
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 17, 2019 11:22 PM IST

মুম্বাই শহরটি স্বপ্নের শহর নামে পরিচিত এবং এটি ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক রাজধানী এবং সর্বোত্তম শহর। যাইহোক, এই শহরটি আবার এমনভাবেও পরিচিত যেখানে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় ভোটার ভোটদানে উদাসীন থাকে। News18 India-র পক্ষ থেকে আনন্দ নরসিমহন এই কারণটির পিছনে যুক্তিগুলি বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছেন। এই বিষয়ে তিনি সমাজের প্রথিতযশা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করেছেন।

বহুমুখী অভিনেতা রাজা মুরাদ, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সুধাকর সুরাদকর, আইনজীবী আভা সিং এবং একজন নবাগত কৌতুকাভিনেতা সকলে একসাথে এই দুশ্চিন্তামূলক ও জটিল বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছেন। মুম্বাই শহরে ভোটারের সংখ্যা 10 মিলিয়ন। দুঃখের বিষয় হলো 29শে এপ্রিল 2019 তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ভোটের দিন মাত্র 55.1 শতাংশ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

যদিও পরিসংখ্যনবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টি থেকে সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছেন যে 1989 সালের পর থেকে এই হার সর্বোচ্চ এখনও পর্যন্ত, যদিও 2019 সালের 57.7 শতাংশ ভোটদানের হার যথেষ্ট নগন্য।

গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা গেছে যে এই শতাংশ খুব ক্ষুদ্র অংশের ভোটার ভিত্তিক সংখ্যার বিরুদ্ধে। 2011-2012 সালে নির্বাচক তালিকায় সংশোধনের ফলে বহু ভুয়ো ও নকল ভোটারদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কারণে এই শতাংশের হারে এত ক্ষুদ্র অগ্রভাগ দেখা যাচ্ছে।

মুম্বাইতে যে ছয়টি লোকসভা কেন্দ্র আছে তার মধ্যে সমৃদ্ধশালী দক্ষিন মুম্বাই কেন্দ্রটি হলো ভোটদান প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম শতাংশের। কোলাবা ও কাফে প্যারাডে এই লোকসভা কেন্দ্রে মধ্যে পড়ে এবং এই দুটি অঞ্চল হলো মুম্বাই তখা ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী অঞ্চল। বাস্তবিকপক্ষে, দক্ষিন মুম্বাইয়ে সম্পত্তির মূল্য সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Loading...

আনন্দ নরসিমহন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিয়ে গঠিত প্যানেলে বিভিন্ন আলোচনা ও তর্কবিতর্কের মধ্যে দিয়ে মুম্বাই শহরে ভোটদান বিষয়ে এই ঔদাসীন্যের কয়েকটি কারণ সনাক্ত করা গেছে। সেই সমস্যাগুলি সমাধানের বিষয়েও কয়েকটি প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন মুম্বাই শহর তার ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে এত উদাসীন থাকে

এই বিষয়ে কয়েকটি কারণ অনুমান করা গেছে। তার মধ্যে কয়েকটি মতামত হলো:

• যেহেতু মুম্বাই শহরটি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী একটি শহর তাই এই শহরে সাধারণ নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য যেমন বিদ্যুত, জল, ভালো রাস্তাঘাট, যানবাহন ব্যবস্থা ইত্যাদির কোনো ঘাটতি নেই। সেইকারণে এখানকার লোকজন সাধারণভাবে ভোটদান বিষয়ে উত্সাহ অনুভব করে না কারণ তাদের সাধারণ নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যগুলি সর্বদা পূরণ হয়ে যায় এবং কখনই তাদের এই সুবিধাগুলি থেকে বঞঅচিত থাকতে হয় না।

• মুম্বাইবাসী একাকী থাকতে ভালোবাসে এবং বাস্তবে ভারতবর্ষ যে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয় সেগুলি এখানে কোনোভাবেই দেখা যায় না।

• মুম্বাইবাসীর ধারণা হলো যে তারা তাদের নিজেদের সমস্যাগুলি সরকারের কোনো সাহায্য ব্যতিরেকে নিজেরাই সমাধান করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে একধরণের অহংবোধ তাদের মধ্যে বিরাজ করে।

• কিভাবে সরকার গঠিত হবে এবং সেটি কিভাবে কাজ করবে এবিষয়ে তাদের কোনো চিন্তাভাবনা নেই এবং এবিষয়ে তাদের মোহমুক্তি ঘটেছে।

প্রাক-সক্রিয়তামূলক যেসকল পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে

• প্রতিটি নাগরিককে তাদের প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব বিষয়ে শিক্ষিত করা এবং সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে তাদেরকে উত্সাহিত করা

• বাধ্যতামুলকভাবে প্রতিটি নাগরিককে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার বিষয়ে আইন চালু করা যেখানে প্রতিটি যোগ্য নাগরিক যেন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে

• যখন দেখা যায় যে কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ হচ্ছে না সেক্ষেত্রে যে প্রার্থীর মধ্যে বিচ্যুতি কম আছে তাকে বেছে নেওয়া অথবা নোটা (NOTA)-তে ভোট দান করা, যাতে প্রতিদ্বন্দিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই বার্তা পৌঁছায় যে আপনি তাদের মধ্যে কাউকেই যোগ্যতম নেতা হিসাবে পছন্দ করছেন না।

• মহিলা ভোটারদের শিক্ষিত করার জন্য প্রত্যেকটি বাড়িতে প্রচার চালাতে হবে এবং ভোটের দিন তাদেরকে বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

• ভোটের দিন মনোরঞ্জন ও আনন্দ উপভোগ করার স্থানগুলি যেমন থিয়েটার হল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য এই ধরণের স্থানগুলিতে কেবলমাত্র তাদেরই প্রবেশাধিকার থাকবে যারা সেদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

উপসংহার

আপনার ভোট হলো আপনার মৌলিক অধিকার। এটা হলো আপনার মতামত ব্যক্ত করা এবং অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতা। এই অধিকার আপনি কেবলমাত্র 5 বছর অন্তর একবার করে পাবেন। সুতরাং এই সুযোগটি গ্রহণ করুন এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি সুস্থিত সরকার গঠনের জন্য আপনার বোটাধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের জন্য ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বলতর ভবিষ্যত নিয়ে আসুন।

29শে এপ্রিল 2019 তারিখে চতুর্থ দফার ভোটে মুম্বাই শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবারে এই নির্বাচনে ভোটদানের হার মাত্র 55.1 শতাংশ।

বাটন দাবাও, দেশ বানাও হলো Network18-র পক্ষ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগ, যা আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেশের এই সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যেক ভারতীয়কে তার নিজের ভোটদান করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে #ButtonDabaoDeshBanao হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা বিভিন্ন মতামতগুলি পড়তে পারেন।

First published: 08:35:39 PM May 17, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर