Union Budget 2021: চাকরিজীবীদের আয়কর কমাতে জোর দেওয়া হতে পারে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনে

Union Budget 2021: চাকরিজীবীদের আয়কর কমাতে জোর দেওয়া হতে পারে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে এই দেশের অর্থনীতি মূলত গ্রাহকের উপরে নির্ভরশীল। অর্থাৎ গ্রাহক বা ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়বে, দেশের অর্থনীতি তত উন্নত হবে, সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে একটা কথা মাথায় না রাখলেই নয়। দেশের উপার্জনশীল জনসংখ্যার একটা বড় অংশ চাকরিজীবী। তাঁদের উপার্জনের একটা বড় অংশ চলে যায় ইনকাম ট্যাক্সের পিছনে। ফলে দিনের শেষে সাধ থাকলেও ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাকরিজীবী ব্যক্তিবিশেষের সাধ্য। অর্থনীতিবিদদের দাবি- এ হেন জটিল সমস্যার সমাধান একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের উপরে নির্ভর করেই হতে পারে। যদি চাকরিজীবীর স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়, তা হলেই একমাত্র তার ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে!

এই জায়গায় এসে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন কী, সেটাও একটু বলে না নিলেই নয়! খুব সহজ ভাবে বললে এটি একটি নির্দিষ্ট অর্থের অঙ্ক যা চাকরিজীবীর বার্ষিক উপার্জন থেকে আলাদা করে নেওয়া হয়। এর পর এই স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাদ দিয়ে বেতনের যে অংশটুকু পড়ে থাকে, তার উপরে ইনকাম ট্যাক্স ধার্য করা হয়। ফলে, সে দিক থেকে দেখলে ইনকাম ট্যাক্স কমে যায়, মাসের শুরুতে বেশি টাকা ঘরে ঢোকে চাকরিজীবীদের। ২০১৮ সালে সেই সময়ের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি (Arun Jaitley) চাকরিজীবীদের এই স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ ধার্য করে দিয়েছিলেন ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার টাকা।

চাকরিজীবীদের সুবিধার জন্য ২০১৯ সালে এনডিএ সরকার এই স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেন। সেই সময়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) জানিয়েছিলেন যে ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে এই বর্ধিত মেয়াদটাও চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে যথেষ্ট নয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি তুলনা টেনে তাঁরা বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে ব্যবসায়ীরা প্রায় প্রতি মাসেই ট্যাক্স একজেম্পশনের একটা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সীমাবদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলছেন যে ধরে নেওয়া যাক জনৈক ব্যবসায়ী এবং জনৈক চাকরিজীবীর বার্ষিক উপার্জন ৩০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে প্রচলিত ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুসারে চাকরিজীবীকে দিতে হবে ৬.৭ লক্ষ টাকা। অন্য দিকে, ব্যবসায়ীকে দিতে হবে ২.১৮ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ চাকরিজীবী ব্যবসায়ীর তুলনায় ৪.৫৫ লক্ষ টাকা কম ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন। যা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

যদিও অর্থমন্ত্রক এই হিসেব সঠিক বলে মনে করে না। তারা বলে যে ব্যবসায়ীকে একটা অফিস চালাতে হয় এবং সেই দিকে নানারকম কর দিতে হয়। অন্য দিকে, চাকরিজীবীর খরচ হয় শুধুমাত্র যাতায়াতের ভাড়াটুকুই! ফলে, এভাবে অসাম্য বিচার করা যায় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এবারের বাজেট হবে অভূতপূর্ব এবং জনমোহিনী। সুতরাং, আগামী অর্থবর্ষে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ বাড়ার আশায় অপেক্ষা সকলেরই!

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: