বাজেট ২০২১: বাজেটে ব্যয়ের খাতে অবশ্যই বাড়তে পারে বরাদ্দ, তবে ট্যাপার ট্যানট্রামকে এড়িয়ে গেলে চলবে না!

বাজেট ২০২১: বাজেটে ব্যয়ের খাতে অবশ্যই বাড়তে পারে বরাদ্দ, তবে ট্যাপার ট্যানট্রামকে এড়িয়ে গেলে চলবে না!
২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। সবার নজর সেদিকেই।

২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। সবার নজর সেদিকেই।

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। সবার নজর সেদিকেই। নানা খাতে অর্থবরাদ্দ নিয়েও মতামত জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সূত্রে ধরে অনেকের বক্তব্য, আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে ব্যয়ের খাতে বাড়াতে হবে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ। একইসঙ্গে ফিসকাল ডেফিসিটের কথাটিও মাথায় রাখতে হবে। তবেই সম্ভব হবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর মাঝে ট্যাপার ট্যানট্রামের বিষয়টি এড়িয়ে গেলে চলবে না। কী এই ট্যাপার ট্যানট্রাম? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি ও অর্থের অন্যতম প্রধান স্থান আমেরিকা। তাই সেখানকার অর্থনীতিতে কোনও বড় সিদ্ধান্ত বিশ্বের অধিকাংশ বাজার-সহ অন্য দেশ বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির উপরে প্রভাব ফেলে। গত বছর মার্চে করোনাভাইরাস সৃষ্ট আর্থিক মন্দার পর থেকে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ আগ্রাসী ভাবে মুদ্রানীতি শিথিল করেছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। তবে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ইতিবাচক সঙ্কেত নয়। নিম্ন সুদহার, উচ্চ শেয়ারমূল্যের পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। ঠিক এখানেই অনেকে আবার ট্যাপার ট্যানট্রামের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।

২০১৩ সালে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা ‘ট্যাপার ট্যানট্রাম’ নামে পরিচিত। তখন একটি বিষয় রটে গিয়েছিল। শোনা যায়, ফেডারেল রিজার্ভ হয় তো তাদের বন্ড কেনার ক্ষেত্রে শ্লথগতি আনতে পারে। যা সুদের হারের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্ববাজারে নিম্ন দামে বন্ড বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা ব্রাজিল, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির দিকে আরও বেশি আয়ের প্রত্যাশায় ছুটতে শুরু করেন। মূলধনের এই রকম বহির্গমনে স্থানীয় টাকা-পয়সার মূল্যও তরতর করে নামতে থাকে। এতে বড় ঋণগ্রস্ত দেশগুলির পক্ষে ঋণদাতাদের অর্থ পরিশোধ করা রীতিমতো কঠিন হয়ে গিয়েছিল।


তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এ ধরনের ঘটনা হয় তো আর ঘটবে না। অতীতে যখন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো শুরু করেছিল, সেই সময়ের থেকে এখনকার বাজারগুলির ঋণভার কম। তাই ট্যাপার ট্যানট্রামের মতো ঘটনা ঘটার কথা নয়। কারণ এবার সুদের হার বৃদ্ধির আগে ফেডারেলের তরফে ভালো ভাবেই ইঙ্গিত মিলছে। বিনিয়োগকারীরা পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে সময় পেয়ে যাবেন। তবে সামগ্রিক অস্থির পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। সমস্ত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। মোদি প্রশাসনকে মাথায় রাখতে হবে যে, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের উপরে যেন বেশি বোঝা না বাড়ে। মধ্যবিত্তের কথাও মাথাও রাখতে হবে। কারণ এই শ্রেণীর মানুষজন উচ্চ জ্বালানি কর দেয়। আমদানি-রপ্তানি শুল্কের উপরে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্ট্রেসড অ্যাসেটের সমাধানও একটা বড় বিষয়!

Published by:Piya Banerjee
First published: