বাজেট ২০২১: করোনা পরিস্থিতিতে করের বোঝা সামলাতে আদৌ কি মিলবে ছাড়?

বাজেট ২০২১: করোনা পরিস্থিতিতে করের বোঝা সামলাতে আদৌ কি মিলবে ছাড়?
বাজেট পেশের প্রস্তুতিতে নির্মলা সীতারামন, অনুরাগ ঠাকুররা। ফাইল চিত্র। REUTERS/Altaf Hussain)

২০২০ সালে আবার কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন একটি অপশনাল কর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বছরের শুরুতেই বাজেটের দিকে চোখ রাখেন ব্য়বসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ সকলে। তার অন্যতম কারণ ট্যাক্স বা কর। প্রতিবারের বাজেটেই কর সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে- কখনও নতুন নিয়ম, কখনও করের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া তো কখনও করের পরিমাণ কমে যাওয়া! ২০১৯ সালের বাজেটে প্রি ফিলড ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন বা ITR-এর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এদিকে ২০২০ সালে আবার কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন একটি অপশনাল কর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। যাতে কম শুল্কে কর আদায়ও কম হয়। যদিও এর পিছনে কিছু শর্তও ছিল।

নতুন কর ব্যবস্থা-

কোথায় কর প্রদানকারীরা বিনিয়োগ করতে চায়, সেই বিষয়টি আরও সহজ করে তুলতে এই নতুন কর ব্যবস্থা তাদের জন্য বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করে দেয়। যদিও এই নতুন ব্যবস্থায় কোথাও কর প্রদানকারীকে কিছু ছাড় দেওয়া বা কোনও জায়গায় অব্যহতি দেওয়া কথা বলা হয়নি। তাই যাঁরা করে ছাড় নেওয়ার কথা ভাবেন, বা ছাড় পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই নতুন কর ব্যবস্থাটি খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থাতেই যদি কিছু ছাড়ের সুবিধে করে দেওয়া হয়, তা হলে করোনার জন্য যাঁরা কর নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন, তাঁদের সুবিধে হয়।


এই ক্ষেত্রে কী ভাবে সরকার করে অব্যহতি বা ছাড় দিতে পারে, নতুন কর ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে তা জেনে নেওয়া যাক-

নতুন কর ব্যবস্থা

কর প্রদানকারীদের সুবিধে দিতেই এই নতুন কর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। যদিও যাঁরা এই নতুন ব্যবস্থার সুবিধে নেবেন, তাঁরা একই সঙ্গে পুরনো ব্যবস্থার কোনও সুবিধে নিতে পারবেন না বি়শেষ করে ছাড়ের ক্ষেত্রে।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এই নতুন ব্যবস্থা তেমন কোনও সুবিধে দেবে না কারণ এতে কোনও রকম ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে- কেউ ৫০ হাজার টাকা করে ছাড় পেতেন, কিন্তু এই ব্যবস্থায় তা পাবেন না। পাশাপাশি 80C ধারা অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ায় ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়, 80D ধারা অনুযায়ী, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমায় ছাড় ও 24 (b) ধারা অনুযায়ী, হোম লোনের ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় বা এমন অনেক ছাড় চাকরিজীবীরা পাবেন না।

কিন্তু পুরনো ব্যবস্থায় কোনও বিনিয়োগ ছাড়াই বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়, যেমন- স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বা EPF।

এ বিষয়ে Deloitte India-র অংশীদার আরতি রাওত বলেন, কত জন এই নতুন কর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা সঠিক ভাবে জানা না গেলেও মানুষের উপরে এর প্রভাব খুব একটা ভালো পড়েনি। দেখা গিয়েছে, অনেকেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজি নন। তার কারণ করে ছাড় বা অব্যাহতির বদলে এই ব্যবস্থা কয়েকটি কম ট্যাক্স রেটের সুবিধে দিচ্ছে। অনেকেই তাই এটি গ্রহণ করতে রাজি নন।

এই নতুন ব্যবস্থা থেকে খুব কমসংখ্যক কয়েকজন চাকরিজীবী সুবিধা পেতে পারেন। যাঁদের বেতন পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাাকার ভিতরে, তাঁরা যেহেতু কোনও ছাড় বা অব্যাহতি করে পান না, তাঁরা এই ব্যবস্থার সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।

প্রি-ফিলড ট্যাক্স ফর্মস

বেশ কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কর দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষকে ছার দেওয়া হচ্ছে। এই কাজে এক পদক্ষেপ এগিয়ে ২০১৯-এ প্রি-ফিলড ITR-এর ব্যবস্থা করা হয়। যাতে কোনও ভাবেই ITR-এ কর প্রদান এড়িয়ে না যেতে পারেন কেউ। এই ক্ষেত্রে ট্যাক্স ওয়েবসাইটে এই প্রি-ফিলড ট্যাক্স ফর্মসের একটা অপশন রয়েছে। যাতে নাম, ঠিকানা, PAN নম্বর, আধার কার্ড নম্বর ও বাড়ির সম্পত্তির তথ্য দেওয়া যাবে।

পরিবর্তনের জন্য শেষ বছরের ITR-কে ইমপোর্টও করতে পারেন যে কেউ। রাওত জানান, রিফিল করা বা বার বার তথ্য দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে এই প্রি-ফিলড ট্যাক্স ফর্মের ব্যবস্থা। ITR ভরার সময়ে শুধু তথ্য যাচাই করলেই চলবে।

এই ক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (Securities and Exchange Board of India) ও GST বিভাগ (the goods and services tax department)-এর সঙ্গে কর বিভাগ একটি MoU চুক্তিও সই করেছে।

Written By: Gargi Das

Published by:Arka Deb
First published: