বাজেট ২০২১: ভয়ানক ফিসক্যাল পরিস্থিতি, বাজেটের মাধ্যমে কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে, বলছেন বিশেষজ্ঞ!

বাজেট ২০২১: ভয়ানক ফিসক্যাল পরিস্থিতি, বাজেটের মাধ্যমে কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে, বলছেন বিশেষজ্ঞ!
photo source collected

আসন্ন বাজেটে একাধিক চমক থাকবে। অন্যরকম হবে বাজেট। বলেন, পোস্ট-প্যানডেমিক বাজেট এমন হবে যা ১০০ বছরে কখনও দেখা যায়নি।

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: করোনার জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। লিখছেন, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মুখ্য অর্থনীতিবিদ সচ্চিদানন্দ শুক্লা।

প্রতি বছরই বাজেট নিয়ে আশায় বুক বাঁধেন একাধিক ক্ষেত্রের একাধিক মানুষ। ছোট ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষ সকলেরই কিছু প্রত্যাশা থাকে। তবে, এই বছর বাজেট নিয়ে একটু বেশিই মাথাব্যথা সাধারণ মানুষের। তার কারণ অবশ্যই প্যানডেমিক। সঙ্গে কিছু দিন আগেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) জানান, আসন্ন বাজেটে একাধিক চমক থাকবে। অন্যরকম হবে বাজেট। বলেন, পোস্ট-প্যানডেমিক বাজেট এমন হবে যা ১০০ বছরে কখনও দেখা যায়নি।

যদি ২০২০-২১ অর্থবর্ষের দিকে ঘুরে তাকানো যায়, তা হলে দেখা যাবে ২০২০-র বাজেট পেশ করার পরও একাধিক পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। গোটা বছর জুড়ে যে ভাবে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে মানুষ, সরকার, সে ভাবেই পরিবর্তনও হয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থায়। লকডাউনের মাঝেই একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছে সরকার। প্যানডেমিকের কথা মাথায় রেখে, কর-সহ একাধিক বিষয়ে নানা সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে ও শ্রমিক স্বার্থেও। পাশাপাশি ২০২০-তে দেশীয় দ্রব্য ক্রয়, প্রস্তুত ও বিক্রয়ের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে GST ও ডিরেক্ট ট্যাক্সে।


গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে কঠোর ভাবে সীমাবদ্ধ। তাই ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দেশে কী কী অর্থনৈতিক উন্নতির পরিস্থিতি রয়েছে তা জানতে প্রথমে ফিসক্যাল ব্যাকড্রপের দিকে নজর দিতে হবে।

২০২২ অর্থবর্ষে সরকারকে ঋণের পরিমাণ স্বাভাবিক করতে হবে। কারণ ২০২১ অর্থবর্ষের প্রথম ৯ মাসের জন্য ইতিমধ্যেই ৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এই বছর শেষ হতে হতে যা ১০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে। ২০২০ অর্থবর্ষে যে পরিমাণ ঋণ বা ধার নেওয়া হয়েছিল, এটা তার চেয়ে প্রায় ২ গুণ বেশি। তাই যদি ২০২২ অর্থবর্ষেও এত টাকা বা এর চেয়ে বেশি টাকা ঋণ নেয় সরকার, তা হলে কিন্তু তাদের বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।দ্বিতীয়ত, ২০২১ সালে যে পরিমাণ অর্থ ধার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, তার প্রভাব ২০২২ অর্থবর্ষে থাকবে। তার কারণ বেশি পরিমাণ সুদের বিনিময়ে টাকা শোধ করতে হবে। ইন্টারেস্ট পেমেন্ট ও রেভেনিউ রিসিপ্টের রেশিও ২০২০ অর্থবর্ষে ছিল ৩৬.৩ শতাংশ, যা ২০২১ অর্থবর্ষে বেড়ে হতে পারে ৪৫ শতাংশ। এই পরিমাণ ২০২২-এ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে ২০২২ অর্থবর্ষে সুদের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়তে পারে। এছাড়া, বিশ্বাস করা হচ্ছে যে অর্থবর্ষ ২০২১-এ সরকার MGNREGA প্রোগ্রামে বরাদ্দ কমাবে।

তৃতীয়ত, রেভেনিউর দিক থেকে দেখতে গেলে, GDP বৃদ্ধির সঙ্গে বেশিরভাগ ট্যাক্স রিসিপ্ট পুনরুদ্ধার করা হবে ২০২২-এ। এখানে এক্সাইজ ডিউটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ২০২১ অর্থবর্ষে এক্সাইজে বৃদ্ধি হয়েছে। এপ্রিল থেকে নভেম্বরে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে এই অর্থবর্ষের শুরুতেই ১ ট্রিলিয়ন ফিসক্যাল আশা করা যেতে পারে। তবে, ২০২২-এ যদি তেলের দাম বাড়ে তা হলে ডিউটি কমাতে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে এই ফিসক্যাল পরিস্থিতি পরিবর্তন করা হবে? অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনা হতে পারে? অভিপ্রায় এবং অনিশ্চয়তা হল মূল দু'টি বিষয়। পাশাপাশি দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও পাবলিক ক্যাপিটালে ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়ায় অর্থনৈতির বৃদ্ধি পিছনে পড়ে গিয়েছে।

সুতরাং, পাবলিক ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে সরকার কাজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) আর্থিক বছরে ফিসক্যাল দুই বছরের মধ্যে দু'গুন হতে পারে। IMF-এর এক গবেষণা অনুসারে, পাবলিক ইনভেস্টমেন্টে এক শতাংশ GDP বৃদ্ধি, উন্নত অর্থনীতি এবং বাজারগুলিতে ২.৭ শতাংশ পর্যন্ত GDP বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। আর ১০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ হলে ২০ থেকে ৩৩ মিলিয়ন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

কেন্দ্র ৫৩ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখে মোট ব্যয়। যা ফিসক্যালের অর্ধেক হয়। ২০২২ অর্থবর্ষে এক্ষেত্রে নতুন কৌশল নিতে হবে যাতে এই বিষয়টি বজায় থাকে। এবং ফিসক্যাল বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে অর্ধেক ফিসক্যাল দাঁড়াবে ৭৫ শতাংশ।

প্যানডেমিক দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে ফলে এই খাতে কতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার, তা বোঝা গিয়েছে। তাই, পাবলিক হাসপাতালে বিনিয়োগ করার দিকে ঝুঁকতে হবে, দরকারে রাজ্যের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং রাজ্যকে অর্থ প্রদান করতে হবে। NIIF-গুলিতেও বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

Published by:Piya Banerjee
First published: