corona virus btn
corona virus btn
Loading

দেশের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিদিন রেকর্ড পরিমাণে ডেটা ব্যবহার !

দেশের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিদিন রেকর্ড পরিমাণে ডেটা ব্যবহার !
Photo Courtesy: Getty Images

বিএসএনএল এর দেওয়া সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে।

  • Share this:

#কলকাতা:  কথায় বলে লোকে খেতে পেলে শুতে চায়। কিন্তু, যেখানে খেতে পাওয়াটাই স্বপ্ন, সেখানে কি কেউ গাঁটের কড়ি খরচা করে ডেটা চায় ? না কি খেতে পেয়েছে বলেই মানুষ এখন ডেটা চায় ! বিএসএনএল এর দেওয়া সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে।

একসময় মাওবাদীদের ঘাঁটি বলে পরিচিত অঞ্চলগুলিতে এখন প্রতিদিন ৪০০ জিবি ডেটা ব্যবহার হয়। এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে অর্থমন্ত্রকে। যেসব অঞ্চলের মানুষের কাছে এই সেদিনও দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পাওয়াটাই ছিল প্রথম ও প্রধান চাহিদা, সেখানে এই পরিমান মোবাইল ডেটার ব্যবহার চোখ কপালে তুলেছে সরকারি কর্তাদেরও। পশ্চিমবঙ্গ,ওড়িশা,মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের ৯টি রাজ্যের মাওবাদী প্রভাবিত প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মনমোহন সিং-এর ইউপিএ সরকার।২০১৩-য় সিদ্ধান্ত হলেও শেষের একবছরে সে কাজে তেমন এগোতে পারেনি মনমোহন সরকার। ২০১৪-য় ক্ষমতায় এসে সেই কাজ আরও জোরকদমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার।আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ হয়। ২০১৬-র ডিসেম্বরে শেষ হয় সেই কাজ।

বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি আগ্রহী না হওয়ায়, বিএসএনএল একাই মোবাইল টাওয়ার বসানো ও সংযোগের কাজ করে। তারপরের তিনটি ত্রৈমাসিকে বিএসএনএল-এর নেটওয়ার্ক কনসাম্পশন অডিট রিপোর্টে ধরা পড়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাওবাদী সন্ত্রাস কবলিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে কর্মরত বিভিন্ন বাহিনীর জন্য মোবাইল সংযোগ তৈরি করাই ছিল এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধা বাড়িয়ে মাওবাদী মোকাবিলা আরও নিখুঁত করাই ছিল উদ্দেশ্য। অথচ, মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসার মাত্র ন’মাসের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী নয়, একসময়ের মাওবাদী ‘মুক্তাঞ্চল’-এর আম আদমি এখন নেটদুনিয়ায় মুক্তির স্বাদ খুঁজছেন।

ট্রাই ও বিএসএনএল-এর তথ্য পেয়ে অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা এখন মোদি সরকারের সাফল্যের খতিয়ানে এই নতুন পরিসংখ্যান জুড়তে ব্যস্ত। তাদের বক্তব্য , খাওয়া-পড়া ও চিকি‍‍ৎসার ন্যূনতম চাহিদা না মিটলে মোবাইল ডেটায় এই খরচ করতেন না, পিছিয়ে পড়া এই সব অঞ্চলের মানুষ। তবে অন্য মতও আছে। শুধু খাওয়া-পড়ার চাহিদা পূরণ নয়। বৃহত্তর পৃথিবী থেকে, এমনকি নিজের দেশ থেকেও এই সেদিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন মানুষগুলি এখন নেটদুনিয়ায় বিশ্ব দর্শনে ব্যস্ত। হয়তো খাওয়া-পড়ার বাজেটে কিছুটা কাটছাঁট করেই।

অনির্বাণ সিনহা ( লেখার বিষয়বস্তু, মতামত ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব)

First published: November 16, 2017, 9:59 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर